ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

লালপুরজুড়ে বিনা চাষে রসুনের আবাদ সারা ফেলায় কৃষকরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৮৫৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নাটোরের লালপুর উপজেলায় দিন দিন বেড়ে চলেছে রবি মৌসুমের বিনা চাষে রসুনের আবাদ। কমে গেছে রবি মৌসুমের অন্যান্যে ফসলের চাষ। নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম এলাকার জনপ্রিয় বিনা চাষে রসুনের আবাদ এই এলাকার কৃষকের মাঝে ব্যাপক সারা ফেলায় কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে রবি শস্য চাষের।

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে রসুনের চাষ হয়েছিলো। চলতি রবি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৯৫ হেক্টর জমিতে যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় তিন গুন। গত বছরে উপজেলায় রবি শস্য (গম: ৬০২৫ মসুর: ৯০০০ খেসারী: ৫৩৫ সরিষা: ২৮৮ মটর:১৭০) মোট ১৬০১৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিলো। চলতি মৌসুমে (গম: ৪৮০০ মসুর: ৫৫৫০ খেসারী: ১৫৮০ সরিষা: ২২২ মটর: ৩৭৫) মোট ১২৫২৭ হেক্টর জমিতে রবি শস্যের চাষ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আর রসুনের চাষ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২২৯৫ হেক্টর জমিতে প্রায় তিন গুন।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল ইসলাম খাঁন আমার সংবাদকে বলেন, উপজেলায় প্রতি বছরি রসুনের চাষ বাড়লেও এবছর উল্লেখযোগ্য হারে বিনা চাষে রসুনের চাষ বেড়েছে। সেতুলনায় রবি মৌসুমের অন্যান্যে শস্যের চাষ কিছুটা কমেছে। তবে বছরের প্রথম থেকে অতিবৃষ্টির কারনে এখনো অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে যার কারনে ঐসকল জমিতে রবি শস্যের চাষ করা যায়নি। তবে কিছু পতিত্ত জমি যে সকল জমিতে কোন দিন ফসলের চাষ হতে দেখা যাইনি সেখানেও এ বছর বোর ধানের চাষ হতে দেখা যাচ্ছে।

বিনা চাষে রসুন চাষের সুবিধা সম্পর্কে স্থানীয় চাষী রবিউল, আবুল কাসেম, তয়জাল, লিয়াকত আলী আমার সংবাদকে জানান, বর্ষা মৌসুমের রোপা আমন ধান কেটে জমি চাষ না দিয়ে (বিনা চাষে) শুধু জমি পরিস্কার করেই রসুনের (কোয়া)বীজ বপন করা হয়। এবং রসুনের উপরে সামান্য পরিমানে রাসায়নিক সার ছিটিয়ে হালকা খরকুটু দিয়ে ডেকে দিলেই রসুনের গাছ হয়ে যায়। আর প্রয়োজন মতো দুই একবার পানি সেচ ও রসুনের জমির একবার আগাছা দমন করলেই সম্পূর্ণ রুপে রসুন হয়ে যায়।

এতে এক বিঘা জমিতে রসুন উৎপাদন হয় ৩০-৩৫ মন। আর বিঘা পতি খরচ হয় ১৫-১৭ হাজার টাকা। যা অন্য আবাদের চেয়ে কম খরচে সল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভ করা য়ায় বলে এই অঞ্চলের কৃষকগন অন্য ফসল চাষ ছেড়ে রসুন চাষের উপরে ঝুকছে।

ওয়ালিয়া গ্রামে রসুন চাষী হাবিবুর রহমান, সোহেল রানা, মোস্তফা আমার সংবাদকে বলেন, এবছরের শুরুতেই আবাহাওয়া প্রতিকুল থাকলেও বর্তমানে তা কেটে গেছে।এখন পর্যন্ত রসুনের তেমন কোন রোগ দেখা যায়নি তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে রসুনের আশানুরূপ ফলন হবে। উৎপাদিত রসুনের সঠিক দাম পেলে আগামীতে এই অঞ্চলে রসুন চাষের পরিমান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন এই অঞ্চলের চাষীরা। উৎপাদিত রসুন এই অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানি করা যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ

লালপুরজুড়ে বিনা চাষে রসুনের আবাদ সারা ফেলায় কৃষকরা

আপডেট টাইম : ০৬:১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নাটোরের লালপুর উপজেলায় দিন দিন বেড়ে চলেছে রবি মৌসুমের বিনা চাষে রসুনের আবাদ। কমে গেছে রবি মৌসুমের অন্যান্যে ফসলের চাষ। নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম এলাকার জনপ্রিয় বিনা চাষে রসুনের আবাদ এই এলাকার কৃষকের মাঝে ব্যাপক সারা ফেলায় কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে রবি শস্য চাষের।

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে রসুনের চাষ হয়েছিলো। চলতি রবি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৯৫ হেক্টর জমিতে যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় তিন গুন। গত বছরে উপজেলায় রবি শস্য (গম: ৬০২৫ মসুর: ৯০০০ খেসারী: ৫৩৫ সরিষা: ২৮৮ মটর:১৭০) মোট ১৬০১৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিলো। চলতি মৌসুমে (গম: ৪৮০০ মসুর: ৫৫৫০ খেসারী: ১৫৮০ সরিষা: ২২২ মটর: ৩৭৫) মোট ১২৫২৭ হেক্টর জমিতে রবি শস্যের চাষ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আর রসুনের চাষ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২২৯৫ হেক্টর জমিতে প্রায় তিন গুন।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল ইসলাম খাঁন আমার সংবাদকে বলেন, উপজেলায় প্রতি বছরি রসুনের চাষ বাড়লেও এবছর উল্লেখযোগ্য হারে বিনা চাষে রসুনের চাষ বেড়েছে। সেতুলনায় রবি মৌসুমের অন্যান্যে শস্যের চাষ কিছুটা কমেছে। তবে বছরের প্রথম থেকে অতিবৃষ্টির কারনে এখনো অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে যার কারনে ঐসকল জমিতে রবি শস্যের চাষ করা যায়নি। তবে কিছু পতিত্ত জমি যে সকল জমিতে কোন দিন ফসলের চাষ হতে দেখা যাইনি সেখানেও এ বছর বোর ধানের চাষ হতে দেখা যাচ্ছে।

বিনা চাষে রসুন চাষের সুবিধা সম্পর্কে স্থানীয় চাষী রবিউল, আবুল কাসেম, তয়জাল, লিয়াকত আলী আমার সংবাদকে জানান, বর্ষা মৌসুমের রোপা আমন ধান কেটে জমি চাষ না দিয়ে (বিনা চাষে) শুধু জমি পরিস্কার করেই রসুনের (কোয়া)বীজ বপন করা হয়। এবং রসুনের উপরে সামান্য পরিমানে রাসায়নিক সার ছিটিয়ে হালকা খরকুটু দিয়ে ডেকে দিলেই রসুনের গাছ হয়ে যায়। আর প্রয়োজন মতো দুই একবার পানি সেচ ও রসুনের জমির একবার আগাছা দমন করলেই সম্পূর্ণ রুপে রসুন হয়ে যায়।

এতে এক বিঘা জমিতে রসুন উৎপাদন হয় ৩০-৩৫ মন। আর বিঘা পতি খরচ হয় ১৫-১৭ হাজার টাকা। যা অন্য আবাদের চেয়ে কম খরচে সল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভ করা য়ায় বলে এই অঞ্চলের কৃষকগন অন্য ফসল চাষ ছেড়ে রসুন চাষের উপরে ঝুকছে।

ওয়ালিয়া গ্রামে রসুন চাষী হাবিবুর রহমান, সোহেল রানা, মোস্তফা আমার সংবাদকে বলেন, এবছরের শুরুতেই আবাহাওয়া প্রতিকুল থাকলেও বর্তমানে তা কেটে গেছে।এখন পর্যন্ত রসুনের তেমন কোন রোগ দেখা যায়নি তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে রসুনের আশানুরূপ ফলন হবে। উৎপাদিত রসুনের সঠিক দাম পেলে আগামীতে এই অঞ্চলে রসুন চাষের পরিমান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন এই অঞ্চলের চাষীরা। উৎপাদিত রসুন এই অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানি করা যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।