ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যেভাবে অর্থনীতি সমৃদ্ধ করেছিলেন দ্বিতীয় ওমর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯
  • ২৮৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ। ইসলামি খেলাফতের এ আমির প্রথমত বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিত। দ্বিতিয়ত তিনি ইসলামি অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধশালী করার জন্য ব্যাপক পরিচিত। তাকে হত্যার করার বিনিময়ে পাওয়া টাকাও তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করেছিলেন।

যে কারণে তাঁর আমলেই জাকাত গ্রহণ  করার মতো কোনো লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। তিনিই ইসলামি অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করেছিলেন। একটি ঘটনাই তার প্রমাণ। তাকে বিষ প্রয়োগে মারার জন্য চুক্তির টাকাও তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঘটনাটি হলো-

ন্যায়নীতি ও সুদৃঢ় ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়নের কারণে খলিফা হজরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন অনেকের বিরাগভাজন। তার বিরোধী লোক ও হিংসকারী ছিল অনেক।

এসব কুচক্রী ও হিংসাকারীরা যখন বুঝতে পারছিলো যে, খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের কারণে তারা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা পাবে না। তখন তারা খলিফাকে বিষ প্রয়োগের হত্যার জঘন্য চক্রান্তে লিপ্ত হলো।

সে সময় তারা খলিফার এক খাদেমের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হলো যে, খাদেম তাদের দেয়া বিষ খলিফার খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেবে। বিনিময়ে খাদেমকে দেয়া হলো ১০০০ দিনার।

খাদেম চুক্তি অনুযায়ী তাদের (কুচক্রীদের) দেয়া বিষ খলিফার খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। খলিফাও তা খেয়ে ফেলে। আর এতে খলিফা অসুস্থ হয়ে পড়ে। খলিফার সুস্থতায় চিকিৎসক আনা হলো।

চিকিৎসক বললেন, ‘হে আমিরুল মুমিনিন! আপনাকে খাদ্যের সঙ্গে বিষ খাওয়ানো হয়েছে।

খলিফা বললেন, ‘যেদিন আমাকে বিষ মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছিল, সে দিনই আমি তা অনুভব করি।

অতঃপর খলিফা ওই খাদেমকে ডাকেন এবং খাবারের সঙ্গে সে বিষ প্রয়োগ করেছিল কিনা জানতে চান। তিনি আরও জানতে চান-
وَيْحَكَ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟
তোমার ক্ষতি হোক এমন কাজ করতে কে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে?

খাদেম বলে, ‘সে ১০০০ দিনারের বিনিময়ে এ কাজ করেছিল।

এবার খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ খাদেমকে নির্দেশ দিলেন- যাও, দ্রুত তোমার বিনিময়ে টাকা (১০০০ দিনার) নিয়ে আস।

খাদেম দিনারগুলো নিয়ে আসলে খলিফা তাকে নির্দেশ দিলেন এসব অর্থ রাষ্ট্রীয় বায়তুল মালে জমা করে দাও। অর্থ বায়তুল মালে জমা হওয়ার পর খাদেমের প্রতি খলিফর নির্দেশ ছিল এমন-
‘এবার তুমি এমন কোনো স্থানে পলায়ন কর, যেখান থেকে লোকেরা তোমাকে খুঁজে বের করতে পারবে না। লোকেরা তোমাকে যদি খুঁজে পায় তবে তোমাকে হত্যা করে ফেলবে।’

খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ মৃত্যু সন্নিকটে এসেও ইসলামি অর্থনীতির কথা চিন্তা করেই কোনো রকম দেরি না করে তা তাকে হত্যার চুক্তির টাকাও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আর এ কারণেই খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহুর আমলে জাকাতের অর্থ দেয়ার মতো লোক পাওয়া ছিল দুষ্কর। সে সময়টি ছিল ইসলামি অর্থনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে অর্থনীতি সমৃদ্ধ করেছিলেন দ্বিতীয় ওমর

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ। ইসলামি খেলাফতের এ আমির প্রথমত বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিত। দ্বিতিয়ত তিনি ইসলামি অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধশালী করার জন্য ব্যাপক পরিচিত। তাকে হত্যার করার বিনিময়ে পাওয়া টাকাও তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করেছিলেন।

যে কারণে তাঁর আমলেই জাকাত গ্রহণ  করার মতো কোনো লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। তিনিই ইসলামি অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করেছিলেন। একটি ঘটনাই তার প্রমাণ। তাকে বিষ প্রয়োগে মারার জন্য চুক্তির টাকাও তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঘটনাটি হলো-

ন্যায়নীতি ও সুদৃঢ় ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়নের কারণে খলিফা হজরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন অনেকের বিরাগভাজন। তার বিরোধী লোক ও হিংসকারী ছিল অনেক।

এসব কুচক্রী ও হিংসাকারীরা যখন বুঝতে পারছিলো যে, খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের কারণে তারা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা পাবে না। তখন তারা খলিফাকে বিষ প্রয়োগের হত্যার জঘন্য চক্রান্তে লিপ্ত হলো।

সে সময় তারা খলিফার এক খাদেমের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হলো যে, খাদেম তাদের দেয়া বিষ খলিফার খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেবে। বিনিময়ে খাদেমকে দেয়া হলো ১০০০ দিনার।

খাদেম চুক্তি অনুযায়ী তাদের (কুচক্রীদের) দেয়া বিষ খলিফার খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। খলিফাও তা খেয়ে ফেলে। আর এতে খলিফা অসুস্থ হয়ে পড়ে। খলিফার সুস্থতায় চিকিৎসক আনা হলো।

চিকিৎসক বললেন, ‘হে আমিরুল মুমিনিন! আপনাকে খাদ্যের সঙ্গে বিষ খাওয়ানো হয়েছে।

খলিফা বললেন, ‘যেদিন আমাকে বিষ মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছিল, সে দিনই আমি তা অনুভব করি।

অতঃপর খলিফা ওই খাদেমকে ডাকেন এবং খাবারের সঙ্গে সে বিষ প্রয়োগ করেছিল কিনা জানতে চান। তিনি আরও জানতে চান-
وَيْحَكَ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟
তোমার ক্ষতি হোক এমন কাজ করতে কে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে?

খাদেম বলে, ‘সে ১০০০ দিনারের বিনিময়ে এ কাজ করেছিল।

এবার খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ খাদেমকে নির্দেশ দিলেন- যাও, দ্রুত তোমার বিনিময়ে টাকা (১০০০ দিনার) নিয়ে আস।

খাদেম দিনারগুলো নিয়ে আসলে খলিফা তাকে নির্দেশ দিলেন এসব অর্থ রাষ্ট্রীয় বায়তুল মালে জমা করে দাও। অর্থ বায়তুল মালে জমা হওয়ার পর খাদেমের প্রতি খলিফর নির্দেশ ছিল এমন-
‘এবার তুমি এমন কোনো স্থানে পলায়ন কর, যেখান থেকে লোকেরা তোমাকে খুঁজে বের করতে পারবে না। লোকেরা তোমাকে যদি খুঁজে পায় তবে তোমাকে হত্যা করে ফেলবে।’

খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ মৃত্যু সন্নিকটে এসেও ইসলামি অর্থনীতির কথা চিন্তা করেই কোনো রকম দেরি না করে তা তাকে হত্যার চুক্তির টাকাও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আর এ কারণেই খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহুর আমলে জাকাতের অর্থ দেয়ার মতো লোক পাওয়া ছিল দুষ্কর। সে সময়টি ছিল ইসলামি অর্থনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।