ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ তালবাহানায় আটকে গভর্নিং বডি নির্বাচন, প্রশ্নের মুখে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হবে পুরস্কারের গাড়ি মাকে উপহার দেবেন তাওহীদ হৃদয় ইসলামী ব্যাংকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণার আহ্বান ফখরুলের পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দিত পরীমণি

এবার জনতা ব্যাংকের এফডিআর তছরুপ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ মার্চ ২০১৬
  • ৩৪৮ বার

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের দিলকুশার লোকাল অফিসের এক কর্মকর্তা এফডিআরের অর্থ তুলে নিয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা টের পেয়ে তার কাছ থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দেশে যখন তোলপাড় চলছে ঠিক তখনই ঘটল এ ঘটনা। এফডিআর তছরুফের ঘটনায় ওই ব্যাংকের গ্রাহকরাও আতঙ্কে রয়েছেন। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, গ্রাহকদের কোনো ক্ষতি হবে না।

জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (সিনিয়র অফিসার) রাজিব হাসান দীর্ঘদিন ধরে ওই শাখার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট বা স্থায়ী আমানতপত্র) অনুবিভাগে কাজ করে আসছেন। সেখানে অনেক আগে থেকেই ভাউচার দিয়ে টাকা তুলছিলেন তিনি। এতদিন বিষয়টি কেউ বুঝতে না পারলেও গত রবিবার বিকালে ভাউচারে গরমিল দেখতে পান অন্য কর্মকর্তারা। আর তা মিলিয়ে দেখতেই বেরিয়ে আসে এফডিআরের নামে ভাউচার দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেয়ার কাহিনি।

গতকাল সোমবার রাজিব হাসানের ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার করেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সেখানে টাকা পাওয়া যায় ৭৮ লাখ। আর ওই কর্মকর্তা যে ডেস্কে বসতেন সেখানকার ড্রয়ারে পাওয়া গেছে আরো ১৫ লাখ টাকা। এছাড়াও তার অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা ও উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। অবশ্য আরো কোনো ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্ট আছে কিনা সে বিষয়ে জানা যায়নি।

টাকা উদ্ধারের পর ব্যাংকের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে রাজিব হাসানকে দিনভর আটকে রাখা হয়। পরে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠক করেন শাখা ব্যবস্থাপক। আর এ ঘটনায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিশেষ স্কোয়াড ওই শাখা পরিদর্শন করে।

ঘটনা জানাজানির পর দিলকুশা ও মতিঝিল এলাকায় ব্যাংক পাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো জিডি বা মামলা করা হয়নি বলে ব্যাংকসূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখা ব্যবস্থাপক ড. ফরজ আলী ইত্তেফাককে বলেন, বিশেষ স্কোয়াডের তদন্তশেষে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, চুরির টাকা গ্রাহকের নয়। আমাদের শাখার নিজস্ব হিসাব থেকে ভাউচারের মাধ্যমে টাকা চুরি হয়েছিল। হিসাব-নিকাশ করে সঠিকভাবে ডেবিট-ক্রেডিট এডজাস্ট করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এফডিআরের জমার বিপরীতে গ্রাহককে প্রদেয় মুনাফার কিছু অংশ নিজের হিসাবে নিয়েছেন রাজীব হাসান। এছাড়া গ্রাহককে যে পরিমাণ মুনাফা প্রদান করার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ টাকার ভাউচার করে অতিরিক্ত অংশ নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন। গ্রাহকের জমাকৃত টাকা ্ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাত্ করেছেন তিনি। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আত্মসাতে লিপ্ত ছিলেন রাজীব হাসান। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন থানায়। তিনি পাঁচ বছর আগে জনতা ব্যাংকে যোগদান করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে গতকাল এ ঘটনায় কয়েকজন আমানতকারী লোকাল অফিসে আসেন খোঁজখবর নিতে। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। আজ মঙ্গলবার তাদের আসতে বলা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ

এবার জনতা ব্যাংকের এফডিআর তছরুপ

আপডেট টাইম : ১২:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ মার্চ ২০১৬

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের দিলকুশার লোকাল অফিসের এক কর্মকর্তা এফডিআরের অর্থ তুলে নিয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা টের পেয়ে তার কাছ থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দেশে যখন তোলপাড় চলছে ঠিক তখনই ঘটল এ ঘটনা। এফডিআর তছরুফের ঘটনায় ওই ব্যাংকের গ্রাহকরাও আতঙ্কে রয়েছেন। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, গ্রাহকদের কোনো ক্ষতি হবে না।

জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (সিনিয়র অফিসার) রাজিব হাসান দীর্ঘদিন ধরে ওই শাখার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট বা স্থায়ী আমানতপত্র) অনুবিভাগে কাজ করে আসছেন। সেখানে অনেক আগে থেকেই ভাউচার দিয়ে টাকা তুলছিলেন তিনি। এতদিন বিষয়টি কেউ বুঝতে না পারলেও গত রবিবার বিকালে ভাউচারে গরমিল দেখতে পান অন্য কর্মকর্তারা। আর তা মিলিয়ে দেখতেই বেরিয়ে আসে এফডিআরের নামে ভাউচার দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেয়ার কাহিনি।

গতকাল সোমবার রাজিব হাসানের ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার করেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সেখানে টাকা পাওয়া যায় ৭৮ লাখ। আর ওই কর্মকর্তা যে ডেস্কে বসতেন সেখানকার ড্রয়ারে পাওয়া গেছে আরো ১৫ লাখ টাকা। এছাড়াও তার অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা ও উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। অবশ্য আরো কোনো ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্ট আছে কিনা সে বিষয়ে জানা যায়নি।

টাকা উদ্ধারের পর ব্যাংকের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে রাজিব হাসানকে দিনভর আটকে রাখা হয়। পরে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠক করেন শাখা ব্যবস্থাপক। আর এ ঘটনায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিশেষ স্কোয়াড ওই শাখা পরিদর্শন করে।

ঘটনা জানাজানির পর দিলকুশা ও মতিঝিল এলাকায় ব্যাংক পাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো জিডি বা মামলা করা হয়নি বলে ব্যাংকসূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখা ব্যবস্থাপক ড. ফরজ আলী ইত্তেফাককে বলেন, বিশেষ স্কোয়াডের তদন্তশেষে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, চুরির টাকা গ্রাহকের নয়। আমাদের শাখার নিজস্ব হিসাব থেকে ভাউচারের মাধ্যমে টাকা চুরি হয়েছিল। হিসাব-নিকাশ করে সঠিকভাবে ডেবিট-ক্রেডিট এডজাস্ট করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এফডিআরের জমার বিপরীতে গ্রাহককে প্রদেয় মুনাফার কিছু অংশ নিজের হিসাবে নিয়েছেন রাজীব হাসান। এছাড়া গ্রাহককে যে পরিমাণ মুনাফা প্রদান করার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ টাকার ভাউচার করে অতিরিক্ত অংশ নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন। গ্রাহকের জমাকৃত টাকা ্ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাত্ করেছেন তিনি। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আত্মসাতে লিপ্ত ছিলেন রাজীব হাসান। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন থানায়। তিনি পাঁচ বছর আগে জনতা ব্যাংকে যোগদান করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে গতকাল এ ঘটনায় কয়েকজন আমানতকারী লোকাল অফিসে আসেন খোঁজখবর নিতে। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। আজ মঙ্গলবার তাদের আসতে বলা হয়েছে।