ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই..

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • ৪০২ বার

মিশরের সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রা নাকি চোখের চাহনি দিয়ে ঘায়েল করতেন পুরুষদের। তার গভীর নীল চোখে চোখ পড়তেই আর দৃষ্টি ফেরাতে পারেননি জুলিয়াস সিজার আর মার্ক এন্টোনির মতো বীর পুরুষরা। রূপের রানী ক্লিওপেট্রার কাজল চোখের দৃষ্টি কী করে পৃথিবীর ইতিহাসটাই পাল্টে দিয়েছিলো তা অনেকেরই অজানা নয়।

নারীর সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়ায় চোখ। চোখের আবেদন চিরায়ত। একজোড়া সুন্দর চোখের অধিকারী হতে চায় যে কেউ। চোখ নিয়ে দুঃখও থাকে অনেকের, যদি চোখটা আরেকটু বড় হতো বা চোখটা আরেকটু সুন্দর হতো! চোখের সাজ নিয়ে তাই গবেষণার অন্ত নেই! প্রতিনিয়ত চোখের সাজের নানান ধরন অবলম্বন করে তাই অনেকেই চোখ সাজান। উপযুক্ত সাজ আরা উপকরণের মাধ্যমে চোখকে করে তোলা যায় আরো আকর্ষণীয়।

ঘরে বসেই সুন্দর আপনির সাজিয়ে নিতে পারেন আপনার দুটি চোখ। চোখের সাজ সম্পর্কে বিউটিশিয়ন অনন্যা আবেদীন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তার কাছ থেকে আসুন জেনে নেয়া যাক চোখকে সুন্দর করে সাজানোর কিছু টিপস।

চোখের সাজ শুরু করার আগে ভ্রুর দিকে নজর দিন। ভ্রুর বাড়তি চুলগুলিকে উঠিয়ে ফেলতে হবে। তারপর ছোট শক্ত ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে শেপ দিতে হবে। আইব্রো পেন্সিলের হালকা ছোট ছোট টানে ভ্রু দু’টিকে গাঢ় করে নিতে পারেন।

আসলে চোখের সাজ অনেকটাই নির্ভর করে চোখের আকৃতির ওপর। আপনার চোখ যদি হয় কিছুটা কোটরের ভেতর ঢোকানো, তবে আইশ্যাডো হওয়া চাই হালকা। চোখের পাতা ও ভেতরের দিকে হালকা আইশ্যাডো দিন। একটু গাঢ় আইশ্যাডো লাগান পাতার ওপরে, ভ্রূর নিচে। মাঝারি রঙ থেকে আরো একটু গাঢ় রঙের আইশ্যাডো লাগান চোখের বাইরের কোণে, একটু বাইরের দিকে টেনে। ভ্রূর নিচে একদম হালকা রঙের আইশ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন। আর ভ্রূ যেখানে শেষ হয়, সেই লাইনটাতে খুব সরু করে সাদা আইশ্যাডো লাগান।

এবার চিকন আইলাইনার বা কাজল চোখের ওপরের পাতায় নিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত টেনে দিন। নিচের পাতায় চাইলে খুব সরু করে কাজল নিতে পারেন। নিচের পাতায় কাজল না দিয়ে শুধু মাশকারা লাগিয়ে নিতে পারেন। চোখের ওপরের পাপড়িতেও মাশকারা দিতে পারেন। এতে আপনার চোখ বড় ও সজীব দেখাবে।

এ ধরনের চোখের পাতায় ও কোটরের ওপরের অংশজুড়ে খুব গাঢ় আইশ্যাডো লাগাবেন না। এতে চোখ আরো ভেতরের দিকে মনে হবে।

দুই চোখের মাঝে দূরত্ব যদি একটু বেশি হয়, তবে চোখের সাজ হওয়া উচিত এমন যাতে চোখ দুটি কাছাকাছি দেখায়। চোখের পাতার মধ্যভাগ থেকে ভেতরের অংশ পর্যন্ত একটু হালকা রঙের আইশ্যাডো দিন। চোখের মধ্যভাগ থেকে বাইরের দিকের অংশে একটু গাঢ় রঙের আইশ্যাডো দিন। এ দুই শেড চোখে বেস্নন্ড করে নিন। টেনে কাজল বা আইলাইনার দিন চোখের ভেতরের দিকের অংশে। চোখের ভেতরের অংশে ওপরে ও নিচে হালকা করে মিলিয়ে নিয়ে চোখ অাঁকতে পারেন।

আপনার দুই চোখের মাঝে দূরত্ব যদি কম হয়, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা আইশ্যাডো দিন মাঝবরাবর। এবার মধ্যাংশ থেকে বাইরের দিকে গাঢ় রঙের আইশ্যাডো দিন। দুটো রঙ ভালো করে মিলিয়ে দিন চোখের ওপরে। গাঢ় রঙের আইশ্যাডো চোখের কোণের বাইরে টেনে দিয়ে নিচের অংশের মাঝবরাবর দিতে পারেন। আইলাইনার বা কাজল চোখের ভেতরের অংশ থেকে কোণের বাইরে পর্যন্ত টেনে দিন। বাইরের অংশটিতে একটু গাঢ় বা মোটা করে, একটু ওপরের দিকে টেনে দিতে পারেন। এভাবে আপনার চোখ টানা-টানা ও সুন্দর দেখাবে।

আপনার চোখের আকার যদি হয় নিচের দিকে নামানো, তবে আইশ্যাডো ওপরে এবং বাইরের দিকে টেনে দিতে হবে। চোখের ভেতরের অংশে হালকা ও বাইরের কোণ থেকে নিয়ে মধ্যভাগ পর্যন্ত গাঢ় আইশ্যাডো দিন। খেয়াল রাখবেন, ওপরের অংশের গাঢ় আইশ্যাডো যেন টেনে নিচে নামিয়ে না আনা হয়। এবার চোখের ভেতরের অংশ থেকে আইলাইনার বা কাজল টেনে বাইরের অংশ পর্যন্ত দিয়ে একটু ওপরের দিকে ছড়িয়ে দিন। মধ্যভাগ থেকে বাইরের কোণ পর্যন্ত একটু মোটা করে নিন আপনার কাজল। চোখের নিচের পাতায় হালকা কাজল দিয়ে বাইরের কোণটি ওপরের কোণের সঙ্গে একটু ওপরে টেনে মিলিয়ে নিন। চোখের ওপরের পাতার পাপড়িতে ঘন করে মাশকারা লাগিয়ে নিন।

আপনার চোখ যদি চিকন ধরনের হয়, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে একটু হালকা শ্যাডো দিন। বাইরের অংশে গাঢ় শেড দিয়ে ভালো করে বেস্নন্ড করে নিন। আইলাইনার বা কাজল চোখে খুব একটা টেনে দেয়ার দরকার নেই। তাতে চোখ আরো লম্বা দেখাবে। হালকা লাইনার বা কাজল অথবা এর বদলে কালো আইশ্যাডো দিয়ে ঘন করে মাশকারা নিতে পারেন।

যাদের চোখ একটু ফোলা ধরনের, তারা চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা, চোখের কোণ ও কোটরের ওপর গাঢ় আইশ্যাডো দিয়ে চোখের ফোলাভাব কমাতে পারেন। মোটা করে কাজল বা আইলাইনারও লাগিয়ে চোখের ফোলাভাব কমানো যায়।
যাদের চোখের কোল ফোলা থাকে, তারা ওপরের ও নিচের পাতায় গাঢ় করে কাজল বা আইলাইনার টেনে একটু মোটা করে লাগাতে পারেন।

চোখ যদি মাঝারি আকারের হয়, তবে আইলাইনার বা কাজল চোখের ভেতরের কোণ থেকে টেনে নিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত লাগান। ভেতরের দিকে ওপরের ও নিচের পাতায় কাজল দিয়ে চোখ টেনে এঁকে নিন। আবার বাইরের কোণেও একটু বাড়িয়ে ওপর দিকে কাজল দিন। চোখের নিচের পাতার মাঝ থেকে বাইরের অংশ পর্যন্ত একটু মোটা করে ওপর দিকে টেনে কাজল দিন। এতে চোখ টানা-টানা ও ভাসা-ভাসা লাগবে।

আপনার চোখ যদি হয় খানিকটা গোলাকৃতির, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা ও বাইরের অংশে গাঢ় আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। কাজল বা আইলাইনার চোখের ভেতরের কোণে হালকা করে লাগিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত চিকন করে টেনে লাগান। বাইরের কোণে কাজল একটু মোটা বা ঊর্ধ্বমুখী করতে পারেন। চোখের নিচের পাতার কোণের সঙ্গে কাজল টেনে ওপরের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দিন।

আইশ্যাডো ব্যবহার করতে না চাইলে মুখে হালকা ফেস পাউডার দিয়ে, চোখে শুধু কাজল দিয়েও হয়ে উঠতে পারেন নজরকাড়া সুন্দরী। প্রসাধনীতে সুরমার প্রচলন এখনো আছে। টেনে সুরমা দিলে চোখ টানা টানা লাগে। আবার হালকা করে চোখের ওপরের পাতায় কাজলের সঙ্গে মাশকারা লাগাতে পারেন।

ইদানিং চোখের সঙ্গে স্মোকি আইস বা কালো ধরনের মেকআপ খুব প্রচলিত। এতে প্রথমে চোখের পাতায় একটি বেজ লাগিয়ে নিন। হালকা বাদামি রঙের শেড দিন বাইরের কোণ থেকে চোখের কোটরের ওপর দিয়ে ভেতর পর্যন্ত। একটু কালো বা গাঢ় বাদামি রঙের শ্যাডো লাগান চোখের পাতার বাইরের কোণ থেকে ভেতরে চোখের কোটরের লাইন-বরাবর। আইলাইনার বা কাজল লাগান গাঢ় করে, চোখের পাতার ভেতরের অংশ থেকে বাইরের অংশ পর্যন্ত। নিচের পাতায় কাজল দিন। কাজলের বদলে আইশ্যাডো দিতে পারেন। ভ্রূর নিচে একটু হালকা সোনালি আইশ্যাডো দিন।

চোখে ভাসা-ভাসা একটা ভাব আনতে চোখের ওপর নিচের পাতায় কাজল দিন। এবার আঙুল দিয়ে চোখের ওপরের পাতার কাজল একটু ওপরের দিকে ঘষে মিশিয়ে দিন।

অনেকে বুঝতে পারেন না, কাজল ও আইলাইনার দেওয়ার আগে আইশ্যাডো ব্যবহার করবেন, নাকি পরে? এক্ষেত্রে পরামর্শ হলো শুরুতে চোখের ওপরের পুরো জায়গায় আইশ্যাডো দিতে হবে। সে সময় দুই বা তিন শেডের আইশ্যাডো দিতে পারেন। এরপর চোখ সুন্দর দেখাতে চাইলে চোখের পাতার একদম ভেতর দিয়ে কাজল দিন।

এবার আইলাইনার বা কাজল চোখের ওপরে বা নিচে দিতে হবে। তবে চোখ আকর্ষণীয় করার জন্য ঘন করে মাশকারা দিতে হবে। একবার মাশকারা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে আবার মাশকারা দিন। খেয়াল রাখবেন, মাশকারা দেওয়ার সময় চোখের ওপরের পাতা ওপরের দিকে উঠিয়ে দিতে হবে। আর পাতাগুলো যেন একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে না যায়।

চোখের পাশাপাশি ভ্রুও সাজাতে হবে। আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন। বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে বাদামি আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

চোখের সাজ আপনার পোশাকের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া চাই। ভ্রূর ক্ষেত্রে কাজল ব্যবহার না করে, বাদামি ভ্রূ পেনসিল বা বাদামি আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। এ ছাড়া চোখ আরো দৃষ্টিনন্দন করতে ব্যবহার করতে পারেন আলগা আইল্যাশ। আপনার চোখ ও মন বুঝে একেক ধরনের নিতে পারেন একেক সাজ। কখনো চিকন, কখনো টেনে কাজল দিয়ে আপনি হয়ে উঠতে পারেন দৃষ্টিনন্দিত।

চোখের সাজ আরো আকর্ষণীয় করতে আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই বিভিন্ন রঙের লেন্স পরতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই..

আপডেট টাইম : ১০:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

মিশরের সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রা নাকি চোখের চাহনি দিয়ে ঘায়েল করতেন পুরুষদের। তার গভীর নীল চোখে চোখ পড়তেই আর দৃষ্টি ফেরাতে পারেননি জুলিয়াস সিজার আর মার্ক এন্টোনির মতো বীর পুরুষরা। রূপের রানী ক্লিওপেট্রার কাজল চোখের দৃষ্টি কী করে পৃথিবীর ইতিহাসটাই পাল্টে দিয়েছিলো তা অনেকেরই অজানা নয়।

নারীর সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়ায় চোখ। চোখের আবেদন চিরায়ত। একজোড়া সুন্দর চোখের অধিকারী হতে চায় যে কেউ। চোখ নিয়ে দুঃখও থাকে অনেকের, যদি চোখটা আরেকটু বড় হতো বা চোখটা আরেকটু সুন্দর হতো! চোখের সাজ নিয়ে তাই গবেষণার অন্ত নেই! প্রতিনিয়ত চোখের সাজের নানান ধরন অবলম্বন করে তাই অনেকেই চোখ সাজান। উপযুক্ত সাজ আরা উপকরণের মাধ্যমে চোখকে করে তোলা যায় আরো আকর্ষণীয়।

ঘরে বসেই সুন্দর আপনির সাজিয়ে নিতে পারেন আপনার দুটি চোখ। চোখের সাজ সম্পর্কে বিউটিশিয়ন অনন্যা আবেদীন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তার কাছ থেকে আসুন জেনে নেয়া যাক চোখকে সুন্দর করে সাজানোর কিছু টিপস।

চোখের সাজ শুরু করার আগে ভ্রুর দিকে নজর দিন। ভ্রুর বাড়তি চুলগুলিকে উঠিয়ে ফেলতে হবে। তারপর ছোট শক্ত ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে শেপ দিতে হবে। আইব্রো পেন্সিলের হালকা ছোট ছোট টানে ভ্রু দু’টিকে গাঢ় করে নিতে পারেন।

আসলে চোখের সাজ অনেকটাই নির্ভর করে চোখের আকৃতির ওপর। আপনার চোখ যদি হয় কিছুটা কোটরের ভেতর ঢোকানো, তবে আইশ্যাডো হওয়া চাই হালকা। চোখের পাতা ও ভেতরের দিকে হালকা আইশ্যাডো দিন। একটু গাঢ় আইশ্যাডো লাগান পাতার ওপরে, ভ্রূর নিচে। মাঝারি রঙ থেকে আরো একটু গাঢ় রঙের আইশ্যাডো লাগান চোখের বাইরের কোণে, একটু বাইরের দিকে টেনে। ভ্রূর নিচে একদম হালকা রঙের আইশ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন। আর ভ্রূ যেখানে শেষ হয়, সেই লাইনটাতে খুব সরু করে সাদা আইশ্যাডো লাগান।

এবার চিকন আইলাইনার বা কাজল চোখের ওপরের পাতায় নিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত টেনে দিন। নিচের পাতায় চাইলে খুব সরু করে কাজল নিতে পারেন। নিচের পাতায় কাজল না দিয়ে শুধু মাশকারা লাগিয়ে নিতে পারেন। চোখের ওপরের পাপড়িতেও মাশকারা দিতে পারেন। এতে আপনার চোখ বড় ও সজীব দেখাবে।

এ ধরনের চোখের পাতায় ও কোটরের ওপরের অংশজুড়ে খুব গাঢ় আইশ্যাডো লাগাবেন না। এতে চোখ আরো ভেতরের দিকে মনে হবে।

দুই চোখের মাঝে দূরত্ব যদি একটু বেশি হয়, তবে চোখের সাজ হওয়া উচিত এমন যাতে চোখ দুটি কাছাকাছি দেখায়। চোখের পাতার মধ্যভাগ থেকে ভেতরের অংশ পর্যন্ত একটু হালকা রঙের আইশ্যাডো দিন। চোখের মধ্যভাগ থেকে বাইরের দিকের অংশে একটু গাঢ় রঙের আইশ্যাডো দিন। এ দুই শেড চোখে বেস্নন্ড করে নিন। টেনে কাজল বা আইলাইনার দিন চোখের ভেতরের দিকের অংশে। চোখের ভেতরের অংশে ওপরে ও নিচে হালকা করে মিলিয়ে নিয়ে চোখ অাঁকতে পারেন।

আপনার দুই চোখের মাঝে দূরত্ব যদি কম হয়, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা আইশ্যাডো দিন মাঝবরাবর। এবার মধ্যাংশ থেকে বাইরের দিকে গাঢ় রঙের আইশ্যাডো দিন। দুটো রঙ ভালো করে মিলিয়ে দিন চোখের ওপরে। গাঢ় রঙের আইশ্যাডো চোখের কোণের বাইরে টেনে দিয়ে নিচের অংশের মাঝবরাবর দিতে পারেন। আইলাইনার বা কাজল চোখের ভেতরের অংশ থেকে কোণের বাইরে পর্যন্ত টেনে দিন। বাইরের অংশটিতে একটু গাঢ় বা মোটা করে, একটু ওপরের দিকে টেনে দিতে পারেন। এভাবে আপনার চোখ টানা-টানা ও সুন্দর দেখাবে।

আপনার চোখের আকার যদি হয় নিচের দিকে নামানো, তবে আইশ্যাডো ওপরে এবং বাইরের দিকে টেনে দিতে হবে। চোখের ভেতরের অংশে হালকা ও বাইরের কোণ থেকে নিয়ে মধ্যভাগ পর্যন্ত গাঢ় আইশ্যাডো দিন। খেয়াল রাখবেন, ওপরের অংশের গাঢ় আইশ্যাডো যেন টেনে নিচে নামিয়ে না আনা হয়। এবার চোখের ভেতরের অংশ থেকে আইলাইনার বা কাজল টেনে বাইরের অংশ পর্যন্ত দিয়ে একটু ওপরের দিকে ছড়িয়ে দিন। মধ্যভাগ থেকে বাইরের কোণ পর্যন্ত একটু মোটা করে নিন আপনার কাজল। চোখের নিচের পাতায় হালকা কাজল দিয়ে বাইরের কোণটি ওপরের কোণের সঙ্গে একটু ওপরে টেনে মিলিয়ে নিন। চোখের ওপরের পাতার পাপড়িতে ঘন করে মাশকারা লাগিয়ে নিন।

আপনার চোখ যদি চিকন ধরনের হয়, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে একটু হালকা শ্যাডো দিন। বাইরের অংশে গাঢ় শেড দিয়ে ভালো করে বেস্নন্ড করে নিন। আইলাইনার বা কাজল চোখে খুব একটা টেনে দেয়ার দরকার নেই। তাতে চোখ আরো লম্বা দেখাবে। হালকা লাইনার বা কাজল অথবা এর বদলে কালো আইশ্যাডো দিয়ে ঘন করে মাশকারা নিতে পারেন।

যাদের চোখ একটু ফোলা ধরনের, তারা চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা, চোখের কোণ ও কোটরের ওপর গাঢ় আইশ্যাডো দিয়ে চোখের ফোলাভাব কমাতে পারেন। মোটা করে কাজল বা আইলাইনারও লাগিয়ে চোখের ফোলাভাব কমানো যায়।
যাদের চোখের কোল ফোলা থাকে, তারা ওপরের ও নিচের পাতায় গাঢ় করে কাজল বা আইলাইনার টেনে একটু মোটা করে লাগাতে পারেন।

চোখ যদি মাঝারি আকারের হয়, তবে আইলাইনার বা কাজল চোখের ভেতরের কোণ থেকে টেনে নিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত লাগান। ভেতরের দিকে ওপরের ও নিচের পাতায় কাজল দিয়ে চোখ টেনে এঁকে নিন। আবার বাইরের কোণেও একটু বাড়িয়ে ওপর দিকে কাজল দিন। চোখের নিচের পাতার মাঝ থেকে বাইরের অংশ পর্যন্ত একটু মোটা করে ওপর দিকে টেনে কাজল দিন। এতে চোখ টানা-টানা ও ভাসা-ভাসা লাগবে।

আপনার চোখ যদি হয় খানিকটা গোলাকৃতির, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা ও বাইরের অংশে গাঢ় আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। কাজল বা আইলাইনার চোখের ভেতরের কোণে হালকা করে লাগিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত চিকন করে টেনে লাগান। বাইরের কোণে কাজল একটু মোটা বা ঊর্ধ্বমুখী করতে পারেন। চোখের নিচের পাতার কোণের সঙ্গে কাজল টেনে ওপরের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দিন।

আইশ্যাডো ব্যবহার করতে না চাইলে মুখে হালকা ফেস পাউডার দিয়ে, চোখে শুধু কাজল দিয়েও হয়ে উঠতে পারেন নজরকাড়া সুন্দরী। প্রসাধনীতে সুরমার প্রচলন এখনো আছে। টেনে সুরমা দিলে চোখ টানা টানা লাগে। আবার হালকা করে চোখের ওপরের পাতায় কাজলের সঙ্গে মাশকারা লাগাতে পারেন।

ইদানিং চোখের সঙ্গে স্মোকি আইস বা কালো ধরনের মেকআপ খুব প্রচলিত। এতে প্রথমে চোখের পাতায় একটি বেজ লাগিয়ে নিন। হালকা বাদামি রঙের শেড দিন বাইরের কোণ থেকে চোখের কোটরের ওপর দিয়ে ভেতর পর্যন্ত। একটু কালো বা গাঢ় বাদামি রঙের শ্যাডো লাগান চোখের পাতার বাইরের কোণ থেকে ভেতরে চোখের কোটরের লাইন-বরাবর। আইলাইনার বা কাজল লাগান গাঢ় করে, চোখের পাতার ভেতরের অংশ থেকে বাইরের অংশ পর্যন্ত। নিচের পাতায় কাজল দিন। কাজলের বদলে আইশ্যাডো দিতে পারেন। ভ্রূর নিচে একটু হালকা সোনালি আইশ্যাডো দিন।

চোখে ভাসা-ভাসা একটা ভাব আনতে চোখের ওপর নিচের পাতায় কাজল দিন। এবার আঙুল দিয়ে চোখের ওপরের পাতার কাজল একটু ওপরের দিকে ঘষে মিশিয়ে দিন।

অনেকে বুঝতে পারেন না, কাজল ও আইলাইনার দেওয়ার আগে আইশ্যাডো ব্যবহার করবেন, নাকি পরে? এক্ষেত্রে পরামর্শ হলো শুরুতে চোখের ওপরের পুরো জায়গায় আইশ্যাডো দিতে হবে। সে সময় দুই বা তিন শেডের আইশ্যাডো দিতে পারেন। এরপর চোখ সুন্দর দেখাতে চাইলে চোখের পাতার একদম ভেতর দিয়ে কাজল দিন।

এবার আইলাইনার বা কাজল চোখের ওপরে বা নিচে দিতে হবে। তবে চোখ আকর্ষণীয় করার জন্য ঘন করে মাশকারা দিতে হবে। একবার মাশকারা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে আবার মাশকারা দিন। খেয়াল রাখবেন, মাশকারা দেওয়ার সময় চোখের ওপরের পাতা ওপরের দিকে উঠিয়ে দিতে হবে। আর পাতাগুলো যেন একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে না যায়।

চোখের পাশাপাশি ভ্রুও সাজাতে হবে। আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন। বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে বাদামি আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

চোখের সাজ আপনার পোশাকের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া চাই। ভ্রূর ক্ষেত্রে কাজল ব্যবহার না করে, বাদামি ভ্রূ পেনসিল বা বাদামি আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। এ ছাড়া চোখ আরো দৃষ্টিনন্দন করতে ব্যবহার করতে পারেন আলগা আইল্যাশ। আপনার চোখ ও মন বুঝে একেক ধরনের নিতে পারেন একেক সাজ। কখনো চিকন, কখনো টেনে কাজল দিয়ে আপনি হয়ে উঠতে পারেন দৃষ্টিনন্দিত।

চোখের সাজ আরো আকর্ষণীয় করতে আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই বিভিন্ন রঙের লেন্স পরতে পারেন।