ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে সামনে দুই মামলার বাধা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯
  • ২৯৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানহানির দুই মামলায় কারাবন্দী ও অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গতকাল মঙ্গলবার ৬ মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। ২০১৪ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল নিম্ন আদালত। তবে প্রায় দেড় বছর যাবত কারাবন্দী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

মুক্তির জন্য তাকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেতে হবে। ওই দুই মামলায় তিনি ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। এসব মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে জামিন চেয়ে তার করা আবেদন বিচারাধীন রয়েছে।

এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার নথি আসা সাপেক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। তবে সেই নথি এখনো ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ থেকে আসেনি। হাইকোর্ট দুই মাসের মধ্যে ওই নথি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

এছাড়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া দশ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল করেছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিককে বলেন, নথির জন্য গতকাল মঙ্গলবারও যোগাযোগ করেছি। আশা করি এ সপ্তাহের মধ্যে নথি পেয়ে যাব।

খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল বলেন, বেগম জিয়ার বাকি যে দুটো মামলা আছে সেগুলোতে জামিন পেলেই তিনি মুক্তি পাবেন। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায়ও জামিন আবেদন করা হয়েছে। ওই মামলায় নথি আসতে আর ১২দিন বাকি আছে। আশা করি ১২ দিন পর ওই মামলায় তার জামিন শুনানি হবে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া কারাবন্দি থাকতে বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাকে কি করে আরো বেশি দিন জেলখানায় রাখা যায় সে ব্যবস্থা সরকার করেছিল। যে দুটি মামলা হাইকোর্টে এসেছে তা হাইকোর্ট পর্যন্ত আসার কথা না। এসব মামুলি মামলা। অনেক সময় আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনেক বক্তব্য রাখি। গতকাল এই মামলায় জামিনের জন্য তাকে হাইকোর্ট পর্যন্ত আসতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আরেকটা আছে মানহানির মামলা। যেটা জামিনযোগ্য মামলা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আছে জামিনযোগ্য মামলা যদি হয় তাহলে জামিন দিতে বাধ্য আদালত। কিন্তু তারপরও দেয়নি। কেন দেয়নি তা আমরা জানি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। দুটো মামলাতেই ছয় মাসের জামিন দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ আমাদের জন্য সহায়ক হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া যদি আদালতের রায়ে জামিন পান বা মুক্ত হন তাহলে সরকারের সেখানে কিছু করার নেই, সরকারের সেখানে বাধা দেওয়ারও কিছু নেই।

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রয়েছে ৩৬টি মামলা। সেনা নিয়ন্ত্রিত জরুরি অবস্থার সরকারের আমলে ৪টি এবং আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদে ৩২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ৫টি, নাশকতার ১৬টি, মানহানির ৪টি মামলা, ৩টি হত্যামামলা, মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার ২টি, রাষ্ট্রদ্রোহের একটি, ভুয়া জন্মদিন পালনের একটি, সাবেক নৌমন্ত্রীর ওপর বোমা হামলার একটি, জাতীয় পতাকার অবমাননার একটি, ড্যান্ডি ডাইংয়ের অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন একটি এবং বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের মালিকানা নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলা।

এসব মামলার ১৬টিতে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চ আদালতে ১১টির বিচার স্থগিত আছে। আর বাকি ২০টি মামলার কোনটিতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, বা কোনোটি তদন্তের পর্যায়ে আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে সামনে দুই মামলার বাধা

আপডেট টাইম : ১২:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানহানির দুই মামলায় কারাবন্দী ও অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গতকাল মঙ্গলবার ৬ মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। ২০১৪ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল নিম্ন আদালত। তবে প্রায় দেড় বছর যাবত কারাবন্দী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

মুক্তির জন্য তাকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেতে হবে। ওই দুই মামলায় তিনি ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। এসব মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে জামিন চেয়ে তার করা আবেদন বিচারাধীন রয়েছে।

এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার নথি আসা সাপেক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। তবে সেই নথি এখনো ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ থেকে আসেনি। হাইকোর্ট দুই মাসের মধ্যে ওই নথি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

এছাড়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া দশ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল করেছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিককে বলেন, নথির জন্য গতকাল মঙ্গলবারও যোগাযোগ করেছি। আশা করি এ সপ্তাহের মধ্যে নথি পেয়ে যাব।

খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল বলেন, বেগম জিয়ার বাকি যে দুটো মামলা আছে সেগুলোতে জামিন পেলেই তিনি মুক্তি পাবেন। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায়ও জামিন আবেদন করা হয়েছে। ওই মামলায় নথি আসতে আর ১২দিন বাকি আছে। আশা করি ১২ দিন পর ওই মামলায় তার জামিন শুনানি হবে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া কারাবন্দি থাকতে বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাকে কি করে আরো বেশি দিন জেলখানায় রাখা যায় সে ব্যবস্থা সরকার করেছিল। যে দুটি মামলা হাইকোর্টে এসেছে তা হাইকোর্ট পর্যন্ত আসার কথা না। এসব মামুলি মামলা। অনেক সময় আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনেক বক্তব্য রাখি। গতকাল এই মামলায় জামিনের জন্য তাকে হাইকোর্ট পর্যন্ত আসতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আরেকটা আছে মানহানির মামলা। যেটা জামিনযোগ্য মামলা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আছে জামিনযোগ্য মামলা যদি হয় তাহলে জামিন দিতে বাধ্য আদালত। কিন্তু তারপরও দেয়নি। কেন দেয়নি তা আমরা জানি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। দুটো মামলাতেই ছয় মাসের জামিন দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ আমাদের জন্য সহায়ক হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া যদি আদালতের রায়ে জামিন পান বা মুক্ত হন তাহলে সরকারের সেখানে কিছু করার নেই, সরকারের সেখানে বাধা দেওয়ারও কিছু নেই।

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রয়েছে ৩৬টি মামলা। সেনা নিয়ন্ত্রিত জরুরি অবস্থার সরকারের আমলে ৪টি এবং আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদে ৩২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ৫টি, নাশকতার ১৬টি, মানহানির ৪টি মামলা, ৩টি হত্যামামলা, মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার ২টি, রাষ্ট্রদ্রোহের একটি, ভুয়া জন্মদিন পালনের একটি, সাবেক নৌমন্ত্রীর ওপর বোমা হামলার একটি, জাতীয় পতাকার অবমাননার একটি, ড্যান্ডি ডাইংয়ের অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন একটি এবং বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের মালিকানা নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলা।

এসব মামলার ১৬টিতে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চ আদালতে ১১টির বিচার স্থগিত আছে। আর বাকি ২০টি মামলার কোনটিতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, বা কোনোটি তদন্তের পর্যায়ে আছে।