ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর চারপাশে বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৩১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২০
  • ২৬০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, এমন পূর্বাভাস আগেই দেয়া হয়েছিল। লক্ষ করা গেছে, দেশের এক অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অন্য অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

বস্তুত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই রাজধানীর আশপাশের নদ-নদীতেও পানিপ্রবাহ বেড়েছে। রাজধানীর চারদিকে বন্যার পানি থইথই করছে। দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি জমা হচ্ছে মধ্যাঞ্চলে।

এখনও রাজধানীর নিম্নাঞ্চলসহ দেশের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দেশের কোনো কোনো এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সেসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে নানা রকম রোগ-ব্যাধির প্রকোপ বেড়েছে।

বস্তুত, বালু নদীসহ বুড়িগঙ্গায় পানি বৃদ্ধির কারণেও রাজধানীর চারপাশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এদিকে তুরাগ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কেরানীগঞ্জ ও সাভারের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জানা গেছে, তুরাগের পানি বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও প্লাবনের আরেকটি কারণ একটি খালের উপর স্থানীয়দের তৈরি করা অবৈধ বাঁধ। এমন অবৈধ বাঁধ বা অন্য কোনো অবৈধ স্থাপনার কারণে রাজধানী ও এর আশপাশের আর কোনো এলাকার পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

দেশের ভেতরে ও বাইরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি থমকে গেছে। এছাড়া উজান থেকে আবারও বানের পানি নেমে এসে যে কোনো সময় দেশের বিভিন্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

জানা গেছে, জোয়ারের কারণে সাগরে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি সাগরে নিষ্কাশন হওয়া কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। বন্যার কারণে বহু লোকের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলও নষ্ট হয়েছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। যারা বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর চারপাশে বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে

আপডেট টাইম : ০১:৩১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, এমন পূর্বাভাস আগেই দেয়া হয়েছিল। লক্ষ করা গেছে, দেশের এক অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অন্য অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

বস্তুত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই রাজধানীর আশপাশের নদ-নদীতেও পানিপ্রবাহ বেড়েছে। রাজধানীর চারদিকে বন্যার পানি থইথই করছে। দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি জমা হচ্ছে মধ্যাঞ্চলে।

এখনও রাজধানীর নিম্নাঞ্চলসহ দেশের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দেশের কোনো কোনো এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সেসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে নানা রকম রোগ-ব্যাধির প্রকোপ বেড়েছে।

বস্তুত, বালু নদীসহ বুড়িগঙ্গায় পানি বৃদ্ধির কারণেও রাজধানীর চারপাশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এদিকে তুরাগ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কেরানীগঞ্জ ও সাভারের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জানা গেছে, তুরাগের পানি বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও প্লাবনের আরেকটি কারণ একটি খালের উপর স্থানীয়দের তৈরি করা অবৈধ বাঁধ। এমন অবৈধ বাঁধ বা অন্য কোনো অবৈধ স্থাপনার কারণে রাজধানী ও এর আশপাশের আর কোনো এলাকার পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

দেশের ভেতরে ও বাইরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি থমকে গেছে। এছাড়া উজান থেকে আবারও বানের পানি নেমে এসে যে কোনো সময় দেশের বিভিন্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

জানা গেছে, জোয়ারের কারণে সাগরে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি সাগরে নিষ্কাশন হওয়া কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। বন্যার কারণে বহু লোকের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলও নষ্ট হয়েছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। যারা বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।