ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জেবিএবি নির্বাচনে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সম্পাদক শাহ জাহান সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় থানায় অভিযোগ, পরিবারের দাবি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যা বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ার কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল আগামী অক্টোবরে শিশুদের জন্য পাঁচটি বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ কম খরচে আগাম শিম চাষ, এক কৃষকেরই ২ লাখ টাকা বিক্রির আশা ভালোবাসার মূল্যে কখনোই মানসিক শান্তি হারানো ঠিক নয় ভারতের আন্দোলনে সম্প্রীতির শিক্ষা স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে টিসিবি দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

ফের কবে ফিরবে পাটের সুদিন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুলাই ২০১৮
  • ৪৬৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একসময় দেশের প্রধান রফতানি খাত ছিল পাট ও পাটজাত পণ্য। সময়ের পরিক্রমায় এখন প্রধান রফতানি তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির এ যুগেও পিছিয়ে পড়ছে দেশের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি। এমনকি বাংলাদেশ যেসব পণ্য রফতানি করে, সেগুলোর মধ্যে সবকটির রফতানি বাড়লেও গত পাঁচ বছরে কমেছে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি।

এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) পাঁচ বছরের উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১-১২ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশের সার্বিক রফতানি বেড়েছে সাড়ে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার। অথচ একসময়ের প্রধান রফতানিখাত পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি এ সময়ে কমেছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছিল ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলারে। এর বাইরে আর একটি পণ্যের রফতানি কমেছে। তা হলো হিমায়িত চিংড়ি। তাছাড়া প্রধান প্রধান রফতানির ক্ষেত্রে অন্য সব খাতে রফতানি বেড়েছে।

বিশ্বব্যাপী পাটপণ্যের বাজারের ব্যাপক সম্ভাবনার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নতমানের পাট থাকা সত্ত্বেও এর রফতানি কমছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম শেয়ার বিজকে বলেন, পাটের রফতানি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ সস্তায় বিকল্প পণ্য পাওয়া। আর পাট পণ্যের রফতানি বাড়ানোর জন্য এসব পণ্যের বহুমুখীকরণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে উদ্যোগ খুবই সীমিত। নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে যদি পাট থেকে আকর্ষণীয় পণ্য উৎপাদন করা যায়, তাহলে এর রফতানি বাড়ানো সম্ভব। আর এ খাতের একটি অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি করা জরুরি। সরকার ১৭টি পণ্যে চটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি ভালো উদ্যোগ। এমন আরও পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে তা অভ্যন্তরীণ বাজার বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশের মোট রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ৪৩০ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সে রফতানি তিন হাজার ৪৮৩ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ১০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। পাঁচ বছর আগে এ খাতের মোট রফতানি ছিল এক হাজার ৯০৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছর তা দুই হাজার ৮১৫ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। এক হাজার কোটি ডলার রফতানি আয় বৃদ্ধির মধ্যে তৈরি পোশাক খাতেই বেড়েছে ৯০০ কোটি ডলার। অন্য সব খাতে রফতানি প্রবৃদ্ধি মন্থর গতিতে বেড়েছে। আর এক সময়ের প্রধান রফতানি খাত পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমেছে। পাশাপাশি কমেছে হিমায়িত চিংড়ির রফতানি। ২০১১-১২ অর্থবছরে চিংড়ি রফতানি হয়েছিল ৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের। গত অর্থবছর তা নেমে আসে ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারে। এর বাইরে চচামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে। পাঁচ বছর আগে এ খাতে রফতানি আয় ছিল ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত অর্থবছর তা ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জেবিএবি নির্বাচনে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সম্পাদক শাহ জাহান

ফের কবে ফিরবে পাটের সুদিন

আপডেট টাইম : ১২:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুলাই ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একসময় দেশের প্রধান রফতানি খাত ছিল পাট ও পাটজাত পণ্য। সময়ের পরিক্রমায় এখন প্রধান রফতানি তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির এ যুগেও পিছিয়ে পড়ছে দেশের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি। এমনকি বাংলাদেশ যেসব পণ্য রফতানি করে, সেগুলোর মধ্যে সবকটির রফতানি বাড়লেও গত পাঁচ বছরে কমেছে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি।

এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) পাঁচ বছরের উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১-১২ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশের সার্বিক রফতানি বেড়েছে সাড়ে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার। অথচ একসময়ের প্রধান রফতানিখাত পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি এ সময়ে কমেছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছিল ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলারে। এর বাইরে আর একটি পণ্যের রফতানি কমেছে। তা হলো হিমায়িত চিংড়ি। তাছাড়া প্রধান প্রধান রফতানির ক্ষেত্রে অন্য সব খাতে রফতানি বেড়েছে।

বিশ্বব্যাপী পাটপণ্যের বাজারের ব্যাপক সম্ভাবনার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নতমানের পাট থাকা সত্ত্বেও এর রফতানি কমছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম শেয়ার বিজকে বলেন, পাটের রফতানি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ সস্তায় বিকল্প পণ্য পাওয়া। আর পাট পণ্যের রফতানি বাড়ানোর জন্য এসব পণ্যের বহুমুখীকরণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে উদ্যোগ খুবই সীমিত। নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে যদি পাট থেকে আকর্ষণীয় পণ্য উৎপাদন করা যায়, তাহলে এর রফতানি বাড়ানো সম্ভব। আর এ খাতের একটি অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি করা জরুরি। সরকার ১৭টি পণ্যে চটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি ভালো উদ্যোগ। এমন আরও পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে তা অভ্যন্তরীণ বাজার বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশের মোট রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ৪৩০ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সে রফতানি তিন হাজার ৪৮৩ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ১০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। পাঁচ বছর আগে এ খাতের মোট রফতানি ছিল এক হাজার ৯০৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছর তা দুই হাজার ৮১৫ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। এক হাজার কোটি ডলার রফতানি আয় বৃদ্ধির মধ্যে তৈরি পোশাক খাতেই বেড়েছে ৯০০ কোটি ডলার। অন্য সব খাতে রফতানি প্রবৃদ্ধি মন্থর গতিতে বেড়েছে। আর এক সময়ের প্রধান রফতানি খাত পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমেছে। পাশাপাশি কমেছে হিমায়িত চিংড়ির রফতানি। ২০১১-১২ অর্থবছরে চিংড়ি রফতানি হয়েছিল ৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের। গত অর্থবছর তা নেমে আসে ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারে। এর বাইরে চচামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে। পাঁচ বছর আগে এ খাতে রফতানি আয় ছিল ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত অর্থবছর তা ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।