হাওর বার্তা ডেস্কঃ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে এমপি রতনের সুপারিশে নীতিমালা লঙ্ঘন করে জলমহাল ইজারা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
ওই জলমহালের ইজারা বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের নয়াশুকদেবপুর রাঙ্গামাটিয়া শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সুন্দর আলী। লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ৮ মে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২৫ ফেব্র“য়ারি জামালগঞ্জ উপজেলার বুড়ি ডাকুয়া বিল জলমহাল ইজারা প্রদানের দরপত্র আহ্বান করা হয়। জলমহালটি ইজারা নেয়ার জন্য পৃথকভাবে নয়াশুকদেবপুর রাঙ্গামাটিয়া শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, ব্রাহ্মণগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও শুকদেবপুর মিলন মৎস্যজীবী সমিতি আবেদন করে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইউএনওর নির্দেশনায় আবেদনকৃত সমিতিগুলোর অবস্থান জানার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ১৫ এপ্রিল তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে নয়াশুকদেবপুর রাঙ্গামাটিয়া শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে প্রথম নিকটবর্তী, ব্রাহ্মণগাঁও সমিতিকে দ্বিতীয় ও শুকদেবপুর সমিতিকে তৃতীয় দূরবর্তী বলে উল্লেখ করা হয়।
২৪ এপ্রিল উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় নয়াশুকদেবপুর রাঙ্গামাটিয়া শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে না দিয়ে দ্বিতীয় নিকটবর্তী ব্রাহ্মণগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে বুড়ি ডাকুয়া বিল জলমহাল ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী নিকটবর্তী সমিতিকে ইজারা প্রদানের নিয়ম থাকলেও এমপি রতনের সুপারিশে নীতিমালা লঙ্ঘন করে দূরের সমিতিকে ওই জলমহালটি ইজারা দেয়া হয়। আবেদনে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে নয়াশুকদেবপুর রাঙ্গামাটিয়া শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা প্রদানের দাবি জানানো হয়।
নয়াশুকদেবপুর রাঙ্গামাটিয়া শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সুন্দর আলী বলেন, আমার বিলের কাছের সমিতি, যা সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। তবু এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন দূরের সমিতিকে জলমহালটি ইজারা প্রদানের জন্য সুপারিশ করেছেন। তাই আমরা জেলা কমিটির কাছে আপিল করেছি। এ ব্যাপারে জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘জামালগঞ্জের বুড়ি ডাকুয়া বিল জলমহাল ইজারা প্রদানের বিষয়ে একটি আপিল আবেদন পাওয়া গেছে। আপিলে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজস্ব শাখা এই বিষয়টি দেখছে।
তবে সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী যারা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকেই বুড়ি ডাকুয়া বিল জলমহাল ইজারা প্রদানের বিষয়ে আমি সুপারিশ করেছি। ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের লোকজন গরিব, প্রকৃত মৎস্যজীবী ও বিলের কাছে তাদের বাড়ি। তাই এই বিলের ইজারা পাওয়া তাদেরই অধিকার।