ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা বন্দরের সুদিন ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:১২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • ২৯১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোংলা বন্দরের সুদিন ফিরিয়ে এনে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি এই বন্দরকে রপ্তানি উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এ জন্য বন্দরটির সক্ষমতা বাড়াতে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এ কাজে মূল সমস্যাই হচ্ছে নদীতে পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকা।

বাগেরহাটের পশুর নদীর তীরে অবস্থিত এ বন্দরের জেটিতে বড় জাহাজ ভিড়তে পারছে না মূলত নদীর গভীরতা সংকটে। এখানে বর্তমানে যে গভীরতা রয়েছে, তা সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে চাইলেও এ বন্দরের কার্যক্রম সেভাবে সচল করা যাচ্ছে না। তাই বন্দরটির কার্যক্রম সচল করতে প্রয়োজনীয় গভীরতা বাড়ানো জরুরি। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত এমন তথ্যের ভিত্তিতে এবার মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের ব্যয়ের পুরোটাই আসবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। আর বাস্তবায়ন হবে ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে।

প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর সম্মতি নেয়া হয়।

এ প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে। বেড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধিও। এতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য চললেও এখন সেখানে চাপ বেড়েছে। তাই সেখানকার চাপ কিছুটা হলেও কমাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চায় সরকার। এ কারণেই এখানকার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এতদিন গভীরতা সংকটে এ বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়তো না। তাই বন্দরের কিছুটা গভীরতা বাড়াবে প্রকল্পটি। এটুকু বাড়াতে পারলেই এখানে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে কয়েকগুণ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় কাটার সাকশান ড্রেজার দিয়ে নদীর ডেজিং করা হবে ১৫৭ দশমিক ৭৫ লাখ ঘনমিটার, ট্রেইলিং সাকশান হপার ড্রেজার দিয়ে ডেজিং করা হবে ৫৮ দশমিক ৩৪ লাখ ঘনমিটার, ডাইক নির্মাণ করা হবে ২ লাখ ঘনমিটার এবং জিয়োটিউব ডাইক নির্মাণ করা হবে শূন্য দশমিক ৫০ লাখ ঘনমিটার। মোংলা বন্দরকে রপ্তানি উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের চলমান ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জোর দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি মোংলা বন্দরের জেটিতে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রয়োজনীয় গভীরতা অর্জন করার জন্য একটি উচ্চ-অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা বন্দরের সুদিন ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার

আপডেট টাইম : ০৪:১২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোংলা বন্দরের সুদিন ফিরিয়ে এনে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি এই বন্দরকে রপ্তানি উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এ জন্য বন্দরটির সক্ষমতা বাড়াতে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এ কাজে মূল সমস্যাই হচ্ছে নদীতে পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকা।

বাগেরহাটের পশুর নদীর তীরে অবস্থিত এ বন্দরের জেটিতে বড় জাহাজ ভিড়তে পারছে না মূলত নদীর গভীরতা সংকটে। এখানে বর্তমানে যে গভীরতা রয়েছে, তা সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে চাইলেও এ বন্দরের কার্যক্রম সেভাবে সচল করা যাচ্ছে না। তাই বন্দরটির কার্যক্রম সচল করতে প্রয়োজনীয় গভীরতা বাড়ানো জরুরি। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত এমন তথ্যের ভিত্তিতে এবার মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের ব্যয়ের পুরোটাই আসবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। আর বাস্তবায়ন হবে ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে।

প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর সম্মতি নেয়া হয়।

এ প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে। বেড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধিও। এতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য চললেও এখন সেখানে চাপ বেড়েছে। তাই সেখানকার চাপ কিছুটা হলেও কমাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চায় সরকার। এ কারণেই এখানকার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এতদিন গভীরতা সংকটে এ বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়তো না। তাই বন্দরের কিছুটা গভীরতা বাড়াবে প্রকল্পটি। এটুকু বাড়াতে পারলেই এখানে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে কয়েকগুণ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় কাটার সাকশান ড্রেজার দিয়ে নদীর ডেজিং করা হবে ১৫৭ দশমিক ৭৫ লাখ ঘনমিটার, ট্রেইলিং সাকশান হপার ড্রেজার দিয়ে ডেজিং করা হবে ৫৮ দশমিক ৩৪ লাখ ঘনমিটার, ডাইক নির্মাণ করা হবে ২ লাখ ঘনমিটার এবং জিয়োটিউব ডাইক নির্মাণ করা হবে শূন্য দশমিক ৫০ লাখ ঘনমিটার। মোংলা বন্দরকে রপ্তানি উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের চলমান ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জোর দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি মোংলা বন্দরের জেটিতে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রয়োজনীয় গভীরতা অর্জন করার জন্য একটি উচ্চ-অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।