ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশপুরের ১৫ চাষি ৫ কোটি টাকার মাছ রফতানি করেছেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২০
  • ২৯৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নে পাবদা মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ১৫ জন মাছ চাষি। আর তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। গত এক বছরে ৫ কোটি টাকারও বেশি পাবদা মাছ ভারতে রফতানি করেছেন মহেশপুরের এই ১৫ জন মাছ চাষি। তাদের আশা এ বছর ৮ কোটি টাকার পাবদা মাছ তারা ভারতে রফতানি করতে পারবেন।

বাগান মাঠ গ্রামের পাবদা মাছ চাষি জাহেদ আলী জানান, প্রথমে আমরা ২/৩ জন পাবদা মাছের চাষ শুরু করেছিলাম। তখন আমাদের মাছ আমরা এলাকাতেই বিক্রি করতাম। পরে ভারতের বনগা ও বারাসাতের মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা আমাদের মাছ কেনার আগ্রহ দেখান। এরপর আর আমাদের মাছ ব্যবসায়ীদের খোঁজা লাগেনি। গত বছর আমরা ১৫ জন মাছ চাষি ২৫ হেক্টর জলাশয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। ২৫ হেক্টর জলাশয় থেকে ১৩০ মেট্রিকটন মাছ আমরা ভারতের বনগা ও বারাসাতে রফতানি করেছি।

তিনি আরো জানান, ১৩০ মেট্রিকটন মাছ আমরা ভারতে ৩৬০ টাকা কেজি দরে রফতানি করে ৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছি। আশা করি এ বছর ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার মাছ ভারতে রফতানি করতে পারবো।

পান্তাপাড়া গ্রামের মাছ চাষি আনোয়ার পারভেজ জানান, প্রতি পিস পাবদা মাছের পোনা ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা দরে ময়মনসিংহ গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ক্রয় করা হয়। ময়মনসিংহ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ গাড়িতে করে আমাদের পুকুর পর্যন্ত মাছের পোনা পৌঁছিয়ে দেন। পরে ৬ থেকে ৮ মাস পরিচর্যার মাধ্যমে মাছগুলো বড় করে তুলি। তিনি আরো জানান, ভারতের মাছ ব্যবসায়ীরা আমাদের পুকুরে এসে প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৩৬০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে নিয়ে যান। মাছ বিক্রিতে আমাদের কোনো খরচ হয় না। এ বছর এলাকায় আরো পাবদা মাছ চাষি বেড়েছে। আশা করি গত বছরের তুলনায় আমরা এবার দ্বিগুণ মাছ ভারতে রফতানি করতে পারবো।

পাবদা মাছ চাষি আলীউজ্জামান জানান, গত বছর মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়নে আনোয়ার পারভেজ, আক্তার, সালাম, বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের জাহেদ আলী, নয়ন, খোকন, শাহাবুদ্দীন, মোসলেম, মজনু, সমান ও নস্তি গ্রামের নিত্যপদ, শ্রীপুরের সাইফুল, জাগুসা গ্রামের নুর হোসেন এবং মহেশপুরের রবীন্দ্রনাথ হালদার এ পাবদা মাছের চাষ করেছিলো। এবছর আরো মাছ চাষির সংখ্যা বেড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, মাছের পোনা ক্রয় থেকে শুরু করে আমরা মাছ চাষিদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছি। গত বছর উপজেলার ১৫ জন পাবদা মাছ চাষি ছিলো। এবছর তা বেড়ে ৩০ জন হয়েছে। আশা করি এবছর আমার এলাকার পাবদা মাছ চাষিরা প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছ ভারতে রফতানি করতে পারবে। তিনি আরো জানান, প্রতি পিস পাবদা মাছের পোনা ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা দরে ময়ময়সিং গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ক্রয় করা হয়। কিন্তু ময়মনসিংহ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ নিজেদের গাড়িতে করেই তা চাষিদের পুকুর পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ফলে চাষিদের মাছের পোনা আনার খরচটা বেচে যায়। আবার বিক্রয়ের সময় ভারতের ব্যবসায়ীরা পুকুর পাড়ে এসে তা ক্রয় করে নিয়ে যান। ফলে এলাকার অনেকেই এখন পাবদা মাছ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশপুরের ১৫ চাষি ৫ কোটি টাকার মাছ রফতানি করেছেন

আপডেট টাইম : ০৩:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নে পাবদা মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ১৫ জন মাছ চাষি। আর তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। গত এক বছরে ৫ কোটি টাকারও বেশি পাবদা মাছ ভারতে রফতানি করেছেন মহেশপুরের এই ১৫ জন মাছ চাষি। তাদের আশা এ বছর ৮ কোটি টাকার পাবদা মাছ তারা ভারতে রফতানি করতে পারবেন।

বাগান মাঠ গ্রামের পাবদা মাছ চাষি জাহেদ আলী জানান, প্রথমে আমরা ২/৩ জন পাবদা মাছের চাষ শুরু করেছিলাম। তখন আমাদের মাছ আমরা এলাকাতেই বিক্রি করতাম। পরে ভারতের বনগা ও বারাসাতের মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা আমাদের মাছ কেনার আগ্রহ দেখান। এরপর আর আমাদের মাছ ব্যবসায়ীদের খোঁজা লাগেনি। গত বছর আমরা ১৫ জন মাছ চাষি ২৫ হেক্টর জলাশয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। ২৫ হেক্টর জলাশয় থেকে ১৩০ মেট্রিকটন মাছ আমরা ভারতের বনগা ও বারাসাতে রফতানি করেছি।

তিনি আরো জানান, ১৩০ মেট্রিকটন মাছ আমরা ভারতে ৩৬০ টাকা কেজি দরে রফতানি করে ৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছি। আশা করি এ বছর ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার মাছ ভারতে রফতানি করতে পারবো।

পান্তাপাড়া গ্রামের মাছ চাষি আনোয়ার পারভেজ জানান, প্রতি পিস পাবদা মাছের পোনা ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা দরে ময়মনসিংহ গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ক্রয় করা হয়। ময়মনসিংহ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ গাড়িতে করে আমাদের পুকুর পর্যন্ত মাছের পোনা পৌঁছিয়ে দেন। পরে ৬ থেকে ৮ মাস পরিচর্যার মাধ্যমে মাছগুলো বড় করে তুলি। তিনি আরো জানান, ভারতের মাছ ব্যবসায়ীরা আমাদের পুকুরে এসে প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৩৬০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে নিয়ে যান। মাছ বিক্রিতে আমাদের কোনো খরচ হয় না। এ বছর এলাকায় আরো পাবদা মাছ চাষি বেড়েছে। আশা করি গত বছরের তুলনায় আমরা এবার দ্বিগুণ মাছ ভারতে রফতানি করতে পারবো।

পাবদা মাছ চাষি আলীউজ্জামান জানান, গত বছর মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়নে আনোয়ার পারভেজ, আক্তার, সালাম, বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের জাহেদ আলী, নয়ন, খোকন, শাহাবুদ্দীন, মোসলেম, মজনু, সমান ও নস্তি গ্রামের নিত্যপদ, শ্রীপুরের সাইফুল, জাগুসা গ্রামের নুর হোসেন এবং মহেশপুরের রবীন্দ্রনাথ হালদার এ পাবদা মাছের চাষ করেছিলো। এবছর আরো মাছ চাষির সংখ্যা বেড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, মাছের পোনা ক্রয় থেকে শুরু করে আমরা মাছ চাষিদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছি। গত বছর উপজেলার ১৫ জন পাবদা মাছ চাষি ছিলো। এবছর তা বেড়ে ৩০ জন হয়েছে। আশা করি এবছর আমার এলাকার পাবদা মাছ চাষিরা প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছ ভারতে রফতানি করতে পারবে। তিনি আরো জানান, প্রতি পিস পাবদা মাছের পোনা ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা দরে ময়ময়সিং গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ক্রয় করা হয়। কিন্তু ময়মনসিংহ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ নিজেদের গাড়িতে করেই তা চাষিদের পুকুর পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ফলে চাষিদের মাছের পোনা আনার খরচটা বেচে যায়। আবার বিক্রয়ের সময় ভারতের ব্যবসায়ীরা পুকুর পাড়ে এসে তা ক্রয় করে নিয়ে যান। ফলে এলাকার অনেকেই এখন পাবদা মাছ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।