ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

চড়া সবজির বাজারে আলুতে স্বস্তি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২২
  • ২৮০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ‘সাত কেজি একশ টাকা, সাত কেজি একশ টাকা।’ খুলনা মহানগরী এলাকায় প্রায় ২-৩ সপ্তাহ ধরে এভাবে চিৎকার করে আলু বিক্রি করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় খুলনার বাজারগুলো এখন আলুতে সয়লাব। তবে মাথায় হাত উঠেছে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের। ট্রাকের ভাড়া মেটানোও দায় হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।

খুলনার বাজারে বর্তমানে খুচরা দোকানে আলু প্রতি কেজি ১৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা দরে। গত বছর এ সময়ে প্রতিকেজি আলু ২৬ থেকে ২৭ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজারে অন্যসব সবজির সরবরাহও প্রায় আলুর মতো থাকলেও দাম যেনো আকাশ ছোঁয়া। তবে অন্য সবজির তুলনায় এক সময় দামের দিক থেকে শীর্ষে থাকা টমেটোও এখন মিলছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

খুলনায় বিক্রির জন্য নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা থেকে আলু নিয়ে আসা কৃষক শামসুল হক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আলুর চাষ করছেন, কিন্তু কখনও তিনি এমন দর পতন দেখেননি।

এবার তিন বিঘা জমি চাষ করেছেন। কৃষাণ, সার ও বীজসহ প্রতিবিঘায় তার খরচ হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। প্রতিবিঘায় দু’হাজার দু’শ কেজি আলু পেয়েছেন। যা তার আশা মিটিয়েছে। তবে দরপতনের কারণে এখন বিঘাপ্রতি তার ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

নগরীর স্টেশন রোড কদমতলা কাঁচা বাজারের মেসার্স হাজী জাবেদ আলী মোড়ল বাণিজ্য ভান্ডারে গিয়ে দেখা যায় নীলফামারী জেলার কয়েকজন কৃষক হতাশ হয়ে বসে আছেন। কৃষক আশরাফ আলী ঋণ নিয়ে ১০ বিঘা জামিতে আলু চাষ করেছিলেন। মহাজনের এ টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত। গত ৪০ বছর ধরে তিনি আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। এখানে এসে দাম সাড়ে আট টাকা থেকে নয় টাকা শুনে তার ‘মাথায় বাজ পড়া’র মতো মনে হয়েছে। তাছাড়া এখানে প্রতিবস্তা নামাতে তাকে কুলিকে ১৩ টাকা আর আড়তদারকে প্রতিকেজিতে ত্রিশ পয়সা করে দিতে হয়।

মেসার্স হাজী জাবেদ আলী মোড়ল বাণিজ্য ভান্ডারের ম্যানেজার মো. গোলাম মোস্তাফা বলেন, নতুন আলুর উৎপাদন এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। নতুন এ পণ্যটি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। প্রতিদিন খুলনার এ বাজারে ৩০ গাড়ি আলু আসছে। ২৫ গড়ির কম হলে দাম বেশি থাকত। তবে এ আলু শেষ হতে আগামী সপ্তাহ লাগবে। তারপর এ পণ্যটির দাম বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে বাজারে আলুর দরপতন হলেও ফুলকপি, বাঁধাকপি, বিটকপি, শিম, লাউসহ শীতের অন্যান্য সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ভরা মৌসুমেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব সবজি। ৪০ টাকার নিচে মিলছে না কিছুই।

নগরীর জোড়াকল বাজারের সবজি বিক্রেতা বাদশা, নাজমুল, রানা ও মনিরুল জানান, বাজারে আজ শনিবার ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৩০, লাল বিটকপি ৪০, শিম ৪০ ও ৫০, লাউ প্রতি পিস ৩০ থেকে ৫০, লাল শাক ৬০, পালং শাক ৪০, পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি

চড়া সবজির বাজারে আলুতে স্বস্তি

আপডেট টাইম : ০১:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ‘সাত কেজি একশ টাকা, সাত কেজি একশ টাকা।’ খুলনা মহানগরী এলাকায় প্রায় ২-৩ সপ্তাহ ধরে এভাবে চিৎকার করে আলু বিক্রি করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় খুলনার বাজারগুলো এখন আলুতে সয়লাব। তবে মাথায় হাত উঠেছে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের। ট্রাকের ভাড়া মেটানোও দায় হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।

খুলনার বাজারে বর্তমানে খুচরা দোকানে আলু প্রতি কেজি ১৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা দরে। গত বছর এ সময়ে প্রতিকেজি আলু ২৬ থেকে ২৭ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজারে অন্যসব সবজির সরবরাহও প্রায় আলুর মতো থাকলেও দাম যেনো আকাশ ছোঁয়া। তবে অন্য সবজির তুলনায় এক সময় দামের দিক থেকে শীর্ষে থাকা টমেটোও এখন মিলছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

খুলনায় বিক্রির জন্য নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা থেকে আলু নিয়ে আসা কৃষক শামসুল হক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আলুর চাষ করছেন, কিন্তু কখনও তিনি এমন দর পতন দেখেননি।

এবার তিন বিঘা জমি চাষ করেছেন। কৃষাণ, সার ও বীজসহ প্রতিবিঘায় তার খরচ হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। প্রতিবিঘায় দু’হাজার দু’শ কেজি আলু পেয়েছেন। যা তার আশা মিটিয়েছে। তবে দরপতনের কারণে এখন বিঘাপ্রতি তার ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

নগরীর স্টেশন রোড কদমতলা কাঁচা বাজারের মেসার্স হাজী জাবেদ আলী মোড়ল বাণিজ্য ভান্ডারে গিয়ে দেখা যায় নীলফামারী জেলার কয়েকজন কৃষক হতাশ হয়ে বসে আছেন। কৃষক আশরাফ আলী ঋণ নিয়ে ১০ বিঘা জামিতে আলু চাষ করেছিলেন। মহাজনের এ টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত। গত ৪০ বছর ধরে তিনি আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। এখানে এসে দাম সাড়ে আট টাকা থেকে নয় টাকা শুনে তার ‘মাথায় বাজ পড়া’র মতো মনে হয়েছে। তাছাড়া এখানে প্রতিবস্তা নামাতে তাকে কুলিকে ১৩ টাকা আর আড়তদারকে প্রতিকেজিতে ত্রিশ পয়সা করে দিতে হয়।

মেসার্স হাজী জাবেদ আলী মোড়ল বাণিজ্য ভান্ডারের ম্যানেজার মো. গোলাম মোস্তাফা বলেন, নতুন আলুর উৎপাদন এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। নতুন এ পণ্যটি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। প্রতিদিন খুলনার এ বাজারে ৩০ গাড়ি আলু আসছে। ২৫ গড়ির কম হলে দাম বেশি থাকত। তবে এ আলু শেষ হতে আগামী সপ্তাহ লাগবে। তারপর এ পণ্যটির দাম বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে বাজারে আলুর দরপতন হলেও ফুলকপি, বাঁধাকপি, বিটকপি, শিম, লাউসহ শীতের অন্যান্য সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ভরা মৌসুমেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব সবজি। ৪০ টাকার নিচে মিলছে না কিছুই।

নগরীর জোড়াকল বাজারের সবজি বিক্রেতা বাদশা, নাজমুল, রানা ও মনিরুল জানান, বাজারে আজ শনিবার ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৩০, লাল বিটকপি ৪০, শিম ৪০ ও ৫০, লাউ প্রতি পিস ৩০ থেকে ৫০, লাল শাক ৬০, পালং শাক ৪০, পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।