ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

১০৪০ টাকা মণে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯
  • ৩৮৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ১০৪০ টাকা মণে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনবে সরকার। এক সপ্তাহের মধ্যেই ক্রয় সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে নীলফামারীতে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। এছাড়া ১৪৪০ টাকা মণে সিদ্ধ চাল এবং ১৪০০ টাকা মণে আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে চলতি বোরো মৌসুমে।

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার ছয় উপজেলায় ২৬১২ মেট্রিক টন ধান, ১৭ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৬১৬ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। চাল সংগ্রহের জন্য ৫৯৬ জন মিলার ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে খাদ্য বিভাগের সাথে। এরমধ্যে ১৮ জন অটো রাইস মিল এবং ৫৭৮ জন হাসকিং মিল মালিক রয়েছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন অভি জানান, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হবে। এক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকা অনুসরণ এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদন কৃত কৃষকরা সরাসরি ধান দিতে পারবেন খাদ্য গুদামে।

তিনি জানান, ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা এবং আতপ চাল ৩৫ টাকা কেজিতে সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলবে।

তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার সাতটি গুদামে ক্রয় অভিযান শুরু করা হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় লক্ষ্যমাত্রার বেশি আবাদ হয়েছে বোরো ধান। ৮১ হাজার ৬১৩ হেক্টরের বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮৩ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, জেলায় ৮৩ হাজার ৫৩৯টি কৃষক পরিবার রয়েছেন।

ইতোমধ্যে প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে বলে জানান কৃষিবিদ আযাদ।

জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন বলেন, ধানের বাজার দর যে অবস্থায় রয়েছে সেটি একই রকম থাকবে না। পরিবর্তন ঘটবে। সরকারিভাবে ক্রয় অভিযান শুরু হলে স্বাভাবিক ভাবে ধানের বাজারে প্রভাব ফেলবে।

তবে কৃষক নেতারা বলছেন কৃষকদের নিয়ে সরকারকে নতুন করে  ভাবতে হবে। ধান আবাদ করে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতি নীলফামারী জেলা কমিটির সভাপতি ও সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি শ্রীদাম দাস বলেন, খাদ্য গুদাম ছাড়াও বড় বড় হাট বাজারে ক্রয় কেন্দ্র চালু করে সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে।

তিনি বলেন, অতি দ্রুত সংগ্রহ অভিযান শুরু করা দরকার। তাহলে বাজারে দামের প্রভাব পড়বে। কৃষকরা উপকৃত হবেন।

তবে ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক নীলফামারীর পলাশবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তপন কুমার রায় বলেন, ১৩০০ টাকা মণে ধান কেনার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছি।

এক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যে যাতে কৃষকরা হাটে বাজারে সরাসরি ধান দিয়ে নগদ অর্থ বুঝে পান তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। এক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হতে পারবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাসহ ৮ বিভাগে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস

১০৪০ টাকা মণে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার

আপডেট টাইম : ০৩:৫০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ১০৪০ টাকা মণে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনবে সরকার। এক সপ্তাহের মধ্যেই ক্রয় সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে নীলফামারীতে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। এছাড়া ১৪৪০ টাকা মণে সিদ্ধ চাল এবং ১৪০০ টাকা মণে আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে চলতি বোরো মৌসুমে।

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার ছয় উপজেলায় ২৬১২ মেট্রিক টন ধান, ১৭ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৬১৬ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। চাল সংগ্রহের জন্য ৫৯৬ জন মিলার ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে খাদ্য বিভাগের সাথে। এরমধ্যে ১৮ জন অটো রাইস মিল এবং ৫৭৮ জন হাসকিং মিল মালিক রয়েছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন অভি জানান, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হবে। এক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকা অনুসরণ এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদন কৃত কৃষকরা সরাসরি ধান দিতে পারবেন খাদ্য গুদামে।

তিনি জানান, ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা এবং আতপ চাল ৩৫ টাকা কেজিতে সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলবে।

তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার সাতটি গুদামে ক্রয় অভিযান শুরু করা হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় লক্ষ্যমাত্রার বেশি আবাদ হয়েছে বোরো ধান। ৮১ হাজার ৬১৩ হেক্টরের বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮৩ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, জেলায় ৮৩ হাজার ৫৩৯টি কৃষক পরিবার রয়েছেন।

ইতোমধ্যে প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে বলে জানান কৃষিবিদ আযাদ।

জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন বলেন, ধানের বাজার দর যে অবস্থায় রয়েছে সেটি একই রকম থাকবে না। পরিবর্তন ঘটবে। সরকারিভাবে ক্রয় অভিযান শুরু হলে স্বাভাবিক ভাবে ধানের বাজারে প্রভাব ফেলবে।

তবে কৃষক নেতারা বলছেন কৃষকদের নিয়ে সরকারকে নতুন করে  ভাবতে হবে। ধান আবাদ করে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতি নীলফামারী জেলা কমিটির সভাপতি ও সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি শ্রীদাম দাস বলেন, খাদ্য গুদাম ছাড়াও বড় বড় হাট বাজারে ক্রয় কেন্দ্র চালু করে সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে।

তিনি বলেন, অতি দ্রুত সংগ্রহ অভিযান শুরু করা দরকার। তাহলে বাজারে দামের প্রভাব পড়বে। কৃষকরা উপকৃত হবেন।

তবে ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক নীলফামারীর পলাশবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তপন কুমার রায় বলেন, ১৩০০ টাকা মণে ধান কেনার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছি।

এক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যে যাতে কৃষকরা হাটে বাজারে সরাসরি ধান দিয়ে নগদ অর্থ বুঝে পান তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। এক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হতে পারবে না।