ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মহসীন আলীর আসনে প্রার্থী এক ডজন আ.লীগের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০১৫
  • ২৯০ বার

প্রয়াত সমাজক্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে। উপনির্বাচনে সৈয়দা সায়রা মহসীনসহ শুধু আওয়ামী লীগেরই সম্ভাব্য প্রার্থী এখন এক ডজনেরও বেশি। পাশাপাশি মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) আসনটি দাবি করতে পারে।

ফলে এই আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে দলটির হাইকমান্ড। এমনকি এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে চলমান বিভক্তি আরও বাড়তে পারে। জেলা আওয়ামী লীগ ও শরীক দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেল।

জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান, প্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী ও জেলা সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদের নেতৃত্বাধীন তিনটি ধারায় বিভক্ত এখানের আওয়ামী লীগ পরিবার। জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনেও এর প্রভাব রয়েছে।

দলীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আসনটি এখন শূন্য ঘোষণার অপেক্ষায়। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রয়াত মন্ত্রীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসীনকে সমর্থন জানিয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর শহরের দর্জির মহলস্থ মন্ত্রীর বাড়িতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের এক যৌথ বর্ধিত সভায় এই সমর্থন জানানো হয়। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক হুইপ আজিজুর রহমান, জেলা সভাপতি ও সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদসহ তাদের কর্মী সমর্থকরা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। এই ৩ জনের মধ্যে সাবেক হুইপ আজিজুর রহমান ও জেলা সম্পাদক নেছার আহমদ প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন। আবার সৈয়দ মহসীন আলীর বলয়ের জনতা ব্যাংকের পরিচালক ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) সৈয়দ বজলুল করিম বিপিএম, আওয়ামী লীগের সেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ ও প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালিক তরফদার শোয়েব গণমাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।

মঙ্গলবার নিজ বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করে সাবেক ছাত্রনেতা শোয়েব নিজেকে সৈয়দ মহসীন আলীর অনুসারী দাবি করে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ রহিম শহীদ, রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিসবাউদ্দোজা চৌধুরী ভেলাই, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি ফজলুর রহমানের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। আবার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জামান, সাবেক রাষ্ট্র্রদূত গিয়াস উদ্দিন মনি ও বিশিষ্ট ব্যাংকার ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী সরকারে থাকা এ দলটির এমপি হলে সহজে মন্ত্রী হবেন হাট-বাজারে এমন আলোচনাও চলছে।

আওয়ামী লীগের এই দীর্ঘ প্রার্থী তালিকা আরও দীর্ঘ করছে জাতীয় পার্টি। উপ নির্বাচনে মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ ) আসনটি চাইতে পারে এমন আভাস দিলেন দলের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম শামীম।

তিনি বলেন, আমরা মহাজোটের শরীক দল। এই জেলায় আমাদের কোন এমপি নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একটি আসনে আমাদের ছাড় দিলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আমরা বিজয়ী হতে পারিনি। এখন এই আসনটি আমরা চাইবো। এ নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছি। এ ক্ষেত্রে জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদ অথবা আমি নিজে প্রার্থী হতে পারি।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ প্রার্থী তালিকা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। এ ছাড়া সময় সময় কেন্দ্র যে নির্দেশনা দেবে সেটা পালন করা আমাদের দ্বায়িত্ব। তৃণমূল নেতাকর্মীরা সভা করে সৈয়দা সায়রা মহসীনকে সমর্থনের ব্যাপারে তিনি কিছইু জানেন না বলে ঢাকা টাইমসকে জানান ।

মহাজোটের শরীক জাসদ (ইনু ) জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক বলেন, আমাদের দৃষ্টি এখন ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের দিকে। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে এখানে উপনির্বাচনে পেশাদার রাজনৈতিক কোন প্রার্থী দেওয়া প্রয়োজন। এখানে আবেগের কোন স্থান নেই। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেই ভাবতে হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী এই আসনের এমপি থাকাবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো আসনটি শূন্য ঘোষণা করেনি। আসনটি শূন্য ঘোষিত হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাওয়ার পরই আসন শূন্য ও তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচনের আয়োজন করবে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কোন এক সময় এই নির্বাচন হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

মহসীন আলীর আসনে প্রার্থী এক ডজন আ.লীগের

আপডেট টাইম : ০৯:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০১৫

প্রয়াত সমাজক্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে। উপনির্বাচনে সৈয়দা সায়রা মহসীনসহ শুধু আওয়ামী লীগেরই সম্ভাব্য প্রার্থী এখন এক ডজনেরও বেশি। পাশাপাশি মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) আসনটি দাবি করতে পারে।

ফলে এই আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে দলটির হাইকমান্ড। এমনকি এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে চলমান বিভক্তি আরও বাড়তে পারে। জেলা আওয়ামী লীগ ও শরীক দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেল।

জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান, প্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী ও জেলা সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদের নেতৃত্বাধীন তিনটি ধারায় বিভক্ত এখানের আওয়ামী লীগ পরিবার। জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনেও এর প্রভাব রয়েছে।

দলীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আসনটি এখন শূন্য ঘোষণার অপেক্ষায়। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রয়াত মন্ত্রীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসীনকে সমর্থন জানিয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর শহরের দর্জির মহলস্থ মন্ত্রীর বাড়িতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের এক যৌথ বর্ধিত সভায় এই সমর্থন জানানো হয়। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক হুইপ আজিজুর রহমান, জেলা সভাপতি ও সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদসহ তাদের কর্মী সমর্থকরা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। এই ৩ জনের মধ্যে সাবেক হুইপ আজিজুর রহমান ও জেলা সম্পাদক নেছার আহমদ প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন। আবার সৈয়দ মহসীন আলীর বলয়ের জনতা ব্যাংকের পরিচালক ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) সৈয়দ বজলুল করিম বিপিএম, আওয়ামী লীগের সেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ ও প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালিক তরফদার শোয়েব গণমাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।

মঙ্গলবার নিজ বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করে সাবেক ছাত্রনেতা শোয়েব নিজেকে সৈয়দ মহসীন আলীর অনুসারী দাবি করে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ রহিম শহীদ, রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিসবাউদ্দোজা চৌধুরী ভেলাই, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি ফজলুর রহমানের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। আবার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জামান, সাবেক রাষ্ট্র্রদূত গিয়াস উদ্দিন মনি ও বিশিষ্ট ব্যাংকার ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী সরকারে থাকা এ দলটির এমপি হলে সহজে মন্ত্রী হবেন হাট-বাজারে এমন আলোচনাও চলছে।

আওয়ামী লীগের এই দীর্ঘ প্রার্থী তালিকা আরও দীর্ঘ করছে জাতীয় পার্টি। উপ নির্বাচনে মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ ) আসনটি চাইতে পারে এমন আভাস দিলেন দলের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম শামীম।

তিনি বলেন, আমরা মহাজোটের শরীক দল। এই জেলায় আমাদের কোন এমপি নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একটি আসনে আমাদের ছাড় দিলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আমরা বিজয়ী হতে পারিনি। এখন এই আসনটি আমরা চাইবো। এ নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছি। এ ক্ষেত্রে জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদ অথবা আমি নিজে প্রার্থী হতে পারি।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ প্রার্থী তালিকা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। এ ছাড়া সময় সময় কেন্দ্র যে নির্দেশনা দেবে সেটা পালন করা আমাদের দ্বায়িত্ব। তৃণমূল নেতাকর্মীরা সভা করে সৈয়দা সায়রা মহসীনকে সমর্থনের ব্যাপারে তিনি কিছইু জানেন না বলে ঢাকা টাইমসকে জানান ।

মহাজোটের শরীক জাসদ (ইনু ) জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক বলেন, আমাদের দৃষ্টি এখন ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের দিকে। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে এখানে উপনির্বাচনে পেশাদার রাজনৈতিক কোন প্রার্থী দেওয়া প্রয়োজন। এখানে আবেগের কোন স্থান নেই। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেই ভাবতে হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী এই আসনের এমপি থাকাবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো আসনটি শূন্য ঘোষণা করেনি। আসনটি শূন্য ঘোষিত হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাওয়ার পরই আসন শূন্য ও তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচনের আয়োজন করবে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কোন এক সময় এই নির্বাচন হতে পারে।