ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সারাদিন রোজায় ভোগাচ্ছে যানজট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০১৯
  • ২৯৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সারাদিন রোজা শেষে সবাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করতে চান। পরিবারের সদস্যরাও অপেক্ষায় থাকে প্রিয় মানুষের জন্য। কিন্তু রাজধানীর অসহনীয় যানজটের প্যাঁচে পড়ে অনেকেই পথে সেরে নিচ্ছেন ইফতার। রমজান মাসে অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। একসঙ্গে সব অফিস ছুটি হওয়ার কারণে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোজার মাসে দুপুরের পর যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

গত মঙ্গলবার ছিল প্রথম রোজা। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর সড়কগুলোতে যানজট ছিল না। তবে বিকালে যানজট বেড়ে যায়। তবু মনে করা হচ্ছিল এবার রোজার মাসে যানজট অন্য বছরের মতো তীব্র হবে না। কিন্তু গতকাল বুধবার দ্বিতীয় রোজায় দিনভর তীব্র যানজট ছিল। বিকালের দিকে তা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। অনেকে কয়েক ঘণ্টা আগে রওনা দিয়েও বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারেননি। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ছিলেন বাসে। কেউ কেউ আবার বিরক্ত হয়ে বাস থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন।

অনেকে পথেই সারেন ইফতার। ভোগান্তি তীব্রতর হয়েছে অসহ্য গরমে। বাসের ভেতর বসে দরদর করে ঘামছেন যাত্রীরা। তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন মহিলা ও শিশুরা। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। আপলোড করছেন ভোগান্তির নানা দৃশ্য।

সময় প্রকাশনের কর্ণধার ফরিদ আহমেদ তার ফেসবুক ওয়ালে গত দুই দিনে ভোগান্তির নানা ফিরিস্তি তুলে ধরে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি লেখেন, ‘২.৪৫ মিনিটে বাংলাবাজার থেকে রওনা দিয়েছি। এখন বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ফুলবাড়িয়া (গুলিস্তান)। ধানমন্ডি পৌঁছাব কখন?’

এর কিছুক্ষণ পর আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজিমপুর এলাকায় কোন সুহৃদ আছেন? আমাকে ইফতার করাবেন?’

গতকাল বুধবার ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘সকালে ধানমন্ডি থেকে ৪৫ মিনিটে বাংলাবাজার পৌঁছলাম। বিকালে ফিরতি পথে কী হবে?’ এরপর আরেক পোস্টে লেখেন, ‘এখন এক ঘণ্টায় বাসায় চলে এলাম। ইফতারির আরও আড়াই ঘণ্টা বাকি। ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম।’

এভাবে ফেসবুকের ওয়াল ভরে যাচ্ছে যানজটের কারণে ইফতারি করতে না পারার হতাশায়। তবে যথারীতি সকালের দিকে যানজটের দেখা মিলছে না। সমস্যা তীব্রতর হচ্ছে দুপুরের পর থেকে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোজার মাসে পরিবারের সঙ্গে ইফতারের সুযোগ দিতে অফিসসূচি পরিবর্তন করে সরকার। বেসরকারি অফিসগুলোতেও আগে আগে ছুটি দেওয়া হয়। ফলে অফিসফেরত বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়ায় তীব্র হয়ে ওঠে যানজট। এছাড়া রাজধানীজুড়ে চলছে উন্নয়নকাজ। এতে যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি করায় কমে গেছে সড়কের আয়তন ফলে গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পল্টন মোড়, শাহবাগ, বাংলামটর, কারওয়ানবাজার কয়েক জায়গায় সড়ক অর্ধেকের কম হয়ে গেছে। একই কারণে মিরপুর ১০, ১১, ১২ সেকশনে গণযোগাযোগে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলছে খননকাজ। এভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সড়কের আয়তন কমে যাওয়ায় এমনিতেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর ওপর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ বাসায় ফেরায় যানজট সামাল দিতে পারছে না ট্রাফিক বিভাগ।

তবে তারা বলছে, রোজা উপলক্ষে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিকালের দিকে যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সংস্থাটি আশা করছে, এ বছর রোজায় যানজট নাগালের মধ্যে রাখা যাবে। কিন্তু এসব আশ^াসে ভরসা করছেন না যাত্রীসাধারণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদিন রোজায় ভোগাচ্ছে যানজট

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সারাদিন রোজা শেষে সবাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করতে চান। পরিবারের সদস্যরাও অপেক্ষায় থাকে প্রিয় মানুষের জন্য। কিন্তু রাজধানীর অসহনীয় যানজটের প্যাঁচে পড়ে অনেকেই পথে সেরে নিচ্ছেন ইফতার। রমজান মাসে অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। একসঙ্গে সব অফিস ছুটি হওয়ার কারণে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোজার মাসে দুপুরের পর যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

গত মঙ্গলবার ছিল প্রথম রোজা। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর সড়কগুলোতে যানজট ছিল না। তবে বিকালে যানজট বেড়ে যায়। তবু মনে করা হচ্ছিল এবার রোজার মাসে যানজট অন্য বছরের মতো তীব্র হবে না। কিন্তু গতকাল বুধবার দ্বিতীয় রোজায় দিনভর তীব্র যানজট ছিল। বিকালের দিকে তা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। অনেকে কয়েক ঘণ্টা আগে রওনা দিয়েও বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারেননি। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ছিলেন বাসে। কেউ কেউ আবার বিরক্ত হয়ে বাস থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন।

অনেকে পথেই সারেন ইফতার। ভোগান্তি তীব্রতর হয়েছে অসহ্য গরমে। বাসের ভেতর বসে দরদর করে ঘামছেন যাত্রীরা। তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন মহিলা ও শিশুরা। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। আপলোড করছেন ভোগান্তির নানা দৃশ্য।

সময় প্রকাশনের কর্ণধার ফরিদ আহমেদ তার ফেসবুক ওয়ালে গত দুই দিনে ভোগান্তির নানা ফিরিস্তি তুলে ধরে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি লেখেন, ‘২.৪৫ মিনিটে বাংলাবাজার থেকে রওনা দিয়েছি। এখন বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ফুলবাড়িয়া (গুলিস্তান)। ধানমন্ডি পৌঁছাব কখন?’

এর কিছুক্ষণ পর আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজিমপুর এলাকায় কোন সুহৃদ আছেন? আমাকে ইফতার করাবেন?’

গতকাল বুধবার ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘সকালে ধানমন্ডি থেকে ৪৫ মিনিটে বাংলাবাজার পৌঁছলাম। বিকালে ফিরতি পথে কী হবে?’ এরপর আরেক পোস্টে লেখেন, ‘এখন এক ঘণ্টায় বাসায় চলে এলাম। ইফতারির আরও আড়াই ঘণ্টা বাকি। ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম।’

এভাবে ফেসবুকের ওয়াল ভরে যাচ্ছে যানজটের কারণে ইফতারি করতে না পারার হতাশায়। তবে যথারীতি সকালের দিকে যানজটের দেখা মিলছে না। সমস্যা তীব্রতর হচ্ছে দুপুরের পর থেকে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোজার মাসে পরিবারের সঙ্গে ইফতারের সুযোগ দিতে অফিসসূচি পরিবর্তন করে সরকার। বেসরকারি অফিসগুলোতেও আগে আগে ছুটি দেওয়া হয়। ফলে অফিসফেরত বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়ায় তীব্র হয়ে ওঠে যানজট। এছাড়া রাজধানীজুড়ে চলছে উন্নয়নকাজ। এতে যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি করায় কমে গেছে সড়কের আয়তন ফলে গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পল্টন মোড়, শাহবাগ, বাংলামটর, কারওয়ানবাজার কয়েক জায়গায় সড়ক অর্ধেকের কম হয়ে গেছে। একই কারণে মিরপুর ১০, ১১, ১২ সেকশনে গণযোগাযোগে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলছে খননকাজ। এভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সড়কের আয়তন কমে যাওয়ায় এমনিতেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর ওপর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ বাসায় ফেরায় যানজট সামাল দিতে পারছে না ট্রাফিক বিভাগ।

তবে তারা বলছে, রোজা উপলক্ষে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিকালের দিকে যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সংস্থাটি আশা করছে, এ বছর রোজায় যানজট নাগালের মধ্যে রাখা যাবে। কিন্তু এসব আশ^াসে ভরসা করছেন না যাত্রীসাধারণ।