ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোলামি থেকে যেভাবে মুক্তি পেলেন হজরত লুকমান হাকিম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০১৯
  • ৩২১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হজরত লোকমান (আ.) আমাদের মাঝে লোকমান হাকিম নামে বিখ্যাত। তিনি আফ্রিকার নওবি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার অবয়ব ছিল কালো কুশ্রী। তিনি এক ইহুদীর গোলাম ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তাকে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী বানিয়েছিলেন। সেই ইহুদি তাকে সাড়ে ত্রিশ মিছকাল এর বিনিময়ে ক্রয় করেছিল।

হজরত লোকমান দিন রাত তার মনিবের সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। আর ইহুদি জুয়া খেলায় লিপ্ত থাকত। ইহুদির বাড়ি এক নদীর অদূরে ছিল। একদিন সে এ শর্তে জুয়া খেলল, খেলায় যে পরাজিত হবে তাকে নদীর সকল পানি পান করতে হবে অথবা বিজয়ী যা দাবি করবে তাই পূরণ করতে হবে। খেলায় লোকমানের মালিক হেরে গেল। শর্তানুযায়ী প্রতিপক্ষ নদীর সকল পানি পান করতে চাপ দিল নতুবা যা দাবি করবে তাই তাকে করতে হবে।

ইহুদি জিজ্ঞেস করল, যদি আমি পানি পান না করি তাহলে তোমার দাবি কী, বলো দেখি? বিজয়ী বলল, তাহলে আমার দাবি হলো, তোমার দু’চোখ আমি উপড়ে ফেলব, নয়তো তোমার সমস্ত সম্পদ নিয়ে নেব।

এ কথা শুনে ইহুদীর মাথায় আসমান ভেঙ্গে পড়ে।
কী হবে এখন! কীভাবে এ বিপদ থেকে নিস্কৃতি পাবে!

নদীর সব পানি পান করা কী চাট্টিখানি কথা!! তাহলে কী চোখ দু’টি হারাতে হবে; নাকী ধন সম্পদ সব হারিয়ে পথের ফকির হতে হবে। বিষণ্ণমুখে বলল, ঠিক আছে আমাকে একদিন ভাবতে দিন। দেখি কী করা যায়।

বিজয়ী লোকটি রাজি হলো। কিন্তু যাওয়ার সময় শাসাতে ভুলল না। মনে রেখ মাত্র একদিন সময়। কাল কিন্তু কোনো কথা শুনব না।  এদিকে বেচারা ইহুদির চিন্তার শেষ নেই। কী হবে এখন! কিছুক্ষণ পর হজরত লোকমান (আ.) কাঠের বোঝা নিয়ে ফিরলেন। বোঝা নামিয়ে দেখলেন, মনিব ভীষণ চিন্তিত। বললেন, কী ব্যাপার মনিব, কী হয়েছে আপনার? আপনাকে এতো অস্থির দেখাচ্ছে কেন?

মনিব অন্যমনস্কভাবে বলল এ্যাঁ কী বললে? না না কিছু হয়নি তো; সব ঠিক আছে। লোকমান বললেন, মনিব! আপনি আমার থেকে মনে হয় কিছু লুকোচ্ছেন? কী হয়েছে? পরিস্কার করে আমাকে খুলে বলুন। আমি হয়ত আপনার সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি।  তখন মনিব ঘটনাটি খুলে বললেন।

সব শুনে লোকমান বললেন ও, এই কথা; এটা কোনো সমস্যাই নয়। আমি বলছি, শুনুন: আপনি তাকে বলবেন, আমি নদীর সমস্ত পানি পান করব। কিন্তু আগে নদীর কোন অংশের পানি পান করব তা নির্দিষ্ট করে দাও। কিনারের নাকি নদীর মাঝখানের। সে বলবে, কিনারের পানি পান করো। তখন আপনি বলবেন, ঠিক আছে আগে কিনারের পানি পান করছি কিন্তু আমি যতক্ষণ কিনারের পানি পান করে শেষ না করব ততক্ষণ তুমি মাঝখানের পানি আটকে রাখবে। সেগুলোকে কিনারে আসতে দিবে না। কেননা তোমার কথানুযায়ী আগে কিনারের পানি পান করতে হবে। মাঝখানের পানি নয়। তাহলে আমি যখন পান করার জন্য পানি উঠাব তখন তো মাঝখানের পানি কিনারে চলে আসবে। তখন তুমি তা আসতে দেবে না। বরং আটকে রাখবে। যদি তা করতে পার তাহলেই আমি নদীর পানি পান করতে পারব। আর উক্ত ব্যক্তির জন্য মাঝখানের পানিকে আটকে রাখা একেবারেই অসম্ভব। সুতরাং আপনাকে সে ফাঁসাতে পারবে না।

এতক্ষণে যেন মনিবের দেহে প্রাণ ফিরে এল। বলল, লোকমান তুমি এত জ্ঞানী, এত বুদ্ধিমান। তোমাকে দিয়ে গোলামীর কাজ করানো ভীষণ অন্যায়। যাও আজ থেকে তুমি মুক্ত। যেখানে খুশি চলে যাও।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, লোকমান তার পুত্রকে নসিহত করে বলেছিলেন, হে বৎস! যদি কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাও, তাহলে তার স্বভাববিরুদ্ধ কোনো কাজ করে তাকে রাগিয়ে দাও। যদি ক্রোধান্বিত অবস্থায়ও ন্যায়ের ওপর অঁটল থাকে তাহলে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পার, নয়তো তার সঙ্গ পরিত্যাগ কর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গোলামি থেকে যেভাবে মুক্তি পেলেন হজরত লুকমান হাকিম

আপডেট টাইম : ১১:০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হজরত লোকমান (আ.) আমাদের মাঝে লোকমান হাকিম নামে বিখ্যাত। তিনি আফ্রিকার নওবি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার অবয়ব ছিল কালো কুশ্রী। তিনি এক ইহুদীর গোলাম ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তাকে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী বানিয়েছিলেন। সেই ইহুদি তাকে সাড়ে ত্রিশ মিছকাল এর বিনিময়ে ক্রয় করেছিল।

হজরত লোকমান দিন রাত তার মনিবের সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। আর ইহুদি জুয়া খেলায় লিপ্ত থাকত। ইহুদির বাড়ি এক নদীর অদূরে ছিল। একদিন সে এ শর্তে জুয়া খেলল, খেলায় যে পরাজিত হবে তাকে নদীর সকল পানি পান করতে হবে অথবা বিজয়ী যা দাবি করবে তাই পূরণ করতে হবে। খেলায় লোকমানের মালিক হেরে গেল। শর্তানুযায়ী প্রতিপক্ষ নদীর সকল পানি পান করতে চাপ দিল নতুবা যা দাবি করবে তাই তাকে করতে হবে।

ইহুদি জিজ্ঞেস করল, যদি আমি পানি পান না করি তাহলে তোমার দাবি কী, বলো দেখি? বিজয়ী বলল, তাহলে আমার দাবি হলো, তোমার দু’চোখ আমি উপড়ে ফেলব, নয়তো তোমার সমস্ত সম্পদ নিয়ে নেব।

এ কথা শুনে ইহুদীর মাথায় আসমান ভেঙ্গে পড়ে।
কী হবে এখন! কীভাবে এ বিপদ থেকে নিস্কৃতি পাবে!

নদীর সব পানি পান করা কী চাট্টিখানি কথা!! তাহলে কী চোখ দু’টি হারাতে হবে; নাকী ধন সম্পদ সব হারিয়ে পথের ফকির হতে হবে। বিষণ্ণমুখে বলল, ঠিক আছে আমাকে একদিন ভাবতে দিন। দেখি কী করা যায়।

বিজয়ী লোকটি রাজি হলো। কিন্তু যাওয়ার সময় শাসাতে ভুলল না। মনে রেখ মাত্র একদিন সময়। কাল কিন্তু কোনো কথা শুনব না।  এদিকে বেচারা ইহুদির চিন্তার শেষ নেই। কী হবে এখন! কিছুক্ষণ পর হজরত লোকমান (আ.) কাঠের বোঝা নিয়ে ফিরলেন। বোঝা নামিয়ে দেখলেন, মনিব ভীষণ চিন্তিত। বললেন, কী ব্যাপার মনিব, কী হয়েছে আপনার? আপনাকে এতো অস্থির দেখাচ্ছে কেন?

মনিব অন্যমনস্কভাবে বলল এ্যাঁ কী বললে? না না কিছু হয়নি তো; সব ঠিক আছে। লোকমান বললেন, মনিব! আপনি আমার থেকে মনে হয় কিছু লুকোচ্ছেন? কী হয়েছে? পরিস্কার করে আমাকে খুলে বলুন। আমি হয়ত আপনার সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি।  তখন মনিব ঘটনাটি খুলে বললেন।

সব শুনে লোকমান বললেন ও, এই কথা; এটা কোনো সমস্যাই নয়। আমি বলছি, শুনুন: আপনি তাকে বলবেন, আমি নদীর সমস্ত পানি পান করব। কিন্তু আগে নদীর কোন অংশের পানি পান করব তা নির্দিষ্ট করে দাও। কিনারের নাকি নদীর মাঝখানের। সে বলবে, কিনারের পানি পান করো। তখন আপনি বলবেন, ঠিক আছে আগে কিনারের পানি পান করছি কিন্তু আমি যতক্ষণ কিনারের পানি পান করে শেষ না করব ততক্ষণ তুমি মাঝখানের পানি আটকে রাখবে। সেগুলোকে কিনারে আসতে দিবে না। কেননা তোমার কথানুযায়ী আগে কিনারের পানি পান করতে হবে। মাঝখানের পানি নয়। তাহলে আমি যখন পান করার জন্য পানি উঠাব তখন তো মাঝখানের পানি কিনারে চলে আসবে। তখন তুমি তা আসতে দেবে না। বরং আটকে রাখবে। যদি তা করতে পার তাহলেই আমি নদীর পানি পান করতে পারব। আর উক্ত ব্যক্তির জন্য মাঝখানের পানিকে আটকে রাখা একেবারেই অসম্ভব। সুতরাং আপনাকে সে ফাঁসাতে পারবে না।

এতক্ষণে যেন মনিবের দেহে প্রাণ ফিরে এল। বলল, লোকমান তুমি এত জ্ঞানী, এত বুদ্ধিমান। তোমাকে দিয়ে গোলামীর কাজ করানো ভীষণ অন্যায়। যাও আজ থেকে তুমি মুক্ত। যেখানে খুশি চলে যাও।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, লোকমান তার পুত্রকে নসিহত করে বলেছিলেন, হে বৎস! যদি কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাও, তাহলে তার স্বভাববিরুদ্ধ কোনো কাজ করে তাকে রাগিয়ে দাও। যদি ক্রোধান্বিত অবস্থায়ও ন্যায়ের ওপর অঁটল থাকে তাহলে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পার, নয়তো তার সঙ্গ পরিত্যাগ কর।