ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য বিদ্যালয়ে ভর্তিতে লটারি বাতিলের দাবি মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের দাবিতে ভিকারুননিসা অ্যালামনাইয়ের ব্যাখ্যা যে ৭ সবজি অতিরিক্ত খেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে যে পাঁচটি সিনেমা ভ্রমণপিপাসুদের অবশ্যই দেখা উচিত সৌদিতে মিসাইল হামলায় দগ্ধ প্রবাসী মামুনের মৃত্যু ঈদের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা রাজধানী দেশে প্রথমবারের মতো চালু পেট অ্যাম্বুলেন্স, নেটিজেনদের প্রশংসা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে নুতন এআই টুল আনছে মেটা

কেঁচোসার উৎপাদনে পর তার ভাগ্যবদল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮
  • ৪৪৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন নিজেই কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন করেন। তা নিজেদের চাষাবাদে ব্যবহার করেন। আবার প্রতি মাসে অন্তত ২৫ হাজার টাকার সার বিক্রি করেন। এতে বছরে আয় হয় অন্তত দুই লাখ টাকা। এখন পুরোদস্তর স্বাবলম্বী আবুল হোসেন।

কেঁচো সার উৎপাদন শুরুর পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাদের। সংসারের হাল তো ধরেছেনই, বিদায় জানিয়েছেন অভাব-অনটনের দিনগুলোকেও। আবুল হোসেনের জীবনে এই অভাবনীয় সাফল্য এনেছে কেঁচো। তার বাড়ি উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়নের ইউনিয়নের বাশিয়া গ্রামে।

গত বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানে কম্পোস্ট সার তৈরি করছেন। তার পাশে একচালা ঘরে সিমেন্টের তৈরি ২০০টি চারি।

আবুল হোসেন বলেন, চারির মাধ্যমে তিনি দেড় বছর ধরে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। গোবর, চা পাতা, কচুরিপানা লতা-পাতা ও ডিমের খোসা, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও কলাগাছ টুকরা টুকরা করে কেটে মেশানো হয়। বিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে দিয়ে কেচু সার তৈরি করেন। সেগুলো চারিতে ভাগ করে রাখা হয়। প্রতিটিতে ছেড়ে দেয়া হয় অন্তত এক হাজার কেঁচো। চটের বস্তা দিয়ে চারি ঢেকে রাখা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কেঁচো সার উৎপাদন হতে দুই মাস সময় লাগে। প্রতি মাসে গড়ে তিনি ২০ থেকে ২২ মণ কেঁচো সার উৎপাদন করতে পারেন। ১৪-১৫ টাকা কেজি দরে এ সার বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে মাসে সাত-আট হাজার টাকা লাভ থাকে। পাশাপাশি চারিতে কেঁচোর বংশ বিস্তার ঘটে। প্রতিটি কেঁচো এক টাকা দরে বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এই সার ব্যবহার করে তিনি ২ একর ১০ শতাংশ জমিতে সারা বছর সবজি ও ধান চাষ করছেন। প্রথমে ২০টি মাটির চারি দিয়ে কেচু সার তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে কেচু সারের খামারে দুই শতাধিক চারি আছে। আগে অনেক কষ্ট করে সংসার চলত। এই কেঁচো সার উৎপাদনই তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল বলেন, কেঁচো প্রতি তিন মাসে একবার বংশ বৃদ্ধি করে। একেকবার প্রতিটি কেঁচো ১০০ থেকে ১৫০টি কেঁচো জন্ম দেয়। প্রতিটি বাচ্চা কেঁচোর বাজারমূল্য এক টাকা ৭৫ থেকে ৮০ পয়সা। ফলে মাত্র চার হাজার কেঁচো চাষ করে প্রতি তিন মাসে ৬০ হাজার টাকার বাচ্চা ও ৩০ হাজার টাকার সার বিক্রি করা সম্ভব। আবুল হোসেনকে দেখে এখন উপজেলার অকেকেই কেঁচো চাষ করছেন। স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াইয়ে সাফল্য পেয়েছেন তারাও।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য

কেঁচোসার উৎপাদনে পর তার ভাগ্যবদল

আপডেট টাইম : ০৬:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন নিজেই কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন করেন। তা নিজেদের চাষাবাদে ব্যবহার করেন। আবার প্রতি মাসে অন্তত ২৫ হাজার টাকার সার বিক্রি করেন। এতে বছরে আয় হয় অন্তত দুই লাখ টাকা। এখন পুরোদস্তর স্বাবলম্বী আবুল হোসেন।

কেঁচো সার উৎপাদন শুরুর পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাদের। সংসারের হাল তো ধরেছেনই, বিদায় জানিয়েছেন অভাব-অনটনের দিনগুলোকেও। আবুল হোসেনের জীবনে এই অভাবনীয় সাফল্য এনেছে কেঁচো। তার বাড়ি উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়নের ইউনিয়নের বাশিয়া গ্রামে।

গত বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানে কম্পোস্ট সার তৈরি করছেন। তার পাশে একচালা ঘরে সিমেন্টের তৈরি ২০০টি চারি।

আবুল হোসেন বলেন, চারির মাধ্যমে তিনি দেড় বছর ধরে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। গোবর, চা পাতা, কচুরিপানা লতা-পাতা ও ডিমের খোসা, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও কলাগাছ টুকরা টুকরা করে কেটে মেশানো হয়। বিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে দিয়ে কেচু সার তৈরি করেন। সেগুলো চারিতে ভাগ করে রাখা হয়। প্রতিটিতে ছেড়ে দেয়া হয় অন্তত এক হাজার কেঁচো। চটের বস্তা দিয়ে চারি ঢেকে রাখা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কেঁচো সার উৎপাদন হতে দুই মাস সময় লাগে। প্রতি মাসে গড়ে তিনি ২০ থেকে ২২ মণ কেঁচো সার উৎপাদন করতে পারেন। ১৪-১৫ টাকা কেজি দরে এ সার বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে মাসে সাত-আট হাজার টাকা লাভ থাকে। পাশাপাশি চারিতে কেঁচোর বংশ বিস্তার ঘটে। প্রতিটি কেঁচো এক টাকা দরে বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এই সার ব্যবহার করে তিনি ২ একর ১০ শতাংশ জমিতে সারা বছর সবজি ও ধান চাষ করছেন। প্রথমে ২০টি মাটির চারি দিয়ে কেচু সার তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে কেচু সারের খামারে দুই শতাধিক চারি আছে। আগে অনেক কষ্ট করে সংসার চলত। এই কেঁচো সার উৎপাদনই তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল বলেন, কেঁচো প্রতি তিন মাসে একবার বংশ বৃদ্ধি করে। একেকবার প্রতিটি কেঁচো ১০০ থেকে ১৫০টি কেঁচো জন্ম দেয়। প্রতিটি বাচ্চা কেঁচোর বাজারমূল্য এক টাকা ৭৫ থেকে ৮০ পয়সা। ফলে মাত্র চার হাজার কেঁচো চাষ করে প্রতি তিন মাসে ৬০ হাজার টাকার বাচ্চা ও ৩০ হাজার টাকার সার বিক্রি করা সম্ভব। আবুল হোসেনকে দেখে এখন উপজেলার অকেকেই কেঁচো চাষ করছেন। স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াইয়ে সাফল্য পেয়েছেন তারাও।