ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কালের সাক্ষী মোঘল আমলের মুসলিম ঐতিহ্যের গুরিন্দা মসজিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
  • ৩২৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ৫০০ বছরের পুরনো মোঘল আমলের মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন ও অন্যতম নিদর্শন এক গম্বুজ বিশিষ্ট গুরিন্দা জামে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। এখনো ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে এই মসজিদ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শত শত বছরের পুরনো স্মৃতি বিজড়িত এ মসজিদের ঐতিহ্য যেন ক্রমেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এটি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া সড়কের পূর্ব পাশে গুরিন্দা এলাকায় খালের পাশে অবস্থিত। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী বহু শতাব্দী পূর্বে এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এর অনেক আগেই গুরিন্দা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেকে জানান, এ অঞ্চলে মুসলমানদের আগমন ঘটে আনুমানিক ১৪৬৫ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মোবারক শাহের চন্দ্রদ্বীপ বিজয়ের আগে, তখন হয়তো এটি নির্মাণ করা হয়।

মসজিটির মূল ভবন প্রায় ৩৬০ বর্গফুট ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট বর্গাকৃতির। এর উচ্চতা প্রায় ১৬ ফুট। এটি একটি একতলা মসজিদ। একটি মাত্র গম্বুজ বলে এটাকে এক গম্বুজ মসজিদও বলা হয়ে থাকে। মসজিদটি ভূমি থেকে প্রায় চার ফুট উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটি এতটাই ছোট যে এর ভিতরে ১৮/২০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদটির ভিতর ও বাইরের সমস্ত দেয়ালের পলেস্তরা উঠে ইট বেরিয়ে গেছে। মসজিদটির পাশে রয়েছে ছোট একটি পাকা ভবনের বৈঠকখানা। এটি মসজিদটির চেয়ে আকারে ছোট। সেখানে ১০/১২ জন লোক বসতে পারেন। মসজিদটির মত এ বৈঠকখানাটিরও একই দুরাবস্থা। সংশ্লিষ্ট বিভাগ উদ্যোগ নিলে এটাও হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সদস্য ও রতনদী তালতলী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, মসজিদটি অনেক পুরনো এবং জমিদারদের করা মসজিদটি এখনই সংস্কার করা না হলে মসজিদটি একদিন কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে। এ বিষয়ে  প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের  প্রত্নতাত্ত্বিক ফিল্ড অফিসার মো. খায়রুল বাশার বলেন, আমরা দেশের শতবছর বা হাজার বছরের স্থাপনাগুলো গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষণ করে প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি, বিষয়টি আমাদের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রত্নতত্ত্বের রিজিওনাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কালের সাক্ষী মোঘল আমলের মুসলিম ঐতিহ্যের গুরিন্দা মসজিদ

আপডেট টাইম : ০৯:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ৫০০ বছরের পুরনো মোঘল আমলের মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন ও অন্যতম নিদর্শন এক গম্বুজ বিশিষ্ট গুরিন্দা জামে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। এখনো ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে এই মসজিদ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শত শত বছরের পুরনো স্মৃতি বিজড়িত এ মসজিদের ঐতিহ্য যেন ক্রমেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এটি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া সড়কের পূর্ব পাশে গুরিন্দা এলাকায় খালের পাশে অবস্থিত। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী বহু শতাব্দী পূর্বে এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এর অনেক আগেই গুরিন্দা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেকে জানান, এ অঞ্চলে মুসলমানদের আগমন ঘটে আনুমানিক ১৪৬৫ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মোবারক শাহের চন্দ্রদ্বীপ বিজয়ের আগে, তখন হয়তো এটি নির্মাণ করা হয়।

মসজিটির মূল ভবন প্রায় ৩৬০ বর্গফুট ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট বর্গাকৃতির। এর উচ্চতা প্রায় ১৬ ফুট। এটি একটি একতলা মসজিদ। একটি মাত্র গম্বুজ বলে এটাকে এক গম্বুজ মসজিদও বলা হয়ে থাকে। মসজিদটি ভূমি থেকে প্রায় চার ফুট উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটি এতটাই ছোট যে এর ভিতরে ১৮/২০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদটির ভিতর ও বাইরের সমস্ত দেয়ালের পলেস্তরা উঠে ইট বেরিয়ে গেছে। মসজিদটির পাশে রয়েছে ছোট একটি পাকা ভবনের বৈঠকখানা। এটি মসজিদটির চেয়ে আকারে ছোট। সেখানে ১০/১২ জন লোক বসতে পারেন। মসজিদটির মত এ বৈঠকখানাটিরও একই দুরাবস্থা। সংশ্লিষ্ট বিভাগ উদ্যোগ নিলে এটাও হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সদস্য ও রতনদী তালতলী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, মসজিদটি অনেক পুরনো এবং জমিদারদের করা মসজিদটি এখনই সংস্কার করা না হলে মসজিদটি একদিন কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে। এ বিষয়ে  প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের  প্রত্নতাত্ত্বিক ফিল্ড অফিসার মো. খায়রুল বাশার বলেন, আমরা দেশের শতবছর বা হাজার বছরের স্থাপনাগুলো গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষণ করে প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি, বিষয়টি আমাদের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রত্নতত্ত্বের রিজিওনাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।