ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

গাছ-কবর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০১৫
  • ৮০৪ বার

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণে সুলাওয়েসি পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে কোন শিশু মারা গেলে তাদেরকে সমাহিত করা হয় জীবন্ত গাছের গুঁড়ির ভেতরে। একটি গাছের গুঁড়ির ভেতরে এভাবে অনেক শিশুকে সমাহিত করা হয়েছে। তাদের ধারণা, গাছের গুঁড়িতে গর্ত করে সেখানে লাশ সমাহিত করা হলে সেই মৃতদেহ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে সৃষ্টিকর্তার কাছে চলে যায়। যুগ যুগ ধরে সেখানে এ রীতি পালন করা হচ্ছে। কোন সদ্যজাত শিশু মারা গেলে তাকে প্রথমে পরিষ্কার কাপড়ে জড়িয়ে নেয়া হয়। এরপর জীবন্ত গাছের গুঁড়িতে বড়সড় একটি গর্ত করা হয়। সেই গর্তে ওই মৃতদেহ রেখে দেয় স্থানীয়রা। এরপর গর্তের মুখ বন্ধ করে দেয় বিভিন্ন জিনিস দিয়ে। তবে এক্ষেত্রে তাল গাছের আঁশযুক্ত অংশ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। রাজধানী থেকে ১৮৬ মাইল উত্তরে পাহাড়ি জনপদ তানা তোরাজা। দুর্গম সেই জনপদের খবর বাইরের দুনিয়া খুব কমই পায়। তবে আধুনিক যোগাযোগের দুনিয়ায় সে খবরও বেরিয়ে আসছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, দণ্ডায়মান এক একটি বিশাল গাছ। তার কাণ্ডে বিশাল বিশাল গর্ত। আসলে এগুলো গর্ত নয়, শিশুদের সমাধিক্ষেত্র। এক একটি গাছের কাণ্ডে এভাবে কয়েক ডজন পর্যন্ত শিশুকে সমাহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি শিশু মারা গেছে সেখানে। সবেমাত্র তার দাঁত উঠা শুরু হয়েছিল। তাকেও ওই একই রীতিতে সমাহিত করা হয়েছে। যে পরিবারের সদস্য মারা যায় তাদের পূর্বপুরুষের দেহ সমাধি খুঁড়ে উদ্ধার করে। তাদের পোশাক পরিবর্তন করিয়ে দেয়, তাদেরকে স্মরণ করার উদ্দেশে। এরপর মৃত ব্যক্তির অবশিষ্ট অংশ নিয়ে গ্রাম ঘোরায়। এ রীতিকে বলা হয় ‘মানেনে’। মৃত ব্যক্তির প্রতি তাদের সম্মান প্রকাশ করার জন্য প্রতি তিন বছর পর পর এ রীতি পালন করতে হয়। স্থানীয়রা মনে করেন, মৃত ব্যক্তি এখনও ওই পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করেন, যদিও তিনি বা তারা কয়েক শত বছর আগেও মারা গিয়ে থাকেন। সেখানে সমাহিত করার আরও কিছু রীতি আছে। যেমন, মৃত স্বজনকে সমাহিত করে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করে সৃষ্ট গুহায়। আর না হয় কফিন ঝুলিয়ে দেয়া হয় পাহাড়ের কোন প্রান্ত থেকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

গাছ-কবর

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০১৫

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণে সুলাওয়েসি পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে কোন শিশু মারা গেলে তাদেরকে সমাহিত করা হয় জীবন্ত গাছের গুঁড়ির ভেতরে। একটি গাছের গুঁড়ির ভেতরে এভাবে অনেক শিশুকে সমাহিত করা হয়েছে। তাদের ধারণা, গাছের গুঁড়িতে গর্ত করে সেখানে লাশ সমাহিত করা হলে সেই মৃতদেহ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে সৃষ্টিকর্তার কাছে চলে যায়। যুগ যুগ ধরে সেখানে এ রীতি পালন করা হচ্ছে। কোন সদ্যজাত শিশু মারা গেলে তাকে প্রথমে পরিষ্কার কাপড়ে জড়িয়ে নেয়া হয়। এরপর জীবন্ত গাছের গুঁড়িতে বড়সড় একটি গর্ত করা হয়। সেই গর্তে ওই মৃতদেহ রেখে দেয় স্থানীয়রা। এরপর গর্তের মুখ বন্ধ করে দেয় বিভিন্ন জিনিস দিয়ে। তবে এক্ষেত্রে তাল গাছের আঁশযুক্ত অংশ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। রাজধানী থেকে ১৮৬ মাইল উত্তরে পাহাড়ি জনপদ তানা তোরাজা। দুর্গম সেই জনপদের খবর বাইরের দুনিয়া খুব কমই পায়। তবে আধুনিক যোগাযোগের দুনিয়ায় সে খবরও বেরিয়ে আসছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, দণ্ডায়মান এক একটি বিশাল গাছ। তার কাণ্ডে বিশাল বিশাল গর্ত। আসলে এগুলো গর্ত নয়, শিশুদের সমাধিক্ষেত্র। এক একটি গাছের কাণ্ডে এভাবে কয়েক ডজন পর্যন্ত শিশুকে সমাহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি শিশু মারা গেছে সেখানে। সবেমাত্র তার দাঁত উঠা শুরু হয়েছিল। তাকেও ওই একই রীতিতে সমাহিত করা হয়েছে। যে পরিবারের সদস্য মারা যায় তাদের পূর্বপুরুষের দেহ সমাধি খুঁড়ে উদ্ধার করে। তাদের পোশাক পরিবর্তন করিয়ে দেয়, তাদেরকে স্মরণ করার উদ্দেশে। এরপর মৃত ব্যক্তির অবশিষ্ট অংশ নিয়ে গ্রাম ঘোরায়। এ রীতিকে বলা হয় ‘মানেনে’। মৃত ব্যক্তির প্রতি তাদের সম্মান প্রকাশ করার জন্য প্রতি তিন বছর পর পর এ রীতি পালন করতে হয়। স্থানীয়রা মনে করেন, মৃত ব্যক্তি এখনও ওই পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করেন, যদিও তিনি বা তারা কয়েক শত বছর আগেও মারা গিয়ে থাকেন। সেখানে সমাহিত করার আরও কিছু রীতি আছে। যেমন, মৃত স্বজনকে সমাহিত করে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করে সৃষ্ট গুহায়। আর না হয় কফিন ঝুলিয়ে দেয়া হয় পাহাড়ের কোন প্রান্ত থেকে।