,

084229cap_kalerkantho_pic

১২ থেকে ১৭ বছর এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনার প্রাদুর্ভাবে দেড় বছর বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংক্রমণ কিছুটা কমে এলে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ খোলা হয়। করোনা থেকে সুরক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের গত ১ নভেম্বর টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এ পর্যন্ত এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাসে যেতে হলে করোনার কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নিতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ক্লাসের বাইরে থেকে যাবে।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশে চোখ রাঙাচ্ছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। বাড়ছে করোনা শনাক্তের হার। এরই মধ্যে কিছু বিধি-নিষেধের চিন্তা-ভাবনা করছে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। ফলে স্কুল-কলেজ খোলা থাকবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মাউশি অধিদপ্তরের এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে গত সপ্তাহ পর্যন্ত প্রথম ডোজ নিয়েছে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি চলছে। জন্ম নিবন্ধন সনদ ছাড়াও তারা টিকা নিতে পারছে। নিজ নিজ স্কুল তাদের শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে উৎসাহিত করছে। শিক্ষা কর্মকর্তারাও এ ক্ষেত্রে তদারকি করছেন।’

অধ্যাপক গোলাম ফারুক আরো বলেন, ‘বর্তমানে দ্রুতগতিতে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, টিকার কোনো সংকট নেই। এভাবে চললে খুব তাড়াতাড়িই শিক্ষার্থীদের আমরা টিকার আওতায় আনতে পারব। তবে অভিভাবকদেরও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে। সব শিক্ষার্থী টিকার আওতায় আনা গেলে স্কুল-কলেজ খোলা রাখতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে না।’

গতকাল শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, আগামী মার্চে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু এখন জানুয়ারির গোড়ায় বাড়তে শুরু করেছে। কাজেই যে পরিকল্পনা, তাতে কিছুটা সমন্বয়ের দরকার হবে। কিন্তু আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না। বরং আমরা চাই, প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন করোনার টিকা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। একটু অসুবিধা হতে পারে ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের। সেসব বিষয় নিয়েও আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

জানা যায়, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর জন্ম নিবন্ধন নিয়ে জটিলতায় পড়ে শিক্ষার্থীরা। এই বয়সের যেসব শিক্ষার্থী গত কয়েক বছর জন্ম নিবন্ধন করেছে, তারা ১৭ ডিজিটের নম্বর পেয়েছে। আর যারা আগে জন্ম নিবন্ধন করেছে, তাদের ১৬ ডিজিটের নম্বর। কিন্তু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদপ্তরের সুরক্ষা অ্যাপে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সনদ চাওয়া হয়। ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরই ১৬ ডিজিটের সনদ থাকায় শুরুর দিকে তারা বারবার চেষ্টা করেও নিবন্ধন করতে পারেনি। তবে মাউশি অধিদপ্তর আইসিটি অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানোর পর তারা সমস্যার সমাধান করে। তবে এ জন্য ১৫ দিনের মতো সময় নষ্ট হয়। নয়তো আরো বেশি শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হতো।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর