ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবারও দেশ থেকে অর্থ পাচার বাড়ছেই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২০
  • ২৮৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এবারও দেশ থেকে অস্বাভাবিক হারে টাকা পাচারের তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা করে গত সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার ২৭০ কোটি ডলারের সমমূল্যের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

বলা প্রয়োজন, টাকার এ অঙ্ক দেশের চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান। উল্লেখ্য, জিএফআই হল ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বা মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে থাকে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে অর্থ পাচার রোধে নানারকম পরামর্শ ও নীতিগত সহায়তা দিয়ে থাকে।

অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটছে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়াসহ নানাভাবে, যদিও এটি একটি বড় অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইনও করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচারের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। আইনগতভাবে দেশের বাইরে টাকা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও গত ১৫ বছরে অনেকে মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউএই ইত্যাদি দেশে বাড়ি-ফ্ল্যাট ক্রয় ছাড়াও নানা ব্যবসা-বাণিজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বহুল আলোচিত পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সেও অনেক বাংলাদেশির নাম এসেছে।

টাকা পাচারের একটি বড় কারণ দুর্নীতি। দুর্নীতি বেড়েছে বলেই অর্থ পাচারের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রবণতা বন্ধ না হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিপুল অঙ্কের টাকা পাচারের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির সফল বাস্তবায়ন যে বাধাগ্রস্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি বেশ কিছুদিন আগে একটি ‘ত্বরিত মূল্যায়ন জরিপ’ সম্পন্ন করেছিল।

ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ৬১ শতাংশ দেশ থেকে টাকা পাচার বাড়ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। দেখা যাচ্ছে জিএফআই’র প্রতিবেদনও সে তথ্যই দিচ্ছে। বস্তুত, অর্থ পাচার রোধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। বলার অপেক্ষা রাখে না, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এবং একই সঙ্গে দুর্নীতি কমলে বিদেশে অর্থ পাচার হ্রাস পাবে। তবে এক্ষেত্রেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা পাচারের বিষয়ে সরকার অবহিত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না; কারণ প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীদের অনেকেই অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তবে অর্থ পাচার প্রক্রিয়ায় কেবল রাজনীতিক নন; দেশের অনেক ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন জড়িত, যারা নীতি-নৈতিকতা ও দেশপ্রেম ভুলে বিদেশে অর্থ পাচার করছেন।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে টাকা পাচার প্রতিরোধ করতে হবে যে কোনো উপায়ে। এজন্য সর্বাগ্রে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। বন্ধ করতে হবে পাচারের ছিদ্রগুলো। অর্থ পাচারকারীরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও দেশ থেকে অর্থ পাচার বাড়ছেই

আপডেট টাইম : ০১:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এবারও দেশ থেকে অস্বাভাবিক হারে টাকা পাচারের তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা করে গত সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার ২৭০ কোটি ডলারের সমমূল্যের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

বলা প্রয়োজন, টাকার এ অঙ্ক দেশের চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান। উল্লেখ্য, জিএফআই হল ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বা মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে থাকে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে অর্থ পাচার রোধে নানারকম পরামর্শ ও নীতিগত সহায়তা দিয়ে থাকে।

অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটছে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়াসহ নানাভাবে, যদিও এটি একটি বড় অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইনও করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচারের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। আইনগতভাবে দেশের বাইরে টাকা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও গত ১৫ বছরে অনেকে মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউএই ইত্যাদি দেশে বাড়ি-ফ্ল্যাট ক্রয় ছাড়াও নানা ব্যবসা-বাণিজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বহুল আলোচিত পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সেও অনেক বাংলাদেশির নাম এসেছে।

টাকা পাচারের একটি বড় কারণ দুর্নীতি। দুর্নীতি বেড়েছে বলেই অর্থ পাচারের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রবণতা বন্ধ না হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিপুল অঙ্কের টাকা পাচারের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির সফল বাস্তবায়ন যে বাধাগ্রস্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি বেশ কিছুদিন আগে একটি ‘ত্বরিত মূল্যায়ন জরিপ’ সম্পন্ন করেছিল।

ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ৬১ শতাংশ দেশ থেকে টাকা পাচার বাড়ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। দেখা যাচ্ছে জিএফআই’র প্রতিবেদনও সে তথ্যই দিচ্ছে। বস্তুত, অর্থ পাচার রোধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। বলার অপেক্ষা রাখে না, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এবং একই সঙ্গে দুর্নীতি কমলে বিদেশে অর্থ পাচার হ্রাস পাবে। তবে এক্ষেত্রেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা পাচারের বিষয়ে সরকার অবহিত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না; কারণ প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীদের অনেকেই অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তবে অর্থ পাচার প্রক্রিয়ায় কেবল রাজনীতিক নন; দেশের অনেক ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন জড়িত, যারা নীতি-নৈতিকতা ও দেশপ্রেম ভুলে বিদেশে অর্থ পাচার করছেন।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে টাকা পাচার প্রতিরোধ করতে হবে যে কোনো উপায়ে। এজন্য সর্বাগ্রে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। বন্ধ করতে হবে পাচারের ছিদ্রগুলো। অর্থ পাচারকারীরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।