ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

বিমানে সৌর জ্বালানির বিকল্প হবে সমুদ্রের শৈবাল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২
  • ২৩৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বৈদ্যুতিক বিমানের ছোটো প্রোটোপাইপ এমনকি কয়েকটি সৌর শক্তি চালিত বিমান আমাদের আশা জাগিয়েছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহণ শিল্পের ঘোড়দৌড়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা অনেক কম। সে কারণে অন্তত স্বল্পমেয়াদে বিমানকে জেট ফুয়েল দিয়ে চালিত করতে হবে, যা বায়ুমণ্ডলে কার্বন যোগ করে না। গবেষকরা বলছেন, এভিয়েশন খাতে কার্বনশূন্য সাফল্য আনতে শৈবাল জ্বালানিই দিতে পারে উল্লেখযোগ্য সমাধান। বিবিসি।

সমুদ্রের প্রায় ১৫ মিটার (৪৯ ফুট) গভীরতায় এর স্থানীয় আবাসস্থল থেকে শৈবালরা সূর্যের আলো শোষণ করে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নেয়। দৈত্যাকার শৈবালগুলো প্রতিদিন প্রায় ৬০ সেমি (২ ফুট) হারে বৃদ্ধি পায়, যা এটিকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল সামুদ্রিক শৈবালগুলোর মধ্যে একটি করে তোলে এবং যদি ৮০ মিটার (২৬২ ফুট) আরো পুষ্টি সমৃদ্ধ গভীরতায় স্থানান্তরিত করা হয় তবে এটি আরো দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

অনুমান করা হচ্ছে, শৈবাল (কেল্প) এবং সামুদ্রিক ঘাস (ম্যাক্রোঅ্যালগাস) প্রতিবছর বায়ুমণ্ডল থেকে ৬১ থেকে ২৬৮ মিলিয়ন টন কার্বন অপসারণ করতে পারে। এ কারণে সামুদ্রিক শৈবাল সংগ্রহ করে যদি এগুলোকে বাতাস থেকে টানা কার্বন দিয়ে জৈব জ্বালানিতে পরিণত করা যায়, তবে এ অতিরিক্ত নির্গমনের আশঙ্কা থাকবে না। বিজ্ঞানীরা এখনো বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন।ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক কোম্পানি মেরিন বায়োএনার্জির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান প্রকৌশলী ব্রায়ান উইলকক্স বলেন, শৈবাল থেকে জৈব জ্বালানী তৈরির বড় সুবিধা হলো- এটি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের বিদ্যমান সমস্ত পরিশোধন পরিকাঠামো ব্যবহার করেই সম্ভব। সান্তা ক্যাটালিনা দ্বীপের রিগলি ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের গবেষকরা মেরিন বায়োএনার্জির সঙ্গে কাজ করে এমন একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করছেন, যা দিয়ে জৈব জ্বালানি তৈরির জন্য বড় আকারের শৈবাল চাষের প্রয়োজন হবে।

এ ধারণা থেকেই ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি-ফান্ডেড গবেষণা প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তারা পরিচালিত পরীক্ষাগুলোকে ঘিরে রয়েছে শৈবাল থেকে শক্তি সৃষ্টির অভিনব উৎসগুলো। কিম এবং তার দল ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্যাটালিনা দ্বীপের উপক‚লে পানির নিচের আবাসস্থল থেকে দুই সেট শৈবাল সংগ্রহ করেছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে, কিম এবং তার সহকর্মীরা বিশ্বাস করেন, গভীরতর-সাইক্লিং জৈব জ্বালানি উৎপাদনের জন্য একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিকল্পের প্রতিনিধিত্ব করে। এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে জৈব জ্বালানির জন্য শৈবাল চাষ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। উইলকক্স, যিনি কিমের সাথে কাজ করছেন, দাবি করেছেন যে পৃথিবীর সমুদ্রের মাত্র ০.৫% সামুদ্রিক শৈবাল চাষের জন্য ব্যবহার করতে হবে যাতে শৈবাল-ভিত্তিক জৈবশক্তি বিশ্বব্যাপী সমস্ত দূরপাল্লার যানবাহন এবং বিমানের জন্য তরল জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে। শৈবালকে জৈব জ্বালানিতে রূপান্তর করার জন্য বেশ কয়েকটি পদ্ধতি ইতোমধ্যেই অন্বেষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে হাইড্রোথার্মাল লিকুইফেকশন নামক একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এটি গরম চাপযুক্ত জলে কঠিন কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ বায়োমসকে তরল উপাদানে ভেঙে বায়োক্রুড তেল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে। গবেষক কিম বিশ্বাস করেন বড় পরিসরে সামুদ্রিক খামারগুলোতে শৈবাল জন্মানো গেলে কীটনাশক ছাড়াই প্রচুর পরিমাণে তা উৎপাদন সম্ভব।

বিমান শিল্পের কিছু অংশ ইতোমধ্যে শৈবালভিত্তিক জৈব জ্বালানির সম্ভাব্য গুরুত্ব খুঁজে পেয়েছে। এয়ারবাস ২০১০ সালে শৈবাল জৈব জ্বালানি ব্যবহার করে বিমান ওড়াতে পারে বলে প্রমাণ করেছিল। এটির ব্যাপকতা দিতে গবেষক নিয়োগ করেছেন তারা।

গবেষক ব্রুক বলেন, আমরা যদি আজ থেকে শুরু করি তাহলে আমরা সাত বছরে ৪০-৫০% এর মধ্যে বিমান জ্বালানি সরবরাহ করতে পারি। তবে এই পদ্ধতির জন্য নতুন শোধনাগার এবং বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে এবং অর্থায়নও একটি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানান

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

বিমানে সৌর জ্বালানির বিকল্প হবে সমুদ্রের শৈবাল

আপডেট টাইম : ০৯:৫০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বৈদ্যুতিক বিমানের ছোটো প্রোটোপাইপ এমনকি কয়েকটি সৌর শক্তি চালিত বিমান আমাদের আশা জাগিয়েছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহণ শিল্পের ঘোড়দৌড়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা অনেক কম। সে কারণে অন্তত স্বল্পমেয়াদে বিমানকে জেট ফুয়েল দিয়ে চালিত করতে হবে, যা বায়ুমণ্ডলে কার্বন যোগ করে না। গবেষকরা বলছেন, এভিয়েশন খাতে কার্বনশূন্য সাফল্য আনতে শৈবাল জ্বালানিই দিতে পারে উল্লেখযোগ্য সমাধান। বিবিসি।

সমুদ্রের প্রায় ১৫ মিটার (৪৯ ফুট) গভীরতায় এর স্থানীয় আবাসস্থল থেকে শৈবালরা সূর্যের আলো শোষণ করে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নেয়। দৈত্যাকার শৈবালগুলো প্রতিদিন প্রায় ৬০ সেমি (২ ফুট) হারে বৃদ্ধি পায়, যা এটিকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল সামুদ্রিক শৈবালগুলোর মধ্যে একটি করে তোলে এবং যদি ৮০ মিটার (২৬২ ফুট) আরো পুষ্টি সমৃদ্ধ গভীরতায় স্থানান্তরিত করা হয় তবে এটি আরো দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

অনুমান করা হচ্ছে, শৈবাল (কেল্প) এবং সামুদ্রিক ঘাস (ম্যাক্রোঅ্যালগাস) প্রতিবছর বায়ুমণ্ডল থেকে ৬১ থেকে ২৬৮ মিলিয়ন টন কার্বন অপসারণ করতে পারে। এ কারণে সামুদ্রিক শৈবাল সংগ্রহ করে যদি এগুলোকে বাতাস থেকে টানা কার্বন দিয়ে জৈব জ্বালানিতে পরিণত করা যায়, তবে এ অতিরিক্ত নির্গমনের আশঙ্কা থাকবে না। বিজ্ঞানীরা এখনো বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন।ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক কোম্পানি মেরিন বায়োএনার্জির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান প্রকৌশলী ব্রায়ান উইলকক্স বলেন, শৈবাল থেকে জৈব জ্বালানী তৈরির বড় সুবিধা হলো- এটি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের বিদ্যমান সমস্ত পরিশোধন পরিকাঠামো ব্যবহার করেই সম্ভব। সান্তা ক্যাটালিনা দ্বীপের রিগলি ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের গবেষকরা মেরিন বায়োএনার্জির সঙ্গে কাজ করে এমন একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করছেন, যা দিয়ে জৈব জ্বালানি তৈরির জন্য বড় আকারের শৈবাল চাষের প্রয়োজন হবে।

এ ধারণা থেকেই ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি-ফান্ডেড গবেষণা প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তারা পরিচালিত পরীক্ষাগুলোকে ঘিরে রয়েছে শৈবাল থেকে শক্তি সৃষ্টির অভিনব উৎসগুলো। কিম এবং তার দল ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্যাটালিনা দ্বীপের উপক‚লে পানির নিচের আবাসস্থল থেকে দুই সেট শৈবাল সংগ্রহ করেছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে, কিম এবং তার সহকর্মীরা বিশ্বাস করেন, গভীরতর-সাইক্লিং জৈব জ্বালানি উৎপাদনের জন্য একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিকল্পের প্রতিনিধিত্ব করে। এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে জৈব জ্বালানির জন্য শৈবাল চাষ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। উইলকক্স, যিনি কিমের সাথে কাজ করছেন, দাবি করেছেন যে পৃথিবীর সমুদ্রের মাত্র ০.৫% সামুদ্রিক শৈবাল চাষের জন্য ব্যবহার করতে হবে যাতে শৈবাল-ভিত্তিক জৈবশক্তি বিশ্বব্যাপী সমস্ত দূরপাল্লার যানবাহন এবং বিমানের জন্য তরল জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে। শৈবালকে জৈব জ্বালানিতে রূপান্তর করার জন্য বেশ কয়েকটি পদ্ধতি ইতোমধ্যেই অন্বেষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে হাইড্রোথার্মাল লিকুইফেকশন নামক একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এটি গরম চাপযুক্ত জলে কঠিন কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ বায়োমসকে তরল উপাদানে ভেঙে বায়োক্রুড তেল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে। গবেষক কিম বিশ্বাস করেন বড় পরিসরে সামুদ্রিক খামারগুলোতে শৈবাল জন্মানো গেলে কীটনাশক ছাড়াই প্রচুর পরিমাণে তা উৎপাদন সম্ভব।

বিমান শিল্পের কিছু অংশ ইতোমধ্যে শৈবালভিত্তিক জৈব জ্বালানির সম্ভাব্য গুরুত্ব খুঁজে পেয়েছে। এয়ারবাস ২০১০ সালে শৈবাল জৈব জ্বালানি ব্যবহার করে বিমান ওড়াতে পারে বলে প্রমাণ করেছিল। এটির ব্যাপকতা দিতে গবেষক নিয়োগ করেছেন তারা।

গবেষক ব্রুক বলেন, আমরা যদি আজ থেকে শুরু করি তাহলে আমরা সাত বছরে ৪০-৫০% এর মধ্যে বিমান জ্বালানি সরবরাহ করতে পারি। তবে এই পদ্ধতির জন্য নতুন শোধনাগার এবং বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে এবং অর্থায়নও একটি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানান