ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাহায় জমে ওঠেছে ঈদের কেনাকাটা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯
  • ৪৪৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঈদের বাজার আর মাহা। এ যেন সিলেটে একে অপরের পরিপূরক। ঈদের কেনাকাটায় নগরবাসীর প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে এই ফ্যাশন হাউস। বিশেষ করে সিলেটের তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন পছন্দের শীর্ষে মাহা।

মাহায় ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ঈদের কেনাকাটা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভিড় করছেন ক্রেতারা। ১৫ রমজানের পর থেকেই পুরোদমে বিকিকিনি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহার বিক্রয়কর্মীলা। সন্ধ্যার পর থেকে তিল ধারণের ঠাই থাকে না এই বিপণিবিতানে।

তরুণীদের ড্রেস, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, নারীদের বিভিন্ন ধরণের শাড়ি, কসমেটিক্স, জুয়েলারি আইটেম, বাচ্চাদের পোশাক, জুতা আর সকল বয়সী পুরুষের পাঞ্জাবির বিশাল কালেকশনে সজ্জিত নয়াসড়কে অবস্থিত এই ফ্যাশন হাউজ।

রমজানের শুরুর দিকে ক্রেতাদের আনাগোনা কম থাকলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসে ক্রেতারাও ঈদের বাজার করতে ভিড় জমান বিভিন্ন দেশী-বিদেশী ব্রান্ডশপগুলোতে। মাহাও এর ব্যতিক্রম নয়। নন ব্র্যান্ডশপ হয়েও ব্র্যান্ডের সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়ে ক্রেতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে মাহা।

বিক্রেতারা জানান, তরুণীদের বিভিন্ন ডিজাইনের ড্রেসের মধ্যে এবার বেশি চলছে সারারা-কারারা, মোহিনী, নিতিয়া, গঙ্গা। এর মধ্যে সারারা-কারারা ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও এবার এই ড্রেসটির প্রতি আগ্রহ বেশি দেখাচ্ছেন।

এছাড়া মোহিনী ড্রেস ৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা, নিতিয়া ৪ হাজার ১৫ হাজার টাকা, গঙ্গা ড্রেস ২৫শ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাহারি কাজের বিভিন্ন ধরণের শাড়িও রয়েছে মাহায়। এদের মধ্যে গাদওয়ান কাতান বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর কাঞ্জিভরম শাড়ির মূল্য ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।

গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। তাই দেশি শাড়ির মধ্যে সুতি শাড়ির প্রতি এবার আগ্রহ বেশি দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন নকশা ও কাজ ভেদে এ শাড়িগুলো বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ৪৫শ টাকা পর্যন্ত।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মাহায় এবার ১৫ রমজানের আগেই ঈদের বাজারে উপচে পড়া ভিড় দেখছি। নতুন অনেক সুতির শাড়ির কালেকশন পাওয়া যাচ্ছে এবার। সেই সাথে রঙ ও ডিজাইনে বৈচিত্র এনেছে মাহা। ড্রেসের মধ্যে মানসম্পন্ন থ্রি-পিসসহ পার্টি ড্রেস (স্কাটের সাথে কামিজ, গাউন) এ নতুনত্ব আনা হয়েছে। ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য আছে বাহারি পোশাক।

তিনি আরও বলেন, মাহায় মূলত মানুষ সবকিছু একসাথে হাতের নাগালে পাওয়ার জন্য যায়। বিভিন্ন দোকান থেকে ঝক্কি পোহানো থেকে এক জায়গা থেকে সব কেনাকাটা করাটাই এখন ক্রেতাদের মাথায়। মাহার পণ্যের মান সবসময়ই উন্নত এবং হাল ফ্যাশনের সাথে তাল মিলিয়ে তারা নতুনত্ব যোগ করে প্রতিবার ক্রেতাদের নজর ও আকর্ষণ কাড়ে।

মাহায় বাচ্চাদের আইটেমের মধ্যে রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, টপস, প্যান্ট ইত্যাদি রয়েছে। বাচ্চাদের পোশাকে ওয়েস্টার্ন ডিজাইনের ড্রেস বেশি চলছে।

আর পাঞ্জাবির মধ্যে বোম্বের কাসাস এর বিপুল কালেকশন রয়েছে মাহায়। কাপড়ের বিভিন্নতা ও ডিজাইনের উপর পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ১৯শ থেকে ৬ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া আন্ডার গার্মেন্টস, আতর, পারফিউম ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী, পারফিউম, পার্টস, শো-পিসও বিক্রি হচ্ছে এই ফ্যাশন হাউজে।

মাহার ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদির জানান, আমাদের প্রত্যাশা থেকেও এবারের ঈদের বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি। ঈদের বিক্রি গতবারের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে এবার।

তিনি জানান, তৃতীয় রমজানের পর থেকে ক্রেতা সমাগম ধীরে ধীরে বাড়ছে। গরমের কারণে দিনে কিছুটা কম হলেও সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকে আমাদের দোকানে।

চাঁদরাত পর্যন্ত ভালো বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহায় জমে ওঠেছে ঈদের কেনাকাটা

আপডেট টাইম : ০৫:৩৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঈদের বাজার আর মাহা। এ যেন সিলেটে একে অপরের পরিপূরক। ঈদের কেনাকাটায় নগরবাসীর প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে এই ফ্যাশন হাউস। বিশেষ করে সিলেটের তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন পছন্দের শীর্ষে মাহা।

মাহায় ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ঈদের কেনাকাটা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভিড় করছেন ক্রেতারা। ১৫ রমজানের পর থেকেই পুরোদমে বিকিকিনি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহার বিক্রয়কর্মীলা। সন্ধ্যার পর থেকে তিল ধারণের ঠাই থাকে না এই বিপণিবিতানে।

তরুণীদের ড্রেস, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, নারীদের বিভিন্ন ধরণের শাড়ি, কসমেটিক্স, জুয়েলারি আইটেম, বাচ্চাদের পোশাক, জুতা আর সকল বয়সী পুরুষের পাঞ্জাবির বিশাল কালেকশনে সজ্জিত নয়াসড়কে অবস্থিত এই ফ্যাশন হাউজ।

রমজানের শুরুর দিকে ক্রেতাদের আনাগোনা কম থাকলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসে ক্রেতারাও ঈদের বাজার করতে ভিড় জমান বিভিন্ন দেশী-বিদেশী ব্রান্ডশপগুলোতে। মাহাও এর ব্যতিক্রম নয়। নন ব্র্যান্ডশপ হয়েও ব্র্যান্ডের সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়ে ক্রেতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে মাহা।

বিক্রেতারা জানান, তরুণীদের বিভিন্ন ডিজাইনের ড্রেসের মধ্যে এবার বেশি চলছে সারারা-কারারা, মোহিনী, নিতিয়া, গঙ্গা। এর মধ্যে সারারা-কারারা ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও এবার এই ড্রেসটির প্রতি আগ্রহ বেশি দেখাচ্ছেন।

এছাড়া মোহিনী ড্রেস ৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা, নিতিয়া ৪ হাজার ১৫ হাজার টাকা, গঙ্গা ড্রেস ২৫শ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাহারি কাজের বিভিন্ন ধরণের শাড়িও রয়েছে মাহায়। এদের মধ্যে গাদওয়ান কাতান বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর কাঞ্জিভরম শাড়ির মূল্য ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।

গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। তাই দেশি শাড়ির মধ্যে সুতি শাড়ির প্রতি এবার আগ্রহ বেশি দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন নকশা ও কাজ ভেদে এ শাড়িগুলো বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ৪৫শ টাকা পর্যন্ত।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মাহায় এবার ১৫ রমজানের আগেই ঈদের বাজারে উপচে পড়া ভিড় দেখছি। নতুন অনেক সুতির শাড়ির কালেকশন পাওয়া যাচ্ছে এবার। সেই সাথে রঙ ও ডিজাইনে বৈচিত্র এনেছে মাহা। ড্রেসের মধ্যে মানসম্পন্ন থ্রি-পিসসহ পার্টি ড্রেস (স্কাটের সাথে কামিজ, গাউন) এ নতুনত্ব আনা হয়েছে। ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য আছে বাহারি পোশাক।

তিনি আরও বলেন, মাহায় মূলত মানুষ সবকিছু একসাথে হাতের নাগালে পাওয়ার জন্য যায়। বিভিন্ন দোকান থেকে ঝক্কি পোহানো থেকে এক জায়গা থেকে সব কেনাকাটা করাটাই এখন ক্রেতাদের মাথায়। মাহার পণ্যের মান সবসময়ই উন্নত এবং হাল ফ্যাশনের সাথে তাল মিলিয়ে তারা নতুনত্ব যোগ করে প্রতিবার ক্রেতাদের নজর ও আকর্ষণ কাড়ে।

মাহায় বাচ্চাদের আইটেমের মধ্যে রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, টপস, প্যান্ট ইত্যাদি রয়েছে। বাচ্চাদের পোশাকে ওয়েস্টার্ন ডিজাইনের ড্রেস বেশি চলছে।

আর পাঞ্জাবির মধ্যে বোম্বের কাসাস এর বিপুল কালেকশন রয়েছে মাহায়। কাপড়ের বিভিন্নতা ও ডিজাইনের উপর পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ১৯শ থেকে ৬ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া আন্ডার গার্মেন্টস, আতর, পারফিউম ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী, পারফিউম, পার্টস, শো-পিসও বিক্রি হচ্ছে এই ফ্যাশন হাউজে।

মাহার ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদির জানান, আমাদের প্রত্যাশা থেকেও এবারের ঈদের বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি। ঈদের বিক্রি গতবারের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে এবার।

তিনি জানান, তৃতীয় রমজানের পর থেকে ক্রেতা সমাগম ধীরে ধীরে বাড়ছে। গরমের কারণে দিনে কিছুটা কম হলেও সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকে আমাদের দোকানে।

চাঁদরাত পর্যন্ত ভালো বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।