ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত মহিলা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯
  • ৩১৮ বার

হাজিরা দিতে হুইল চেয়ারে আদালতে খালেদা

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার বিএনপি’র নেত্রী বেগম জিয়ার ক্ষতি করতে গিয়ে তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে বেগম জিয়াকে অমরত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। সমসাময়িক বিশ্বে স্বাধীন, এমনকি পরাধীন কোন দেশে বেগম জিয়ার মতো এতো নির্যাতিত নারী আর কেউ আছেন কী না। সরকারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান পাশাপাশি রাখলে দেখা যায় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চিও বেগম জিয়ার ধারে কাছেও নেই। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া যে হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারই আজ্ঞাবহ আদালতের মিথ্যা ফরমায়েশি রায়ে ৭৩ বছরের একজন বৃদ্ধ মহিলা বিনা অপরাধে জেলে কাটছেন তার প্রমান নিজে হাসিনা লন্ডন সফর কালে অকপটে বলে ফেলেছেন একটি ফোন আলাপ এখন ভাইরাল। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপে ‘শেখ হাসিনা তার এক বিশেষ নেতাকে ফোন করে বলেছেন হোটেলে যেন নেতাকর্মীরা বেশি না আসে, দু-একজন আসলে আসতে পারে। হোটেল ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আর বিএনপিকে বলে দিবেন-তারেক রহমান যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে তার মা কোনদিনও মুক্তি পাবে না।

বেগম জিয়ার মূল অপরাধ তিনি ও তার নেতৃত্বাধীন দল বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ অপেক্ষা বাংলাদেশের জনগণের কাছে অধিকতর জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তাই শেখ হাসিনার চক্ষুশূল এবং রাজনৈতিক পথের কাঁটা। বাংলাদেশের আর কোন ব্যক্তি কিংবা দলকে শেখ হাসিনা তার প্ৰতিদ্বন্ধী মনে করেন না। বিএনপি বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক ও ধর্মভীরু জনমতের প্রতিনিধি বিশেষ। তাই শেখ হাসিনার ক্ষমতাপ্রাপ্তি ও ভারতের দীর্ঘমেয়াদী বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী আগ্রাসী চক্রান্ত বাস্তবায়নের বিরোধী সাধারণ ও অভিন্ন শত্রু হলো বিএনপি।

তাই শেখ হাসিনা ও ভারত উভয়ই বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য মরিয়া। তারা জানেন বিএনপি’র প্রাণ ও কান্ডারী জিয়া পরিবার। এই পরিবারকে শেষ করতে পারলে বিএনপি’কে শেষ করা মুহূর্তের ব্যাপারে পরিণত হবে। তাই এই পরিবারের সদস্য বেগম জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে রাজনীতি হতে দূরে রাখার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী ভারত অবিরাম চক্রান্তে লিপ্ত। এই দীর্ঘ চক্রান্তের চলমান শিকার বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম জিয়া এবং তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে কারারুদ্ধ। আর তারেক রহমানের দেশে আসার সব পথ বন্ধ করায় তিনি লন্ডনে নির্বাসিত। দেশী-বিদেশী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নিশ্চিত চলমান বাংলাদেশে বেগম জিয়ার মতো স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক অমায়িক রাজনীতিক দ্বিতীয় কেউ নেই। ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি বিরোধীদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন। বিরোধীদেরকে কোণঠাসা করতে ক্ষমতাকে ব্যবহার করেন নি। গণতান্ত্রিক ধারা ও মূল্যবোধ হতে সরে আসেন নি। জনগণের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন নি। তার ধ্যাণ-ধারণায় কাজে একদলীয় একনায়তন্ত্র কখনোই প্রশ্রয় পায় নি। হাজারো প্রচারণা সত্তে¡ও তিনি তার ক্ষমতাকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, কিংবা দুর্ণীতি করেছেন বাংলাদেশের মানুষ এমন অপবাধে আজো বিশ্বাস করেন না। তার বিরুদ্ধে যতো প্রচারণা চলে তার ওপর অত্যাচারের মাত্রা যতো বাড়ে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ততো বাড়ে। এই জন্য শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, আমি এতো উন্নয়নমূলক কাজ করি অথচ মানুষ আমার দলকে ভোট দিতে চায় না।

শেখ হাসিনার এই আত্মোপলব্ধিই তাকে বিএনপি নির্মূলের অভিযানে জিয়া পরিবারকে রাজনীতি হতে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাতে প্ররোচিত করেছে। কিন্তু বেগম জিয়ার নির্মল ও নির্লোভ অপোষহীন চরিত্র সব চক্রান্তকে ব্যর্থ করছে। তিনি কখনোই নিজ স্বার্থে দেশের স্বার্থ ও অস্তিত্বকে বিদেশী শক্তির কাছে বন্ধক দেন নি, কোন চাপের কাছে মাথা নত করেন নি। বিশেষত দেশের সাথে বেঈমানী করে ভারতের চাহিদা পূরণে সম্মত হলে বেগম জিয়ার কিংবা তার পরিবারের এবং বিএনপি’র আজকের দশা হতো না। বেগম জিয়া কিংবা বিএনপিকে আজকের বিপদাপন্ন অবস্থায় পড়তে হতো না, যদি বেগম জিয়া স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে বেঈমানী করে শেখ হাসিনার কথামতো ভাগাভাগির রাজনীতি করতেন। ২০১৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে নির্বাচন বর্জনের আন্দোলন হতে সরে এসে শেখ হাসিনার সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে বলেছিলেন আপনি যে যে পদ চান তা-ই আমি দেব। উল্লেখ্য, মাইনাস টু ফর্মূলার অংশ হিসেবে মঈন ইউ আহমেদরা বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করে। তাদের দুইজনকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। শেখ হািসনা তাদের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে কানের চিকিৎসার নামে বিদেশে চলে যান। বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বিমান সব প্রস্তুতি শেষ করেও মঈনদের চাপে আটক বেগম জিয়া সরাসরি বলে দিয়েছেন: মরতে হলে দেশের মানুষের সাথে দেশে মরবো, বিদেশে যাব না।

Khaleda Zia

বেগম জিয়াকে কারাদন্ডে দন্ডিত করার কাহিনী আরো লজ্জাজনক চক্রান্তের প্রতিফলন। মঈনরা শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে মামলা দায়ের করে শেখ হাসিনা ওই মামলাসহ তার ও তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসমূহকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রায় আট হাজার মামলা প্রত্যাহার করেন। কিন্তু বেগম জিয়া এবং বিএনপির নেতাকমীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার একটিও প্রত্যাহার তো করা হয়ই নি, বরং হাজার হাজার সাজানো নতুন মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।

বেগম জিয়া যে জিয়া চ্যারিটেবল হতে কোনো অর্থই আত্মস্মাৎ করেন নি, তার প্রমাণ ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। কিন্তু দলীয়করণের আদালত অনেকের মতে শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে বেগম জিয়াকে কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। আদালত দলীয় প্রভাবমুক্ত কালে প্রথম শুনানীর দিনেই মামলাটি এই যুক্তিতে খারিজ হয়ে যেতো যে, একই সরকারের আমলে একই ধরনের আরেকটি মামলাটি শেখ হাসিনা তুলে নিয়েছেন। সুতরাং আদালতের রায় যে কোনভাবেই আইনসম্মত নয়, বরং সুবিচারের বরখেলাপ তা অতি সাধারণ মানুষও বোঝেন। এমন একটি রাজনৈতিক চক্রান্তমূলক মিথ্যা মামলায় অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ অতি জনপ্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারারুদ্ধ। অনেকেই মনে করেন, শেখ হাসিনা কেবল নির্বাচনী প্রচারণা হতেই তাকে সরিয়ে রাখতে চান না, বরং তিনি চান বেগম জিয়া যেন কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

মহান আল্লাহ বেগম জিয়াকে সব অপমান ও নির্যাতন সহ্য করার মতো মানসিক শক্তি ও আপোষহীন থাকার ধৈর্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় চক্রান্তের শিকার প্রাণপ্রিয় ছোট ছেলেকে হারিয়েও তিনি তার নৈতিক দায়িত্ব তথা আন্দোলন হতে সরে দাঁড়ান নি। বাকী ভবিষ্যতে বেগম জিয়া যে নুঁয়ে পড়বেন না, তা তিনি ইতোমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি আদালতকে বলেছেন, যতো পারেন আমাকে শাস্তি দেন। আর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন গণতন্ত্র উদ্ধারে জোরদার আন্দোলন অব্যাহত রাখুন।

এমন আপোষহীন নারী বাংলাদেশ কেন সমসাময়িক বিশ্বের কোথাও নেই। নেই এমন নির্যাতিত ব্যক্তিত্ব। এমন সৎ রাজনীতিক। এমন দেশপ্রেমিক। তিনি দেশ ও জাতির সম্পদ ও গৌরব। বেগম জিয়াই আমাদেরকে শিখিয়েছেন কীভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়। দেশের স্বার্থ-সম্পদ ও অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হয়। চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

জনতার আদালতে বেগম জিয়া নির্দোষ। তাই তিনি গণতন্ত্রের ”মা” হিসেবে জনস্বীকৃতি পাবার এবং ইতিহাসে অমর ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিবার মতো অবস্থানে পৌঁছেছেন। শেখ হাসিনার নির্যাতনের স্ট্রিম রোলারই এই জন্য দায়ী। ইতিহাস শেখ হাসিনাকে কীভাবে অভিহিত করবে, তা সবাই অনুমান নয়, অনুধাবন করতে পারেন। তবে ভয়ে বলতে পারেন না। তাদের মনে শেখ হাসিনার জায়গা নেই। আর এই জনগণই বেগম জিয়ার জন্য দোয়া করছেন। জনগণের ভালোবাসাই তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এই সম্পদ হারানোর মতো নয়। শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার এই সম্পদ ছিনিয়ে নিতে পারবেন না। এখানেই বেগম জিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ও অমরত্ব নিহিত। আমরা তার জন্য দোয়া করি।

সূত্র- শীর্ষ খবর

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত মহিলা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

আপডেট টাইম : ১২:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার বিএনপি’র নেত্রী বেগম জিয়ার ক্ষতি করতে গিয়ে তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে বেগম জিয়াকে অমরত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। সমসাময়িক বিশ্বে স্বাধীন, এমনকি পরাধীন কোন দেশে বেগম জিয়ার মতো এতো নির্যাতিত নারী আর কেউ আছেন কী না। সরকারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান পাশাপাশি রাখলে দেখা যায় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চিও বেগম জিয়ার ধারে কাছেও নেই। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া যে হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারই আজ্ঞাবহ আদালতের মিথ্যা ফরমায়েশি রায়ে ৭৩ বছরের একজন বৃদ্ধ মহিলা বিনা অপরাধে জেলে কাটছেন তার প্রমান নিজে হাসিনা লন্ডন সফর কালে অকপটে বলে ফেলেছেন একটি ফোন আলাপ এখন ভাইরাল। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপে ‘শেখ হাসিনা তার এক বিশেষ নেতাকে ফোন করে বলেছেন হোটেলে যেন নেতাকর্মীরা বেশি না আসে, দু-একজন আসলে আসতে পারে। হোটেল ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আর বিএনপিকে বলে দিবেন-তারেক রহমান যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে তার মা কোনদিনও মুক্তি পাবে না।

বেগম জিয়ার মূল অপরাধ তিনি ও তার নেতৃত্বাধীন দল বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ অপেক্ষা বাংলাদেশের জনগণের কাছে অধিকতর জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তাই শেখ হাসিনার চক্ষুশূল এবং রাজনৈতিক পথের কাঁটা। বাংলাদেশের আর কোন ব্যক্তি কিংবা দলকে শেখ হাসিনা তার প্ৰতিদ্বন্ধী মনে করেন না। বিএনপি বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক ও ধর্মভীরু জনমতের প্রতিনিধি বিশেষ। তাই শেখ হাসিনার ক্ষমতাপ্রাপ্তি ও ভারতের দীর্ঘমেয়াদী বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী আগ্রাসী চক্রান্ত বাস্তবায়নের বিরোধী সাধারণ ও অভিন্ন শত্রু হলো বিএনপি।

তাই শেখ হাসিনা ও ভারত উভয়ই বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য মরিয়া। তারা জানেন বিএনপি’র প্রাণ ও কান্ডারী জিয়া পরিবার। এই পরিবারকে শেষ করতে পারলে বিএনপি’কে শেষ করা মুহূর্তের ব্যাপারে পরিণত হবে। তাই এই পরিবারের সদস্য বেগম জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে রাজনীতি হতে দূরে রাখার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী ভারত অবিরাম চক্রান্তে লিপ্ত। এই দীর্ঘ চক্রান্তের চলমান শিকার বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম জিয়া এবং তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে কারারুদ্ধ। আর তারেক রহমানের দেশে আসার সব পথ বন্ধ করায় তিনি লন্ডনে নির্বাসিত। দেশী-বিদেশী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নিশ্চিত চলমান বাংলাদেশে বেগম জিয়ার মতো স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক অমায়িক রাজনীতিক দ্বিতীয় কেউ নেই। ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি বিরোধীদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন। বিরোধীদেরকে কোণঠাসা করতে ক্ষমতাকে ব্যবহার করেন নি। গণতান্ত্রিক ধারা ও মূল্যবোধ হতে সরে আসেন নি। জনগণের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন নি। তার ধ্যাণ-ধারণায় কাজে একদলীয় একনায়তন্ত্র কখনোই প্রশ্রয় পায় নি। হাজারো প্রচারণা সত্তে¡ও তিনি তার ক্ষমতাকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, কিংবা দুর্ণীতি করেছেন বাংলাদেশের মানুষ এমন অপবাধে আজো বিশ্বাস করেন না। তার বিরুদ্ধে যতো প্রচারণা চলে তার ওপর অত্যাচারের মাত্রা যতো বাড়ে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ততো বাড়ে। এই জন্য শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, আমি এতো উন্নয়নমূলক কাজ করি অথচ মানুষ আমার দলকে ভোট দিতে চায় না।

শেখ হাসিনার এই আত্মোপলব্ধিই তাকে বিএনপি নির্মূলের অভিযানে জিয়া পরিবারকে রাজনীতি হতে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাতে প্ররোচিত করেছে। কিন্তু বেগম জিয়ার নির্মল ও নির্লোভ অপোষহীন চরিত্র সব চক্রান্তকে ব্যর্থ করছে। তিনি কখনোই নিজ স্বার্থে দেশের স্বার্থ ও অস্তিত্বকে বিদেশী শক্তির কাছে বন্ধক দেন নি, কোন চাপের কাছে মাথা নত করেন নি। বিশেষত দেশের সাথে বেঈমানী করে ভারতের চাহিদা পূরণে সম্মত হলে বেগম জিয়ার কিংবা তার পরিবারের এবং বিএনপি’র আজকের দশা হতো না। বেগম জিয়া কিংবা বিএনপিকে আজকের বিপদাপন্ন অবস্থায় পড়তে হতো না, যদি বেগম জিয়া স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে বেঈমানী করে শেখ হাসিনার কথামতো ভাগাভাগির রাজনীতি করতেন। ২০১৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে নির্বাচন বর্জনের আন্দোলন হতে সরে এসে শেখ হাসিনার সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে বলেছিলেন আপনি যে যে পদ চান তা-ই আমি দেব। উল্লেখ্য, মাইনাস টু ফর্মূলার অংশ হিসেবে মঈন ইউ আহমেদরা বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করে। তাদের দুইজনকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। শেখ হািসনা তাদের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে কানের চিকিৎসার নামে বিদেশে চলে যান। বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বিমান সব প্রস্তুতি শেষ করেও মঈনদের চাপে আটক বেগম জিয়া সরাসরি বলে দিয়েছেন: মরতে হলে দেশের মানুষের সাথে দেশে মরবো, বিদেশে যাব না।

Khaleda Zia

বেগম জিয়াকে কারাদন্ডে দন্ডিত করার কাহিনী আরো লজ্জাজনক চক্রান্তের প্রতিফলন। মঈনরা শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে মামলা দায়ের করে শেখ হাসিনা ওই মামলাসহ তার ও তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসমূহকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রায় আট হাজার মামলা প্রত্যাহার করেন। কিন্তু বেগম জিয়া এবং বিএনপির নেতাকমীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার একটিও প্রত্যাহার তো করা হয়ই নি, বরং হাজার হাজার সাজানো নতুন মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।

বেগম জিয়া যে জিয়া চ্যারিটেবল হতে কোনো অর্থই আত্মস্মাৎ করেন নি, তার প্রমাণ ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। কিন্তু দলীয়করণের আদালত অনেকের মতে শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে বেগম জিয়াকে কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। আদালত দলীয় প্রভাবমুক্ত কালে প্রথম শুনানীর দিনেই মামলাটি এই যুক্তিতে খারিজ হয়ে যেতো যে, একই সরকারের আমলে একই ধরনের আরেকটি মামলাটি শেখ হাসিনা তুলে নিয়েছেন। সুতরাং আদালতের রায় যে কোনভাবেই আইনসম্মত নয়, বরং সুবিচারের বরখেলাপ তা অতি সাধারণ মানুষও বোঝেন। এমন একটি রাজনৈতিক চক্রান্তমূলক মিথ্যা মামলায় অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ অতি জনপ্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারারুদ্ধ। অনেকেই মনে করেন, শেখ হাসিনা কেবল নির্বাচনী প্রচারণা হতেই তাকে সরিয়ে রাখতে চান না, বরং তিনি চান বেগম জিয়া যেন কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

মহান আল্লাহ বেগম জিয়াকে সব অপমান ও নির্যাতন সহ্য করার মতো মানসিক শক্তি ও আপোষহীন থাকার ধৈর্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় চক্রান্তের শিকার প্রাণপ্রিয় ছোট ছেলেকে হারিয়েও তিনি তার নৈতিক দায়িত্ব তথা আন্দোলন হতে সরে দাঁড়ান নি। বাকী ভবিষ্যতে বেগম জিয়া যে নুঁয়ে পড়বেন না, তা তিনি ইতোমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি আদালতকে বলেছেন, যতো পারেন আমাকে শাস্তি দেন। আর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন গণতন্ত্র উদ্ধারে জোরদার আন্দোলন অব্যাহত রাখুন।

এমন আপোষহীন নারী বাংলাদেশ কেন সমসাময়িক বিশ্বের কোথাও নেই। নেই এমন নির্যাতিত ব্যক্তিত্ব। এমন সৎ রাজনীতিক। এমন দেশপ্রেমিক। তিনি দেশ ও জাতির সম্পদ ও গৌরব। বেগম জিয়াই আমাদেরকে শিখিয়েছেন কীভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়। দেশের স্বার্থ-সম্পদ ও অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হয়। চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

জনতার আদালতে বেগম জিয়া নির্দোষ। তাই তিনি গণতন্ত্রের ”মা” হিসেবে জনস্বীকৃতি পাবার এবং ইতিহাসে অমর ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিবার মতো অবস্থানে পৌঁছেছেন। শেখ হাসিনার নির্যাতনের স্ট্রিম রোলারই এই জন্য দায়ী। ইতিহাস শেখ হাসিনাকে কীভাবে অভিহিত করবে, তা সবাই অনুমান নয়, অনুধাবন করতে পারেন। তবে ভয়ে বলতে পারেন না। তাদের মনে শেখ হাসিনার জায়গা নেই। আর এই জনগণই বেগম জিয়ার জন্য দোয়া করছেন। জনগণের ভালোবাসাই তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এই সম্পদ হারানোর মতো নয়। শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার এই সম্পদ ছিনিয়ে নিতে পারবেন না। এখানেই বেগম জিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ও অমরত্ব নিহিত। আমরা তার জন্য দোয়া করি।

সূত্র- শীর্ষ খবর