ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া দলিলে নেওয়া ঋণের ৮০% খেলাপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:১৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০১৯
  • ২৭৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে শুধু ঋণগ্রহীতা ব্যবসায়ীরাই দায়ী নন, ভুয়া দলিল বন্ধক রেখে ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তারাও দায়ী। এভাবে ভুয়া দলিলে নেওয়া ঋণ আর পরিশোধ করছেন না ব্যবসায়ীরা। দেশে ১ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ভুয়া দলিল দিয়ে নেওয়া ঋণ। ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ ধরনের ঋণ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের     চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভার ‘রেকর্ডস অব নোটস’ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

খেলাপি ঋণ বাড়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে অর্থমন্ত্রী তাদের বলেছেন, এজন্য ভালো ল’ ফার্ম নিয়োগ দিতে হবে। ব্যাংকগুলো যে বিপুল পরিমাণ ঋণ অবলোপন করছে, সেগুলো সঠিক পদ্ধতিতে করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। একবার যে গ্রাহকের ঋণ অবলোপন করা হয়, তার সঙ্গে আর ব্যাংকের ব্যবসা করা সমীচীন নয়।

মন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকরাই যে শুধু দায়ী তা নয়; ব্যাংকের অদক্ষ ব্যবস্থাপনাও দায়ী। ব্যাংকগুলোর সম্পদের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়াতে দক্ষ হিসাবরক্ষক ও আইনজীবী দরকার। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহক উপযুক্ত জামানত বন্ধক দিচ্ছে কি-না, তা ব্যাংকারদের নিশ্চিত হতে হবে।

উপযুক্ত জামানত ছাড়া কোনো ব্যাংকেরই ঋণ দেওয়া উচিত নয়। শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ঋণ খেলাপি হয়েছে, ভুয়া দলিল দাখিল করে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাওয়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় বিধিবিধান জারি করছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো তা সঠিকভাবে না মানায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে।  খেলাপি কমাতে বৈদেশিক বিল কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক ও স্থানীয় ঋণপত্রের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনসহ ওভারডিউ আদায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি নির্ণয় পদ্ধতি, নীতিমালা, কার্যক্রম সবই আছে, ব্যাংকগুলো সেগুলো পরিপালন করছে না।

ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে অতি মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে কি-না, সেগুলো যাচাই করার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেন তিনি।

ওই সভায় ব্যাংকগুলোকে ৯টি নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। তার মধ্যে রয়েছেÑ সব ব্যাংককে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে হবে। নতুন করে আর কোনো ঋণ যাতে খেলাপি না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা বাড়াতে হবে। মুনাফা বাড়িয়ে ব্যাংকের সম্পদ বাড়াতে হবে। অটোমেশনের প্রতি গুরুত্বারোপসহ কাগজবিহীন লেনদেন চালুর মধ্য দিয়ে সহজে ও দ্রুত আর্থিক লেনেদেন নিষ্পত্তির কথা বলেছেন তিনি।

ব্যাংকগুলোতে প্রণোদনা ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভালো গ্রাহককে উপযুক্তভাবে পুরস্কৃত করতে হবে। একইভাবে খারাপ গ্রাহকদের শাস্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহক বা ব্যাংক কর্মকর্তা যেই অপকর্ম করুক, তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নতুন করে আর কোনো ঋণ অবলোপন করা যাবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুয়া দলিলে নেওয়া ঋণের ৮০% খেলাপি

আপডেট টাইম : ০৪:১৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে শুধু ঋণগ্রহীতা ব্যবসায়ীরাই দায়ী নন, ভুয়া দলিল বন্ধক রেখে ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তারাও দায়ী। এভাবে ভুয়া দলিলে নেওয়া ঋণ আর পরিশোধ করছেন না ব্যবসায়ীরা। দেশে ১ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ভুয়া দলিল দিয়ে নেওয়া ঋণ। ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ ধরনের ঋণ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের     চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভার ‘রেকর্ডস অব নোটস’ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

খেলাপি ঋণ বাড়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে অর্থমন্ত্রী তাদের বলেছেন, এজন্য ভালো ল’ ফার্ম নিয়োগ দিতে হবে। ব্যাংকগুলো যে বিপুল পরিমাণ ঋণ অবলোপন করছে, সেগুলো সঠিক পদ্ধতিতে করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। একবার যে গ্রাহকের ঋণ অবলোপন করা হয়, তার সঙ্গে আর ব্যাংকের ব্যবসা করা সমীচীন নয়।

মন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকরাই যে শুধু দায়ী তা নয়; ব্যাংকের অদক্ষ ব্যবস্থাপনাও দায়ী। ব্যাংকগুলোর সম্পদের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়াতে দক্ষ হিসাবরক্ষক ও আইনজীবী দরকার। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহক উপযুক্ত জামানত বন্ধক দিচ্ছে কি-না, তা ব্যাংকারদের নিশ্চিত হতে হবে।

উপযুক্ত জামানত ছাড়া কোনো ব্যাংকেরই ঋণ দেওয়া উচিত নয়। শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ঋণ খেলাপি হয়েছে, ভুয়া দলিল দাখিল করে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাওয়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় বিধিবিধান জারি করছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো তা সঠিকভাবে না মানায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে।  খেলাপি কমাতে বৈদেশিক বিল কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক ও স্থানীয় ঋণপত্রের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনসহ ওভারডিউ আদায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি নির্ণয় পদ্ধতি, নীতিমালা, কার্যক্রম সবই আছে, ব্যাংকগুলো সেগুলো পরিপালন করছে না।

ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে অতি মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে কি-না, সেগুলো যাচাই করার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেন তিনি।

ওই সভায় ব্যাংকগুলোকে ৯টি নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। তার মধ্যে রয়েছেÑ সব ব্যাংককে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে হবে। নতুন করে আর কোনো ঋণ যাতে খেলাপি না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা বাড়াতে হবে। মুনাফা বাড়িয়ে ব্যাংকের সম্পদ বাড়াতে হবে। অটোমেশনের প্রতি গুরুত্বারোপসহ কাগজবিহীন লেনদেন চালুর মধ্য দিয়ে সহজে ও দ্রুত আর্থিক লেনেদেন নিষ্পত্তির কথা বলেছেন তিনি।

ব্যাংকগুলোতে প্রণোদনা ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভালো গ্রাহককে উপযুক্তভাবে পুরস্কৃত করতে হবে। একইভাবে খারাপ গ্রাহকদের শাস্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহক বা ব্যাংক কর্মকর্তা যেই অপকর্ম করুক, তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নতুন করে আর কোনো ঋণ অবলোপন করা যাবে না।