ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

মিশ্র ফসল চাষে মামা-ভাগ্নের চমক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুলাই ২০২১
  • ২৬২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছা থাকলে কৃষিতেও সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এমনটাই প্রমাণ করলেন হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের মামা-ভাগিনা মিলে। তারা হচ্ছেন মো. সাইফুল ইসলাম সাজল (মামা) ও মো. এনামুল হক এনাম।

তারা প্রতিবেশীর কাছ থেকে লিজ নিয়েছেন প্রায় ১০০ শতক জমি। এই জমিতে আড়াই মাস আগে তারা প্রায় ৮০০ গ্রিন লেডি জাতের পেঁপে চারা রোপণ করেন। রংপুর থেকে এ চারা সংগ্রহ করে দেন বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম। বাড়তি আয়ের জন্য একই জমিতে রোপণ করা হয়েছে কাঁচা মরিচ ও বেগুন। আর এ জমির বেড়ার পাশে রোপণ করা হয় লাউ ও কুমড়া। তারা মিশ্র ফসল চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। ইতোমধ্যে বেগুন, লাউ ও কুমড়া বিক্রি শুরু হয়েছে।

কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে পেঁপে বিক্রি। মিশ্র ফসল চাষে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও পোকা দমনে ইয়োলো কালার ট্র্যাপ। এতে দারুণ কাজে হয়েছে। মামা-ভাগিনার মিশ্র চাষ দেখে এলাকার চাষিরা উৎসাহিত হয়েছেন। তারাও এ পদ্ধতি গ্রহণ করে চাষ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। আলাপকালে এসব তথ্য জানান মামা-ভাগ্নে।

সাইফুল ইসলাম সাজল জানান, দুবাই ও ওমানে কয়েক বছর থেকে কাজ করেছেন। তেমন আয় করতে পারেননি। করোনার আগে দেশে আসেন। করোনা শুরু হওয়ায় আর প্রবাসে যাওয়া হয়নি। মুদি মালের দোকান দেন। এ ব্যবসার পাশাপাশি কৃষি কাজ করছেন। কিন্তু সফলতা আসছিল না।

অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন মিশ্র ফসল চাষ করার। সাথে যুক্ত করেন তার ভাগ্নে এনামকে। প্রতিবেশীর কাছ থেকে প্রায় ১ একর জমি লিজ নেন। কৃষি অফিসার থেকে পরামর্শ নিয়ে মিশ্র ফসল চাষ শুরু করেন। এফসল চাষে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয়ের।

এলাকার চাষি তৌহিদ মিয়া বলেন, মিশ্র ফসল চাষে তারা মামা-ভাগিনা চমক দেখিয়েছেন। বিশেষ করে তারা  বিষমুক্ত ফসল চাষ করছেন। আমার জমিতেও বারোমাসী ফসল চাষ করছি। করোনাকালে বাড়ি থেকে অন্য কোথায় তেমন একটা যাওয়া হচ্ছে না। এসময়টা কৃষিতে ব্যয় করে সফলতা পাচ্ছি।

দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, মনের ইচ্ছা আর শ্রম ও মেধা কাজে লাগালে সফলতা আসে। কারোনাকালে মিশ্র ফসল চাষ করে তার প্রমাণ দিলেন সাইফুল ইসলাম সাজল ও এনামুল হক এনাম। তারা কঠোর শ্রম দিচ্ছেন। আর আমি তাদের দিচ্ছি সুপরামর্শ। এ কারণে ক্ষেতে মিশ্র ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে তাদের উৎপাদিত ফসল। আশা করছি তারা লাভবান হবেন।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান বলেন, একসঙ্গে মিলে কাজ করলে সফলতা আসে। এর প্রমাণ দিলেন হাফিজপুর গ্রামের বাসিন্দা মামা ও ভাগিনা। তারা মিলে জমি লিজ নিয়ে মিশ্র ফসল চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আমরা তাদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। শুধু তাদের নয়, জেলার অন্যান্য কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তাতে নানা জাতের ফসলের ব্যাপক ফলন হচ্ছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

মিশ্র ফসল চাষে মামা-ভাগ্নের চমক

আপডেট টাইম : ০২:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুলাই ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছা থাকলে কৃষিতেও সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এমনটাই প্রমাণ করলেন হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের মামা-ভাগিনা মিলে। তারা হচ্ছেন মো. সাইফুল ইসলাম সাজল (মামা) ও মো. এনামুল হক এনাম।

তারা প্রতিবেশীর কাছ থেকে লিজ নিয়েছেন প্রায় ১০০ শতক জমি। এই জমিতে আড়াই মাস আগে তারা প্রায় ৮০০ গ্রিন লেডি জাতের পেঁপে চারা রোপণ করেন। রংপুর থেকে এ চারা সংগ্রহ করে দেন বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম। বাড়তি আয়ের জন্য একই জমিতে রোপণ করা হয়েছে কাঁচা মরিচ ও বেগুন। আর এ জমির বেড়ার পাশে রোপণ করা হয় লাউ ও কুমড়া। তারা মিশ্র ফসল চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। ইতোমধ্যে বেগুন, লাউ ও কুমড়া বিক্রি শুরু হয়েছে।

কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে পেঁপে বিক্রি। মিশ্র ফসল চাষে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও পোকা দমনে ইয়োলো কালার ট্র্যাপ। এতে দারুণ কাজে হয়েছে। মামা-ভাগিনার মিশ্র চাষ দেখে এলাকার চাষিরা উৎসাহিত হয়েছেন। তারাও এ পদ্ধতি গ্রহণ করে চাষ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। আলাপকালে এসব তথ্য জানান মামা-ভাগ্নে।

সাইফুল ইসলাম সাজল জানান, দুবাই ও ওমানে কয়েক বছর থেকে কাজ করেছেন। তেমন আয় করতে পারেননি। করোনার আগে দেশে আসেন। করোনা শুরু হওয়ায় আর প্রবাসে যাওয়া হয়নি। মুদি মালের দোকান দেন। এ ব্যবসার পাশাপাশি কৃষি কাজ করছেন। কিন্তু সফলতা আসছিল না।

অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন মিশ্র ফসল চাষ করার। সাথে যুক্ত করেন তার ভাগ্নে এনামকে। প্রতিবেশীর কাছ থেকে প্রায় ১ একর জমি লিজ নেন। কৃষি অফিসার থেকে পরামর্শ নিয়ে মিশ্র ফসল চাষ শুরু করেন। এফসল চাষে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয়ের।

এলাকার চাষি তৌহিদ মিয়া বলেন, মিশ্র ফসল চাষে তারা মামা-ভাগিনা চমক দেখিয়েছেন। বিশেষ করে তারা  বিষমুক্ত ফসল চাষ করছেন। আমার জমিতেও বারোমাসী ফসল চাষ করছি। করোনাকালে বাড়ি থেকে অন্য কোথায় তেমন একটা যাওয়া হচ্ছে না। এসময়টা কৃষিতে ব্যয় করে সফলতা পাচ্ছি।

দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, মনের ইচ্ছা আর শ্রম ও মেধা কাজে লাগালে সফলতা আসে। কারোনাকালে মিশ্র ফসল চাষ করে তার প্রমাণ দিলেন সাইফুল ইসলাম সাজল ও এনামুল হক এনাম। তারা কঠোর শ্রম দিচ্ছেন। আর আমি তাদের দিচ্ছি সুপরামর্শ। এ কারণে ক্ষেতে মিশ্র ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে তাদের উৎপাদিত ফসল। আশা করছি তারা লাভবান হবেন।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান বলেন, একসঙ্গে মিলে কাজ করলে সফলতা আসে। এর প্রমাণ দিলেন হাফিজপুর গ্রামের বাসিন্দা মামা ও ভাগিনা। তারা মিলে জমি লিজ নিয়ে মিশ্র ফসল চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আমরা তাদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। শুধু তাদের নয়, জেলার অন্যান্য কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তাতে নানা জাতের ফসলের ব্যাপক ফলন হচ্ছে।