হাওর বার্তা ডেস্কঃ ছেলে বন্ধুর সঙ্গে রাজধানীতে এসে প্রতারণার স্বীকার হয় মৃদুলা (ছদ্মনাম)। নির্যাতনে বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থা নিয়ে রাজধানীর একটি থানায় আশ্রয় নেয়। এ অবস্থায় আত্মহননের পথ ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছে না মৃদুলা। থানা পুলিশ তার মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে’ নিয়ে যায়। রাত তখন সাড়ে ১১টা। সাপোর্ট সেন্টারে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছেন মৃদুলাকে। কিন্তু জীবনের ওপর বিতৃষ্ণা এসে যাওয়ায় মৃদুলা কেবল বারবার আত্মহত্যার কথা তুলছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তারের সেবা ও মনোবল ফেরানোর কাউন্সেলিং দরকার বিধায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা চেষ্টা করছেন ডাক্তার আনার। কিন্তু কোনোভাবেই ফোনে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না ডাক্তারের সঙ্গে। আর কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্বে যে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মকর্তা, তিনিও ফোন ধরছেন না।
এই অবস্থায় কী করণীয় ওই পুলিশ কর্মকর্তা বা ভিকটিমের? চুক্তিবদ্ধ এনজিওদের অসহযোগিতার কারণে এমনই পরিস্থিতিতে বারবার পড়তে হচ্ছে নির্যাতিতদের আলো ঠিকানা রাজধানীর তেজগাঁও ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার’র কর্মকর্তাদের। মাঝেসাঝে এসে ফটো তুলে গেলেও সাপোর্ট সেন্টারের প্রয়োজনীয় সময় রাতেই পাওয়া যায় না এনজিওগুলোর কর্মকর্তাদের।
সাপোর্ট সেন্টার সূত্র জানায়, সাধারণত সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকার এই ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আসে নির্যাতিতরা। কিন্তু এ ‘পিক আওয়ারেই’ তাদের সাপোর্ট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সঙ্গে পুলিশের পাশাপাশি ১০টি এনজিও’র আইনি সহায়তাসহ অন্যান্য কাজের চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুসারে, ভিকটিমকে আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করার কথা এনজিওগুলোর। তবে এনজিও’র কর্মকর্তারা ‘৯টা-৫টা’ ডিউটি করায় অভ্যস্ত হওয়ায় রাতেই তাদের পাওয়া যায় না। এমনকি বারবার ফোন করলেও ধরেন না।
এ কারণে যে ভিকটিমের কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা সেবা দরকার, তার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এভাবে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে উল্টো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে হয়।
ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ওয়েবসাইটে।
সূত্রঃ বাংলানিউজ
Reporter Name 























