ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ পদক’ (বিপিএম) পাচ্ছেন কনস্টেবল পারভেজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৬৪০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কুমিল্লার গৌরীপুরে দুর্ঘটনায় কবলিত একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ২৬ জনকে প্রাণে বাঁচানো সেই কনস্টেবল পারভেজ পাচ্ছেন পুলিশের সর্বোচ্চ পদক ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ (বিপিএম)।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পদক দেয়া হয়। এ বছর পুলিশ সপ্তাহে তার হাতে বিপিএম পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেই দিন ছিল ৭ জুলাই শুক্রবার। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ জন যাত্রী নিয়ে মতলবগামী বাস ‘মতলব এক্সপ্রেস’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় পড়ে যায়। এ সময় গৌরীপুরে দায়িত্বরত ছিলেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় পড়ে গেছে।

সাথে সাথে পারভেজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পঁচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা ডোবার পানিতে তাৎক্ষণিক লাফিয়ে পড়েন। গাড়িতে আটকা পড়া যাত্রীদেরকে উদ্ধার করার জন্য ময়লা পানিতে ডুব দিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ভেতর গিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ২৫ থেকে ২৬ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

সেই সঙ্গে দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়ির ভেতর আটকা পড়া ৫ থেকে ৬ মাসের একটি শিশুকেও তিনি কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। রেকার দিয়ে গাড়ি ওপরে তোলার পর তিনি ময়লা পানিতে ডুব দিয়ে ভালো করে দেখেন কোনো যাত্রী পানির নিচে আছে কিনা। পানির নিচে কোন যাত্রী না পেয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে, বাসের মধ্যে থাকা সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীদেরকে উদ্ধার করতে যেয়ে বাম হাত ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথাও পান তিনি।

কনস্টেবল মো. পারভেজ মিয়ার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার হোসেনদি গ্রামে। তিনি নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে ৪২তম ব্যাচে প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৬ সালে পুলিশে যোগদান করেন। তিনি বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স উত্তরায় কর্মরত রয়েছেন।

দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পঁচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাৎক্ষণিক যাত্রীদের উদ্ধারের ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এবার তার এ বীরত্বের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন তিনি।

পদক পাওয়ার বিষয়ে পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পাচ্ছি বলে সত্যিই আমি খুবই আনন্দিত। আমার চাকরি জীবনের শুরুতে যে সম্মান পাচ্ছি তা আমার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

তিনি বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধ। তার নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার জীবন গড়ে তুলেছি। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া আমার কর্তব্য। আমার কর্তব্য পালনে আমাকে এভাবে সম্মানিত করা হবে তা ভাবিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমি পদক নিতে পারবো ভেবে খুবই আনন্দিত।

বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বিপিএম পদকে আমাকে সম্মানিত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি ও হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি স্যারসহ অন্যান্য সিনিয়র স্যারদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম জানান, পারভেজ জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত ডোবার পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির ভিতরে থাকা যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা করে। যা সামাজিক গণমাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রিক মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই সাথে দেশের জনসাধারণ বাংলাদেশ পুলিশের ভূয়সী প্রশংসাসহ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার সাহস ও মানবিকতার সুদৃঢ় মূল্যবোধের স্বীকৃতিস্বরূপ সে এবার পুলিশ সপ্তাহে বিপিএম পদক পাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ পদক’ (বিপিএম) পাচ্ছেন কনস্টেবল পারভেজ

আপডেট টাইম : ১০:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কুমিল্লার গৌরীপুরে দুর্ঘটনায় কবলিত একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ২৬ জনকে প্রাণে বাঁচানো সেই কনস্টেবল পারভেজ পাচ্ছেন পুলিশের সর্বোচ্চ পদক ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ (বিপিএম)।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পদক দেয়া হয়। এ বছর পুলিশ সপ্তাহে তার হাতে বিপিএম পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেই দিন ছিল ৭ জুলাই শুক্রবার। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ জন যাত্রী নিয়ে মতলবগামী বাস ‘মতলব এক্সপ্রেস’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় পড়ে যায়। এ সময় গৌরীপুরে দায়িত্বরত ছিলেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় পড়ে গেছে।

সাথে সাথে পারভেজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পঁচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা ডোবার পানিতে তাৎক্ষণিক লাফিয়ে পড়েন। গাড়িতে আটকা পড়া যাত্রীদেরকে উদ্ধার করার জন্য ময়লা পানিতে ডুব দিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ভেতর গিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ২৫ থেকে ২৬ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

সেই সঙ্গে দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়ির ভেতর আটকা পড়া ৫ থেকে ৬ মাসের একটি শিশুকেও তিনি কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। রেকার দিয়ে গাড়ি ওপরে তোলার পর তিনি ময়লা পানিতে ডুব দিয়ে ভালো করে দেখেন কোনো যাত্রী পানির নিচে আছে কিনা। পানির নিচে কোন যাত্রী না পেয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে, বাসের মধ্যে থাকা সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীদেরকে উদ্ধার করতে যেয়ে বাম হাত ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথাও পান তিনি।

কনস্টেবল মো. পারভেজ মিয়ার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার হোসেনদি গ্রামে। তিনি নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে ৪২তম ব্যাচে প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৬ সালে পুলিশে যোগদান করেন। তিনি বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স উত্তরায় কর্মরত রয়েছেন।

দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পঁচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাৎক্ষণিক যাত্রীদের উদ্ধারের ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এবার তার এ বীরত্বের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন তিনি।

পদক পাওয়ার বিষয়ে পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পাচ্ছি বলে সত্যিই আমি খুবই আনন্দিত। আমার চাকরি জীবনের শুরুতে যে সম্মান পাচ্ছি তা আমার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

তিনি বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধ। তার নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার জীবন গড়ে তুলেছি। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া আমার কর্তব্য। আমার কর্তব্য পালনে আমাকে এভাবে সম্মানিত করা হবে তা ভাবিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমি পদক নিতে পারবো ভেবে খুবই আনন্দিত।

বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বিপিএম পদকে আমাকে সম্মানিত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি ও হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি স্যারসহ অন্যান্য সিনিয়র স্যারদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম জানান, পারভেজ জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত ডোবার পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির ভিতরে থাকা যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা করে। যা সামাজিক গণমাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রিক মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই সাথে দেশের জনসাধারণ বাংলাদেশ পুলিশের ভূয়সী প্রশংসাসহ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার সাহস ও মানবিকতার সুদৃঢ় মূল্যবোধের স্বীকৃতিস্বরূপ সে এবার পুলিশ সপ্তাহে বিপিএম পদক পাচ্ছে।