ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবজি বিক্রির টাকায় দিয়ে হাসপাতাল তৈরি করেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৩৮৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানব সেবা পরম ধর্ম। ভারতে এ বছর পদ্মশ্রী সম্মান পাচ্ছেন সবজি বিক্রির টাকায় হাসপাতাল তৈরি করা সুভাষিণী মিস্ত্রি। টাকার অভাবে নিজের প্রাণ প্রিয় স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। জোকার হাঁসপুকুরের সুভাষিণী মিস্ত্রি স্বামীর মৃত্যুর পর পণ করেছিলেন হাসপাতাল তৈরি করবেন। সবজি বিক্রি করে একসময় বানিয়েও ফেলেন স্বপ্নের সেই হাসপাতাল। ৮০ ঊর্ধ্ব সেই বাঙালি নারীই পেতে চলেছেন পদ্মশ্রী। সুভাষিণী মিস্ত্রির পাশাপাশি এই সম্মান যাচ্ছেন রাজ্যের আরো ৪ জন।

অভাবের সংসারে দিন এনে দিন খাওয়া পরিবার। তাই তো হাসপাতালের খরচ বহন করতে না পারায় বাঁচাতে পারেনি স্বামীকে। স্বামী মৃত্যুর পর অন্ধকার নেমে আসে সুভাষিণী মিস্ত্রির জীবনে। সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার জুটছে না। কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে, বঞ্চনা জুটতো কপালে। এই পরিস্থিতিতে তিনি অদম্য জেদ কে সঙ্গী করে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করেন। সুভাষিণী মিস্ত্রি ধাপার মাঠ থেকে সবজি তুলে এনে তা বিক্রি করা শুরু করলেন।

এ সময় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাতে না পেরে রেখে আসলেন অনাথ আশ্রমে। অনাথ আশ্রমে পড়ালেখা করেই চিকিৎসক হন বড় ছেলে অজয় মিস্ত্রি।

স্বপ্নের এক ধাপ পার হন সুভাষিণী মিস্ত্রি। শপথ নেন, সাধারণ মানুষের আরো খুব কাছে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পৌঁছে দেবেন। যাতে কাউকে আর যেন তার স্বামীর মত অকালে চলে যেতে না হয়। ২০ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ে, জমিয়ে রাখা টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেন সুভাষিণী। সেখানেই ১৯৯৩ সালে হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয়।

অনুদানের টাকায় শেষ মেষ তিন বছর পর গড়ে ওঠে হিউম্যানিটি হসপিটাল। প্রায় বিনামূল্যে যেখানে চিকিৎসা পান কয়েক শো রোগী। হাঁসপুকুর ছাড়িয়ে গোটা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সুভাষিণী মিস্ত্রির নাম। আর সেই নামটি এবার উঠছে পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকাতেও।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সবজি বিক্রির টাকায় দিয়ে হাসপাতাল তৈরি করেন

আপডেট টাইম : ০২:১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানব সেবা পরম ধর্ম। ভারতে এ বছর পদ্মশ্রী সম্মান পাচ্ছেন সবজি বিক্রির টাকায় হাসপাতাল তৈরি করা সুভাষিণী মিস্ত্রি। টাকার অভাবে নিজের প্রাণ প্রিয় স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। জোকার হাঁসপুকুরের সুভাষিণী মিস্ত্রি স্বামীর মৃত্যুর পর পণ করেছিলেন হাসপাতাল তৈরি করবেন। সবজি বিক্রি করে একসময় বানিয়েও ফেলেন স্বপ্নের সেই হাসপাতাল। ৮০ ঊর্ধ্ব সেই বাঙালি নারীই পেতে চলেছেন পদ্মশ্রী। সুভাষিণী মিস্ত্রির পাশাপাশি এই সম্মান যাচ্ছেন রাজ্যের আরো ৪ জন।

অভাবের সংসারে দিন এনে দিন খাওয়া পরিবার। তাই তো হাসপাতালের খরচ বহন করতে না পারায় বাঁচাতে পারেনি স্বামীকে। স্বামী মৃত্যুর পর অন্ধকার নেমে আসে সুভাষিণী মিস্ত্রির জীবনে। সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার জুটছে না। কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে, বঞ্চনা জুটতো কপালে। এই পরিস্থিতিতে তিনি অদম্য জেদ কে সঙ্গী করে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করেন। সুভাষিণী মিস্ত্রি ধাপার মাঠ থেকে সবজি তুলে এনে তা বিক্রি করা শুরু করলেন।

এ সময় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাতে না পেরে রেখে আসলেন অনাথ আশ্রমে। অনাথ আশ্রমে পড়ালেখা করেই চিকিৎসক হন বড় ছেলে অজয় মিস্ত্রি।

স্বপ্নের এক ধাপ পার হন সুভাষিণী মিস্ত্রি। শপথ নেন, সাধারণ মানুষের আরো খুব কাছে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পৌঁছে দেবেন। যাতে কাউকে আর যেন তার স্বামীর মত অকালে চলে যেতে না হয়। ২০ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ে, জমিয়ে রাখা টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেন সুভাষিণী। সেখানেই ১৯৯৩ সালে হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয়।

অনুদানের টাকায় শেষ মেষ তিন বছর পর গড়ে ওঠে হিউম্যানিটি হসপিটাল। প্রায় বিনামূল্যে যেখানে চিকিৎসা পান কয়েক শো রোগী। হাঁসপুকুর ছাড়িয়ে গোটা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সুভাষিণী মিস্ত্রির নাম। আর সেই নামটি এবার উঠছে পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকাতেও।