ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক বাড়ছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
  • ৩৮৪ বার

সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এখনও ৯ মাস বাকি। তার আগেই বিক্রি হয়ে গেছে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি সঞ্চয়পত্র। অর্থাৎ মানুষের সঞ্চয়পত্র কেনা নিত্য বাড়ছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট ২২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। মোট বিক্রি হওয়া এই ২২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদে ৮ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এই হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৩ হাজার ৪১২ কোটি  টাকা। অথচ এবারের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছিল। এ হিসাবে মাত্র তিন মাসেই সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি অর্থ ধার করে ফেলেছে সরকার। অর্থ বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক এখন আমানতে যে হারে সুদ দিচ্ছে, সঞ্চয়পত্র কিনলে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সুদ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রণোদনা পেলেও পুঁজিবাজারে অস্থিরতা কাটছে না। এজন্য মানুষ সঞ্চয়পত্রে টাকা ঢালছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকের আমানতের সুদের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি। এছাড়া নানা কারণে দেশে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম। ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থাও খুব একটা ভাল না। সব মিলিয়েই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মানুষ সঞ্চয়পত্র কিনছেন। তবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয়ের পরামর্শ দিয়েছেন এ অর্থনীতি বিশ্লেষক। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেনি।

দেশে প্রচলিত ৪ ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত জুনে বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কয়েকবার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার সমন্বয় হবে বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। এদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত আগস্ট থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ ও আমানতে নয়-ছয় সুদ কার্যকর শুরু হয়েছে। যদিও সব ব্যাংক এখনও পুরোপুরিভাবে এই নির্দেশনা পালন করেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক বাড়ছে

আপডেট টাইম : ০২:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এখনও ৯ মাস বাকি। তার আগেই বিক্রি হয়ে গেছে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি সঞ্চয়পত্র। অর্থাৎ মানুষের সঞ্চয়পত্র কেনা নিত্য বাড়ছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট ২২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। মোট বিক্রি হওয়া এই ২২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদে ৮ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এই হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৩ হাজার ৪১২ কোটি  টাকা। অথচ এবারের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছিল। এ হিসাবে মাত্র তিন মাসেই সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি অর্থ ধার করে ফেলেছে সরকার। অর্থ বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক এখন আমানতে যে হারে সুদ দিচ্ছে, সঞ্চয়পত্র কিনলে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সুদ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রণোদনা পেলেও পুঁজিবাজারে অস্থিরতা কাটছে না। এজন্য মানুষ সঞ্চয়পত্রে টাকা ঢালছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকের আমানতের সুদের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি। এছাড়া নানা কারণে দেশে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম। ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থাও খুব একটা ভাল না। সব মিলিয়েই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মানুষ সঞ্চয়পত্র কিনছেন। তবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয়ের পরামর্শ দিয়েছেন এ অর্থনীতি বিশ্লেষক। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেনি।

দেশে প্রচলিত ৪ ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত জুনে বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কয়েকবার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার সমন্বয় হবে বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। এদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত আগস্ট থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ ও আমানতে নয়-ছয় সুদ কার্যকর শুরু হয়েছে। যদিও সব ব্যাংক এখনও পুরোপুরিভাবে এই নির্দেশনা পালন করেনি।