ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না রঙিন কাপড়ে ঝোলের পুরনো দাগ উঠবে মাত্র ৫ মিনিটে দুই মাসে ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করেছে ‘স্পিড পোস্ট’ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ মেঘলাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা দিল দূতাবাস চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ শুরু বলিভিয়ায় সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত, আহত ৫৮ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

মেয়র পদও হারাচ্ছেন!

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১
  • ২১৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তবে মেয়র পদও এখন ঝুঁকিতে রয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত এই মেয়রের।

দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীকে দল বহিষ্কার করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিতর্ক হয়। লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের বিষয়ে দলের চিঠি পেয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেন সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। এতে লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের পক্ষেই রায় দিলে লতিফ সিদ্দিকী আপিল করেন। কিন্তু আপিল বিভাগও হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ না নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করেন।

অন্যদিকে দল থেকে বহিষ্কার হয়েও এমপি পদে বহাল থাকেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য (সাতক্ষীরা-৪) গোলাম রেজা ও বিএনপির সংসদ সদস্য (রাজশাহী-৪) আসনের সংসদ সদস্য আবু হেনা। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এ দুজনের বিষয়ে তাঁদের দল থেকে সংবিধানের ৬৬ ধারা অনুসারে পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে দল থেকে বহিষ্কার হলে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিধান আছে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে কী হবে সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। দলীয় প্রতীকে সিটি মেয়র পদে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর নির্বাচিত কোনো মেয়রকে তাঁর দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা এই প্রথম। এ অবস্থায় শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে জাহাঙ্গীর আলম মেয়র পদ হারাবেন কি না সেই প্রশ্ন উঠেছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র আদালত আমলে নিলে এবং অসদাচরণ প্রমাণ হলে মেয়রদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা যাবে। জাহাঙ্গীর আলমের ক্ষেত্রে দল থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে দল কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয় তার ওপরও জাহাঙ্গীরের ভাগ্য নির্ভর করছে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, দল থেকে বহিষ্কার হলে দলীয় মেয়র তাঁর পদ হারাবেন—এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন আইনে কিছু বলা নেই। এই আইনে বলা আছে, অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে এবং নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে তাঁকে অপসারণ করা যাবে।

তিনি বলেন, একজন দলীয় মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার এই প্রথম। তাই আইনের আরও পর্যালোচনা ছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, এমন কোনো বিধান না থাকলেও সরকার চাইলে সিটি করপোরেশনের একজন মেয়রকে অপসারণের অনেক পথ আছে। অসদাচরণ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মেয়রকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না

মেয়র পদও হারাচ্ছেন!

আপডেট টাইম : ১০:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তবে মেয়র পদও এখন ঝুঁকিতে রয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত এই মেয়রের।

দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীকে দল বহিষ্কার করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিতর্ক হয়। লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের বিষয়ে দলের চিঠি পেয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেন সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। এতে লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের পক্ষেই রায় দিলে লতিফ সিদ্দিকী আপিল করেন। কিন্তু আপিল বিভাগও হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ না নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করেন।

অন্যদিকে দল থেকে বহিষ্কার হয়েও এমপি পদে বহাল থাকেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য (সাতক্ষীরা-৪) গোলাম রেজা ও বিএনপির সংসদ সদস্য (রাজশাহী-৪) আসনের সংসদ সদস্য আবু হেনা। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এ দুজনের বিষয়ে তাঁদের দল থেকে সংবিধানের ৬৬ ধারা অনুসারে পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে দল থেকে বহিষ্কার হলে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিধান আছে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে কী হবে সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। দলীয় প্রতীকে সিটি মেয়র পদে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর নির্বাচিত কোনো মেয়রকে তাঁর দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা এই প্রথম। এ অবস্থায় শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে জাহাঙ্গীর আলম মেয়র পদ হারাবেন কি না সেই প্রশ্ন উঠেছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র আদালত আমলে নিলে এবং অসদাচরণ প্রমাণ হলে মেয়রদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা যাবে। জাহাঙ্গীর আলমের ক্ষেত্রে দল থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে দল কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয় তার ওপরও জাহাঙ্গীরের ভাগ্য নির্ভর করছে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, দল থেকে বহিষ্কার হলে দলীয় মেয়র তাঁর পদ হারাবেন—এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন আইনে কিছু বলা নেই। এই আইনে বলা আছে, অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে এবং নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে তাঁকে অপসারণ করা যাবে।

তিনি বলেন, একজন দলীয় মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার এই প্রথম। তাই আইনের আরও পর্যালোচনা ছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, এমন কোনো বিধান না থাকলেও সরকার চাইলে সিটি করপোরেশনের একজন মেয়রকে অপসারণের অনেক পথ আছে। অসদাচরণ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মেয়রকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে পারেন।