ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

বোরো ধান চাষে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতির কৌশল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৮
  • ১৭৮৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য । আউশ, আমন বোরো মৌসুমে আমাদের দেশে ধান চাষ হলেও বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশী ধান চাষ হয়ে থাকে এবং ফলনও অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে বোরো মৌসুমে বেশি । ধান চাষে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বোরো মৌসুম বৃষ্টিহীন থাকায় সেচের উপর নির্ভরশীল । আমাদের দেশে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে । তাছাড়া ধান উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন তার সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি পরিমান পানি অপচয় হচ্ছে । ফলে একদিকে ফসল উৎপাদনে খরচ বাড়ছে ও অন্যদিকে দিন দিন ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে ভবিষ্যৎ চরম পানি সংকট ও সেচ ব্যবস্থাপনা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে । এর থেকে বাঁচতে সেচের পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতির ব্যবহার অতীব জরুরী ।

*ধান চাষে সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি : জমিতে ধানের চারা রোপনের পর কম পরিমানে পানি রাখা উচিত যাতে চারা তলিয়ে না যায় । ধানের জমিতে সবসময় দাড়ানো পানি রাখার প্রয়োজন নেই তবে একটি পূর্ণমাত্রায় সেচ প্রদান করে পরবর্তী সেচ প্রদানের পূর্বে জমি দুই-তিন দিন শুকনো রাখলে ধানের ফলন কমেনা । উপরন্ত ভাবে ২৫-৩০ ভাগ পানি সাশ্রয় হয় । এ পদ্ধতিতে আগাছার পরিমান বেশি হলে আগাছা নাশক ব্যবহার করে আগাছা দমন লাভজনক হবে । ধানের জমির কাইচ থোড় আসার পূর্ব পর্যন্ত এভাবে সেচ দেওয়া যায় । তবে কাইচ থোড় আসা শুরু হলে ৫-৭ সে: মি: দাড়ানো পানি রাখা দরকার হয় । আমন ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে একটি বা দুটি চাষ করে রেখে দিলে বোরো মৌসুমে জমিতে ২০ ভাগ পানি কম লাগবে । কারণ পতিত জমিতে ফাটল ধরে জমি তৈরির সময় ফাটল দিয়ে প্রচুর পানির অপচয় ঘটে । উপরি সার প্রয়োগের পূর্বে জমিতে পানি কম রেখে সার প্রয়োগ করলে সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় । ধান পাকার সময় দানা শক্ত হওয়া শুরু করলে সেচ কমিয়ে পানি সেচ বন্ধ করতে হবে । এতে ধান পাকার সময় কম নেবে ও সেচের পানির অপচয় কমবে ।

*পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) পদ্ধতি: 
বোরো ধান চাষে সব সময় দাড়ানো পানি রাখা প্রয়োজন হয়না । মাটিতে প্রয়োজন মত রস থাকলেই ধান গাছ শিকড়ের মাধ্যমে তা গ্রহন করতে পারে । এ পদ্ধতিতে ধানের জমিতে প্রয়োজন মাফিক সেচ দেওয়া হয়। ফলে পানির অপচয় রোধ হয় । এর জন্য জমিতে একটি পর্যবেক্ষণ নল স্থাপন করে সেই নলের ভিতর পানির অবস্থা দেখে প্রয়োজন মাফিক সেচ দেওয়া হয় ।

*পর্যবেক্ষণ নল তৈরি : পর্যবেক্ষণ নল হিসেবে পিভিসি পাইপ , বাঁশের চোঙ্গা অথবা প্লাষ্টিক বোতল ব্যবহার করা যাবে । নলটি লম্বায় ৩০ সেঃ মিঃ ও ব্যাস ৭-১০ সেঃ মিঃ হতে হবে। নলের নিচের দিকে ২০ সেঃমিঃ বা ৮ ইঞ্চি ছিদ্রযুক্ত এবং উপরে ১০ সেঃমিঃ বা ৪ ইঞ্চি ছিদ্রহীন থাকবে । নলের নিচের ২০সেঃমিঃ এর মধ্যে ১০ মিলিমিটার দূরে দূরে ৫ মিলিমিটির ব্যাসের ছিদ্র থাকবে। ছিদ্রগুলো সারিতে থাকবে এবং এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব থাকবে ১০ মিলিমিটার ।

*পর্যবেক্ষণ নল জমিতে স্থাপন কৌশল : ধানের চারা রোপনের পূর্বে জমি ভালভাবে সমতল করতে হবে । জমিতে নলটি স্থাপনের সময় নলের ছিদ্রযুক্ত অংশের চারপাশে পাতলা কাপড় বা মিহি নেট ব্যবহার করতে হবে যাতে কাদা বা ময়লা আবর্জনায় ছিদ্র বন্ধ না হয় ও মাটির ভিতরের পানি নলের ভিতর সহজে প্রবেশ করতে পারে এবং বেরিয়ে যেতে পারে । জমিতে নলটি স্থাপনের সময় ছিদ্রযুক্ত ২০ সেঃ মিঃ বা ৮ ইঞ্চি মাটির নিচে ও ছিদ্রহীন ১০ সেঃ মিঃ বা ৪ ইঞ্চি মাটির উপরে থাকবে। ফলে সেচের পানির সাথে সংযুক্ত খড়কুটা ময়লা আবর্জনা নলে প্রবেশ করতে পারবেনা । নলটি আইলের পাশে সুবিধাযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে হবে , যাতে উক্ত স্থানটি সমস্ত প্লটের প্রতিনিধিত্ব করে ও পর্যবেক্ষণ কাজ সহজ হয় । একটি প্লটে কমপক্ষে একটি নল স্থাপন বা দুই থেকে তিনটিও স্থাপন করা যাবে । সাধারনত ১৫ শতক জমির জন্য একটি নল স্থাপন করাই উত্তম ।

*সেচ প্রদান পদ্ধতি : জমিতে ধানের চারা রোপনের ১৫ দিন পর্যন্ত ২-৪ সেঃমিঃ দাড়ানো পানি রাখতে হবে যাতে আগাছা কম জন্মে । চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে উক্ত পদ্ধতি অনুসরন করে সেচ দিতে হবে । জমিতে সেচ আরম্ভ করার পর যখন জমির উপর ৫ সেঃ মিঃ দাড়নো পানি জমবে তখন সেচ প্রদান বন্ধ করতে হবে । জমির পানি শুকানোর পর নলের ভিতরে পানির মাত্রা পরিমাপ করতে হবে । পর্যবেক্ষণ নলের ভিতর পানির স্তর জমির লেবেল থেকে ১৫ সেঃ মিঃ পর্যন্ত নিচে নেমে গেলে সেচ দিতে হবে । এভাবে উক্ত পদ্ধতিতে ধান গাছের থোড় পর্যায় সময় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সেচ চলবে । পরবর্তীতে ধান গাছে ফুল আসা থেকে দুধ স্তর পর্যন্ত পর্যন্ত জমিতে অবশ্যই ৫ সেঃমিঃ দাড়ানো পানি রাখতে হবে । অতঃপর ধান কাটার দুই সপ্তাহ পূর্বে সেচ দেয়া বন্দ করতে হবে।

*এ পদ্ধতিতে সেচ প্রদান সুবিধা : এ পদ্ধতিতে সেচের পানি জ্বালানি ও শ্রমিক খরচ সাশ্রয় হয় । শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ সেচের পানি সাশ্রয় হয় । ডিজেল ব্যবহার ২৯% কম হয় , ধানের ফলন ১২% বেশি হয় , পরিবেশ বান্ধব ও সর্বোপরি কম খরচে বেশি লাভ করা যায় ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

বোরো ধান চাষে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতির কৌশল

আপডেট টাইম : ০৩:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য । আউশ, আমন বোরো মৌসুমে আমাদের দেশে ধান চাষ হলেও বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশী ধান চাষ হয়ে থাকে এবং ফলনও অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে বোরো মৌসুমে বেশি । ধান চাষে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বোরো মৌসুম বৃষ্টিহীন থাকায় সেচের উপর নির্ভরশীল । আমাদের দেশে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে । তাছাড়া ধান উৎপাদনে যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন তার সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি পরিমান পানি অপচয় হচ্ছে । ফলে একদিকে ফসল উৎপাদনে খরচ বাড়ছে ও অন্যদিকে দিন দিন ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে ভবিষ্যৎ চরম পানি সংকট ও সেচ ব্যবস্থাপনা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে । এর থেকে বাঁচতে সেচের পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতির ব্যবহার অতীব জরুরী ।

*ধান চাষে সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি : জমিতে ধানের চারা রোপনের পর কম পরিমানে পানি রাখা উচিত যাতে চারা তলিয়ে না যায় । ধানের জমিতে সবসময় দাড়ানো পানি রাখার প্রয়োজন নেই তবে একটি পূর্ণমাত্রায় সেচ প্রদান করে পরবর্তী সেচ প্রদানের পূর্বে জমি দুই-তিন দিন শুকনো রাখলে ধানের ফলন কমেনা । উপরন্ত ভাবে ২৫-৩০ ভাগ পানি সাশ্রয় হয় । এ পদ্ধতিতে আগাছার পরিমান বেশি হলে আগাছা নাশক ব্যবহার করে আগাছা দমন লাভজনক হবে । ধানের জমির কাইচ থোড় আসার পূর্ব পর্যন্ত এভাবে সেচ দেওয়া যায় । তবে কাইচ থোড় আসা শুরু হলে ৫-৭ সে: মি: দাড়ানো পানি রাখা দরকার হয় । আমন ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে একটি বা দুটি চাষ করে রেখে দিলে বোরো মৌসুমে জমিতে ২০ ভাগ পানি কম লাগবে । কারণ পতিত জমিতে ফাটল ধরে জমি তৈরির সময় ফাটল দিয়ে প্রচুর পানির অপচয় ঘটে । উপরি সার প্রয়োগের পূর্বে জমিতে পানি কম রেখে সার প্রয়োগ করলে সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় । ধান পাকার সময় দানা শক্ত হওয়া শুরু করলে সেচ কমিয়ে পানি সেচ বন্ধ করতে হবে । এতে ধান পাকার সময় কম নেবে ও সেচের পানির অপচয় কমবে ।

*পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) পদ্ধতি: 
বোরো ধান চাষে সব সময় দাড়ানো পানি রাখা প্রয়োজন হয়না । মাটিতে প্রয়োজন মত রস থাকলেই ধান গাছ শিকড়ের মাধ্যমে তা গ্রহন করতে পারে । এ পদ্ধতিতে ধানের জমিতে প্রয়োজন মাফিক সেচ দেওয়া হয়। ফলে পানির অপচয় রোধ হয় । এর জন্য জমিতে একটি পর্যবেক্ষণ নল স্থাপন করে সেই নলের ভিতর পানির অবস্থা দেখে প্রয়োজন মাফিক সেচ দেওয়া হয় ।

*পর্যবেক্ষণ নল তৈরি : পর্যবেক্ষণ নল হিসেবে পিভিসি পাইপ , বাঁশের চোঙ্গা অথবা প্লাষ্টিক বোতল ব্যবহার করা যাবে । নলটি লম্বায় ৩০ সেঃ মিঃ ও ব্যাস ৭-১০ সেঃ মিঃ হতে হবে। নলের নিচের দিকে ২০ সেঃমিঃ বা ৮ ইঞ্চি ছিদ্রযুক্ত এবং উপরে ১০ সেঃমিঃ বা ৪ ইঞ্চি ছিদ্রহীন থাকবে । নলের নিচের ২০সেঃমিঃ এর মধ্যে ১০ মিলিমিটার দূরে দূরে ৫ মিলিমিটির ব্যাসের ছিদ্র থাকবে। ছিদ্রগুলো সারিতে থাকবে এবং এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব থাকবে ১০ মিলিমিটার ।

*পর্যবেক্ষণ নল জমিতে স্থাপন কৌশল : ধানের চারা রোপনের পূর্বে জমি ভালভাবে সমতল করতে হবে । জমিতে নলটি স্থাপনের সময় নলের ছিদ্রযুক্ত অংশের চারপাশে পাতলা কাপড় বা মিহি নেট ব্যবহার করতে হবে যাতে কাদা বা ময়লা আবর্জনায় ছিদ্র বন্ধ না হয় ও মাটির ভিতরের পানি নলের ভিতর সহজে প্রবেশ করতে পারে এবং বেরিয়ে যেতে পারে । জমিতে নলটি স্থাপনের সময় ছিদ্রযুক্ত ২০ সেঃ মিঃ বা ৮ ইঞ্চি মাটির নিচে ও ছিদ্রহীন ১০ সেঃ মিঃ বা ৪ ইঞ্চি মাটির উপরে থাকবে। ফলে সেচের পানির সাথে সংযুক্ত খড়কুটা ময়লা আবর্জনা নলে প্রবেশ করতে পারবেনা । নলটি আইলের পাশে সুবিধাযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে হবে , যাতে উক্ত স্থানটি সমস্ত প্লটের প্রতিনিধিত্ব করে ও পর্যবেক্ষণ কাজ সহজ হয় । একটি প্লটে কমপক্ষে একটি নল স্থাপন বা দুই থেকে তিনটিও স্থাপন করা যাবে । সাধারনত ১৫ শতক জমির জন্য একটি নল স্থাপন করাই উত্তম ।

*সেচ প্রদান পদ্ধতি : জমিতে ধানের চারা রোপনের ১৫ দিন পর্যন্ত ২-৪ সেঃমিঃ দাড়ানো পানি রাখতে হবে যাতে আগাছা কম জন্মে । চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে উক্ত পদ্ধতি অনুসরন করে সেচ দিতে হবে । জমিতে সেচ আরম্ভ করার পর যখন জমির উপর ৫ সেঃ মিঃ দাড়নো পানি জমবে তখন সেচ প্রদান বন্ধ করতে হবে । জমির পানি শুকানোর পর নলের ভিতরে পানির মাত্রা পরিমাপ করতে হবে । পর্যবেক্ষণ নলের ভিতর পানির স্তর জমির লেবেল থেকে ১৫ সেঃ মিঃ পর্যন্ত নিচে নেমে গেলে সেচ দিতে হবে । এভাবে উক্ত পদ্ধতিতে ধান গাছের থোড় পর্যায় সময় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সেচ চলবে । পরবর্তীতে ধান গাছে ফুল আসা থেকে দুধ স্তর পর্যন্ত পর্যন্ত জমিতে অবশ্যই ৫ সেঃমিঃ দাড়ানো পানি রাখতে হবে । অতঃপর ধান কাটার দুই সপ্তাহ পূর্বে সেচ দেয়া বন্দ করতে হবে।

*এ পদ্ধতিতে সেচ প্রদান সুবিধা : এ পদ্ধতিতে সেচের পানি জ্বালানি ও শ্রমিক খরচ সাশ্রয় হয় । শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ সেচের পানি সাশ্রয় হয় । ডিজেল ব্যবহার ২৯% কম হয় , ধানের ফলন ১২% বেশি হয় , পরিবেশ বান্ধব ও সর্বোপরি কম খরচে বেশি লাভ করা যায় ।