ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

কাঁচাবাজার যেন মগের মুল্লুক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯
  • ৩০৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রমজান মাস যতই এগিয়ে আসছে, ততই যেন মাছ, মাংস ও সবজির দাম নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের খেলা জমে উঠতে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা বুঝে যে যার মতো করে বিভিন্ন সবজির দাম চাইছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, কাঁঠালবাগান ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে বিভিন্ন জিনিসের দামের এই তারতম্য দেখা গেছে। এরই মধ্যে বাজারে বেড়ে গেছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। শাক-সবজি এবং মাছ-মাংসও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম।

কারওয়ান বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ২২-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই মানের পেঁয়াজ টাউন হল ও হাতিরপুল বাজারে বিক্রেতারা ৩৫-৪০ টাকা দামে বিক্রি করছেন। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকারও বেশি। একই চিত্র দেখা গেছে আলুর দামের ক্ষেত্রেও। কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৭-১৮ টাকায়। সেটা অন্য বাজারে ২০-২২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আলুর দাম দুই-তিন টাকা বেড়ে গেছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, অনেক ক্রেতা রমজানের আগেই বেশি পরিমাণে আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মসলা কিনে মজুদ করে রাখছেন। এ জন্য বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়েছে।

ফলে দামও কিছুটা বেড়ে গেছে। এ ছাড়া আলু ও পেঁয়াজ-রসুনের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। এখন হিমাগার ও আড়তে মজুদ রাখা পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দাম কিছুটা বাড়ছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, প্রতি বছরই রমজান মাস এগিয়ে এলে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র অতি মুনাফার লোভে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। রোজা শুরু হওয়ার এক মাস আগে থেকেই তারা এবার সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজিতে বাজার ভরে উঠলেও দাম না কমে বরং প্রতিদিনই বাড়ছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে কম দামি যে সবজি, সেই পেঁপের দামও প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা। পটোল আর শিম ছাড়া আর কোনো সবজিই ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাজারভেদে প্রতি কেজি পটোল ৪০-৫০ টাকা, সজনে ডাটা ৬০-৮০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০, কচুর লতি ৭০-৮০, করলা ৬০-৭০ টাকা, ধুন্দল ৭০-৮০, বেগুন ৬০-৭০ টাকা, এবং ঢেঁড়শ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা সবজি বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তাদের বেশি টাকায় কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, শিলাবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় খেতের সবজি নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কম। তাই দাম কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা, লাল লেয়ার মুরগি ২১০-২২০, আর পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকা কেজিতে। বাজারভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০-৫৫০ টাকা কেজি। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপণ্যের তালিকায় দেখা যায়, এক মাস আগেও গরুর মাংসের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০০ টাকা।

দুই মাসে আগে ছিল ৪৮০ টাকা। আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের মাছও বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১০০-১০৫ টাকা। বর্তমানে বাজারভেদে তা ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রমজানে ব্যবসায়ীদের দ্রব্যমূল্য না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সিও বলেছেন, রমজানে কোনো জিনিসের দাম বাড়বে না। কিন্তু তাদের কথার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বাজারে। এ বিষয়ে দেখভাল করার যেন কেউ নেই। বাজারে সরকারের তদারকির অভাবেই ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো কারসাজি করে ফায়দা লুটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

কাঁচাবাজার যেন মগের মুল্লুক

আপডেট টাইম : ০৪:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রমজান মাস যতই এগিয়ে আসছে, ততই যেন মাছ, মাংস ও সবজির দাম নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের খেলা জমে উঠতে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা বুঝে যে যার মতো করে বিভিন্ন সবজির দাম চাইছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, কাঁঠালবাগান ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে বিভিন্ন জিনিসের দামের এই তারতম্য দেখা গেছে। এরই মধ্যে বাজারে বেড়ে গেছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। শাক-সবজি এবং মাছ-মাংসও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম।

কারওয়ান বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ২২-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই মানের পেঁয়াজ টাউন হল ও হাতিরপুল বাজারে বিক্রেতারা ৩৫-৪০ টাকা দামে বিক্রি করছেন। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকারও বেশি। একই চিত্র দেখা গেছে আলুর দামের ক্ষেত্রেও। কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৭-১৮ টাকায়। সেটা অন্য বাজারে ২০-২২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আলুর দাম দুই-তিন টাকা বেড়ে গেছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, অনেক ক্রেতা রমজানের আগেই বেশি পরিমাণে আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মসলা কিনে মজুদ করে রাখছেন। এ জন্য বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়েছে।

ফলে দামও কিছুটা বেড়ে গেছে। এ ছাড়া আলু ও পেঁয়াজ-রসুনের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। এখন হিমাগার ও আড়তে মজুদ রাখা পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দাম কিছুটা বাড়ছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, প্রতি বছরই রমজান মাস এগিয়ে এলে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র অতি মুনাফার লোভে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। রোজা শুরু হওয়ার এক মাস আগে থেকেই তারা এবার সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজিতে বাজার ভরে উঠলেও দাম না কমে বরং প্রতিদিনই বাড়ছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে কম দামি যে সবজি, সেই পেঁপের দামও প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা। পটোল আর শিম ছাড়া আর কোনো সবজিই ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাজারভেদে প্রতি কেজি পটোল ৪০-৫০ টাকা, সজনে ডাটা ৬০-৮০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০, কচুর লতি ৭০-৮০, করলা ৬০-৭০ টাকা, ধুন্দল ৭০-৮০, বেগুন ৬০-৭০ টাকা, এবং ঢেঁড়শ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা সবজি বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তাদের বেশি টাকায় কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, শিলাবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় খেতের সবজি নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কম। তাই দাম কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা, লাল লেয়ার মুরগি ২১০-২২০, আর পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকা কেজিতে। বাজারভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০-৫৫০ টাকা কেজি। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপণ্যের তালিকায় দেখা যায়, এক মাস আগেও গরুর মাংসের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০০ টাকা।

দুই মাসে আগে ছিল ৪৮০ টাকা। আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের মাছও বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১০০-১০৫ টাকা। বর্তমানে বাজারভেদে তা ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রমজানে ব্যবসায়ীদের দ্রব্যমূল্য না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সিও বলেছেন, রমজানে কোনো জিনিসের দাম বাড়বে না। কিন্তু তাদের কথার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বাজারে। এ বিষয়ে দেখভাল করার যেন কেউ নেই। বাজারে সরকারের তদারকির অভাবেই ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো কারসাজি করে ফায়দা লুটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।