ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জানুয়ারী ২০২১
  • ২৯৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সবকিছু ঠিক থাকলে ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে কী আলোচনা হবে সেটি ঠিক করতে এ মাসের শেষে ভারতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার আগে যাওয়ার কথা ছিলো। তখন যেতে পারলে শীর্ষ যে বৈঠকটি হয়ে গেল (গত ১৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক) সেটির প্রস্তুতিমূলক কাজ করা যেত। এখন জানুয়ারির শেষে যাওয়ার বিষয়টি ঠিক হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা জানি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৬ মার্চ ঢাকায় আসার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। সুতরাং সেটিকে মাথায় রেখে সম্প্রতি আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার পরে যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে অনেক ক্লু দেওয়া আছে বা সিদ্ধান্তের কথা আছে। সেগুলো এবং ২৬ মার্চ যখন আসবেন তখন কী আলোচনা করা যায় সেটির মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এজেন্ডা কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠক, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চুয়াল সামিট এবং ২৬ মার্চে স্বশরীরে বৈঠককে মাথায় রেখে আমরা এজেন্ডা ঠিক করবো। নতুন নতুন বিষয় নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি। সম্পর্কে যে কণ্টকতা আছে সেটি যেন অন্যান্য যে সুযোগগুলো আছে সেগুলোকে প্রভাবিত না করে। কণ্টকতা থাকবে এবং এটি বিশ্বের সব প্রতিবেশীর মধ্যে থাকবে। ছোট ও বড় হলে অন্য ধরনের মাত্রা যোগ হয়। কিন্তু এটি যেন অন্যখাতে এগিয়ে যেতে আমাদের আটকে না রাখে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, নতুন যে উপাদানগুলো বের হয়ে এসেছে সেগুলোকে কীভাবে এগিয়ে নিতে পারি- যেমন কানেক্টিভিটি, ইনফরমেশন টেকনোলজি, লাইন অফ ক্রেডিটের গতি কীভাবে বাড়ানো যেতে পারে, এইসব বিষয় আসবে। এছাড়া প্রথাগত যে বিষয়গুলো আছে যা আমরা প্রতিবারই তাদের কাছে তুলে ধরি- যেমন তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, স্থল সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয়, অন্য নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা, এরমধ্যে কিছু অগ্রগতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের ভালো বৈঠক হয়েছে। এখন বৈঠক ভালো হচ্ছে। কিন্তু দেখার বিষয় এর ফলাফল কী হচ্ছে বা সেখানে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হচ্ছে সেটির বাস্তবায়ন কতদূর হচ্ছে। না হলে কেন হচ্ছে না এবং কী হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।

ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অসুবিধার মধ্যে পড়েন। এ বিষয়ে সচিব বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু বাণিজ্য ইস্যু রয়েছে। যেমন শুল্ক ও অশুল্ক বাধা। আমরা তাদের বলেছি যদি তারা কোনও বাধা আরোপ করে তবে একটি নোটিশ দিয়ে করলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। নাহলে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে জনগণ মন্তব্য করে। যেমন হয়েছে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে। এগুলো যেন ভবিষ্যতে না হয় সেটার জন্য তাদের খেয়াল রাখতে বলেছি।

জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এতদিন চিন্তা করতাম আমাদের উৎপাদন কম। কিন্তু এখন আমরা চিন্তা করছি আমাদের বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত হলে কী করা যায়। যদি এই অঞ্চলে কম উৎপাদন হয়, তবে আমরা বিদ্যুৎ বাণিজ্য করতে পারি। এতদিন বিদ্যুৎ বাণিজ্য মানে আমাদের নিতে হবে। কিন্তু এখন আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে এবং শিগগিরই বড় বড় বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো উৎপাদনে যাবে। এরসঙ্গে রূপপুর যদি আমরা পেয়ে যাই তবে সেটি উৎপাদন বড় আকারে বাড়িয়ে দেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব

আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জানুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সবকিছু ঠিক থাকলে ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে কী আলোচনা হবে সেটি ঠিক করতে এ মাসের শেষে ভারতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার আগে যাওয়ার কথা ছিলো। তখন যেতে পারলে শীর্ষ যে বৈঠকটি হয়ে গেল (গত ১৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক) সেটির প্রস্তুতিমূলক কাজ করা যেত। এখন জানুয়ারির শেষে যাওয়ার বিষয়টি ঠিক হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা জানি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৬ মার্চ ঢাকায় আসার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। সুতরাং সেটিকে মাথায় রেখে সম্প্রতি আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার পরে যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে অনেক ক্লু দেওয়া আছে বা সিদ্ধান্তের কথা আছে। সেগুলো এবং ২৬ মার্চ যখন আসবেন তখন কী আলোচনা করা যায় সেটির মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এজেন্ডা কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠক, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চুয়াল সামিট এবং ২৬ মার্চে স্বশরীরে বৈঠককে মাথায় রেখে আমরা এজেন্ডা ঠিক করবো। নতুন নতুন বিষয় নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি। সম্পর্কে যে কণ্টকতা আছে সেটি যেন অন্যান্য যে সুযোগগুলো আছে সেগুলোকে প্রভাবিত না করে। কণ্টকতা থাকবে এবং এটি বিশ্বের সব প্রতিবেশীর মধ্যে থাকবে। ছোট ও বড় হলে অন্য ধরনের মাত্রা যোগ হয়। কিন্তু এটি যেন অন্যখাতে এগিয়ে যেতে আমাদের আটকে না রাখে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, নতুন যে উপাদানগুলো বের হয়ে এসেছে সেগুলোকে কীভাবে এগিয়ে নিতে পারি- যেমন কানেক্টিভিটি, ইনফরমেশন টেকনোলজি, লাইন অফ ক্রেডিটের গতি কীভাবে বাড়ানো যেতে পারে, এইসব বিষয় আসবে। এছাড়া প্রথাগত যে বিষয়গুলো আছে যা আমরা প্রতিবারই তাদের কাছে তুলে ধরি- যেমন তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, স্থল সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয়, অন্য নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা, এরমধ্যে কিছু অগ্রগতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের ভালো বৈঠক হয়েছে। এখন বৈঠক ভালো হচ্ছে। কিন্তু দেখার বিষয় এর ফলাফল কী হচ্ছে বা সেখানে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হচ্ছে সেটির বাস্তবায়ন কতদূর হচ্ছে। না হলে কেন হচ্ছে না এবং কী হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।

ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অসুবিধার মধ্যে পড়েন। এ বিষয়ে সচিব বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু বাণিজ্য ইস্যু রয়েছে। যেমন শুল্ক ও অশুল্ক বাধা। আমরা তাদের বলেছি যদি তারা কোনও বাধা আরোপ করে তবে একটি নোটিশ দিয়ে করলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। নাহলে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে জনগণ মন্তব্য করে। যেমন হয়েছে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে। এগুলো যেন ভবিষ্যতে না হয় সেটার জন্য তাদের খেয়াল রাখতে বলেছি।

জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এতদিন চিন্তা করতাম আমাদের উৎপাদন কম। কিন্তু এখন আমরা চিন্তা করছি আমাদের বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত হলে কী করা যায়। যদি এই অঞ্চলে কম উৎপাদন হয়, তবে আমরা বিদ্যুৎ বাণিজ্য করতে পারি। এতদিন বিদ্যুৎ বাণিজ্য মানে আমাদের নিতে হবে। কিন্তু এখন আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে এবং শিগগিরই বড় বড় বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো উৎপাদনে যাবে। এরসঙ্গে রূপপুর যদি আমরা পেয়ে যাই তবে সেটি উৎপাদন বড় আকারে বাড়িয়ে দেবে।