ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

মৃত ব্যক্তিকে ২০ দিনে ২৩ বার ডায়ালাইসিস, চিকিৎসা বিল ১০ লাখ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০১৯
  • ২৮৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রোগীর ‘মৃত্যুর পরেও’ প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন রাখার কথা বলে বড় অংকের বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিরুদ্ধে। নিহত রোগীর নাম শহীদুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৪ মে কিডনির সমস্যা নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

শহীদুল ইসলামের ছেলে কামাল অভিযোগ করেন, তার বাবাকে ২০ দিনে ২৩টি ডায়ালাইসিস দেওয়ার কথা বলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাবার চিকিৎসা বাবদ ১০ লাখ টাকা বিল দিয়েছে। তার স্বজনদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর অবস্থা তাদের জানায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহীদুলের স্বজনরা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে মারা যাওয়ার কথা বলা হয় তাদের।

“২০ দিনে ২৩টা ডায়ালাইসিস কীভাবে দেয়? আমরা কয়েকবার অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের রোগীকে ‌নিতে দেয়নি। আমার ধারণা, উনি ১৪ তারিখে মারা গেছেন। এরপরও তারা আমার বাবাকে নিয়ে ব্যবসা করেছে।’ শাহাদাত হোসেন নামে শহীদুলের আরেক স্বজনও অভিযোগ করেন, তার আত্মীয় আগেই মারা গিয়েছেন।

“আগে প্রতিদিন বিলের জন্য হাসপাতাল থেকে ফোন দেওয়া হত। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে বিলের বিষয়ে কিছু বলছে না। এতে আমাদের সন্দেহ হয়। চাপাচাপি করার পর রাতে মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী রোগীর স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার দুটি কিডনি বিকল ছিল। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এখানে ভর্তি হয়েছিলেন।

“রোগীর স্বজনদের মানসিক অবস্থা থেকে এ ধরনের অভিযোগ করেছেন।”

বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডায় উত্তাপ ছড়ালে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

মৃত ব্যক্তিকে ২০ দিনে ২৩ বার ডায়ালাইসিস, চিকিৎসা বিল ১০ লাখ

আপডেট টাইম : ০১:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রোগীর ‘মৃত্যুর পরেও’ প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন রাখার কথা বলে বড় অংকের বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিরুদ্ধে। নিহত রোগীর নাম শহীদুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৪ মে কিডনির সমস্যা নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

শহীদুল ইসলামের ছেলে কামাল অভিযোগ করেন, তার বাবাকে ২০ দিনে ২৩টি ডায়ালাইসিস দেওয়ার কথা বলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাবার চিকিৎসা বাবদ ১০ লাখ টাকা বিল দিয়েছে। তার স্বজনদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর অবস্থা তাদের জানায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহীদুলের স্বজনরা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে মারা যাওয়ার কথা বলা হয় তাদের।

“২০ দিনে ২৩টা ডায়ালাইসিস কীভাবে দেয়? আমরা কয়েকবার অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের রোগীকে ‌নিতে দেয়নি। আমার ধারণা, উনি ১৪ তারিখে মারা গেছেন। এরপরও তারা আমার বাবাকে নিয়ে ব্যবসা করেছে।’ শাহাদাত হোসেন নামে শহীদুলের আরেক স্বজনও অভিযোগ করেন, তার আত্মীয় আগেই মারা গিয়েছেন।

“আগে প্রতিদিন বিলের জন্য হাসপাতাল থেকে ফোন দেওয়া হত। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে বিলের বিষয়ে কিছু বলছে না। এতে আমাদের সন্দেহ হয়। চাপাচাপি করার পর রাতে মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী রোগীর স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার দুটি কিডনি বিকল ছিল। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এখানে ভর্তি হয়েছিলেন।

“রোগীর স্বজনদের মানসিক অবস্থা থেকে এ ধরনের অভিযোগ করেছেন।”

বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডায় উত্তাপ ছড়ালে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।