ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ-২ আসনে এখন শক্তিমান আওয়ামী লীগ কমিটি ইস্যুতে ব্যস্ত বিএনপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৪৩৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ময়মনসিংহ-২। এ আসনের ভোটার সংখ্যা তিন লক্ষাধিক। নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটিতে বার বারই বিজয়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে ক্ষমতাসীনদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং পাওয়া না পাওয়ার হিসাবে বর্তমান সময়ে দলটিতে অসন্তোষ বেড়েছে।

এ সুযোগে আসনটি পুনরুদ্ধারে ক্ষমতা পরিবর্তনের নতুন সমীকরণে হিসাব কষছে বিএনপি। যদিও ক্ষমতাসীনদের দাবি দলীয় অসন্তোষ থাকলেও ভোট রাজনীতিতে এ আসনে এখনো শক্তিমান আওয়ামী লীগ। ফলে আগাম নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে পক্ষে-বিপক্ষে চুলচেড়া বিশ্লেষণে আওয়াজ তুলছেন স্থানীয় ভোটাররা।

সূত্রমতে, ফুলপুর ও তারাকান্দা আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের শামসুল হক, ১৯৭৯ সালে ইসলামী ঐক্যের ইসমাইল হোসেন তালুকদার, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শামসুল হক ও ২০০৮ আওয়ামী লীগের হায়াতুর রহমান খান এবং ২০১৪ সালে বিনা ভোটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন প্রয়াত ভাষাসৈনিক শামছুল হকের পুত্র শরীফ আহমেদ।

সূত্রমতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন বর্তমান এমপি ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শরীফ আহমেদ, সাবেক এমপি হায়াতোর রহমান খান বেলাল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ, তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম ফেরদৌস জিলু।

অপরদিকে এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফুলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাসার আকন্দ, জেলা উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ত্যাগী নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েত উর রহমান এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ স¤পাদক মো. সুজাউদ্দৌলা সুজা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম এম শামসুল হক এ আসন থেকে পাঁচ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে এ আসনের এমপি তারই পুত্র সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফ আহম্মেদ। অতীতে এ আসনটি নৌকার ভোট ব্যাংক হিসেবে প্রমাণ রেখে আসলেও বর্তমান সময়ে দলীয় অসন্তোষ ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন খোদ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

তাদের মতে, এ আসনটিতে বার বার আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও এলাকায় দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে চলতি সংসদে বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি। তা ছাড়া প্রকৌশলীকে মারপিট, সোনার নৌকা উপঢৌকন এবং নিজ দলের নেতাদের ইফতার মাহফিলে সন্ত্রাসী হামলাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এমপি শরীফ এলাকায় ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়েছেন।

এসব বিরোধী পক্ষের আওয়াজ দাবি করে ফুলপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ে ফুলপুরে বহু দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। দুটি কলেজ ও দুটি স্কুল জাতীয়করণ হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে থানা তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য। মোটকথা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এবার ফুলপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এমপি শরীফ।

তবে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জানান, মরহুম পিতা শামসুল হকের উত্তরাধিকারী হিসেবে শরীফ আহম্মেদ এমপি নির্বাচিত হলেও পিতার দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি তিনি। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এলাকায় খুব একটা যান না। মাঝে মাঝে এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি করা হলেও যথা সময়ে তিনি উপস্থিত হতে পারেন না। তাছাড়া নিজ পছন্দের নেতাকর্মীদের ছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই বললেই চলে। এসব কারণে ক্ষোভের অনলে পুড়ছেন দলের নেতাকর্মীরা। বিভিক্ত হয়ে পড়েছেন গ্রুপে গ্রুপে।

ফুলপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র শাজাহান বলেন, দলের বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছে। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর সঙ্গে এমপি শরীফের কোনো সম্পর্ক নেই। নেতৃত্বের অযোগ্যতার কারণেই এমনটি হয়েছে বলেও মত দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, নৌকার ঘাঁটি হিসেবে আসনটি পরিচিত হলেও আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ওপর নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের জয়-পরাজয়।

এমপি বিরোধী নেতাকর্মীদের মতে, এমপি শরীফের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আগামী নির্বাচনে এ আসনে দলীয় মনোনয়নে পরিবর্তন আসতে পারে। এক্ষেত্রে ত্যাগী ও পরীক্ষিত কেউ নৌকার মাঝি হয়ে আসতে পারেন।

কিন্তু এমপি সমর্থকদের দাবি, নৌকার এ আসনটি ধরে রাখতে হলে এমপি শরীফের বাইরে আর কোনো যোগ্য নেতা মাঠে নেই। আগামীতেও তিনিই নৌকার কাণ্ডারী হয়ে এ আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন।

এসব বিষয়ে গতকাল দুপুরে একাধিকবার এমপি শরীফ আহম্মেদেও মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আ. হেকিম সরকার বলেন, এমপি শরীফ একটু উদাসীন প্রকৃতির মানুষ। তার সময়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হলেও তিনি এলাকায় আসেন কম। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ অসন্তোষ রয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলেও এলাকায় যাতায়াত বাড়তে হবে এবং নেতাকর্মীদের অসন্তোষ ভাঙতে হবে। তিনি আরো বলেন, এমপি শরীফ শামছুল হকের পুত্র। সে এলাকায় আসলে নেতাকর্মীদের মান-অভিমান থাকবে না। মোটকথা এ আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রতিরোধ করতে হলে এমপি শরীফর কোনো বিকল্প নেই।

অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি প্রার্থীরা বড় বড় আওয়াজ দিলেও সংগঠনিক দিক থেকে দলের অবস্থা বেশ নাজুক। এক নেতা আরেক নেতার ছায়া মারাতে চান না। ফলে পৃথক পৃথক গ্রুপে বিভক্ত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি বিজয় পেতে চাইলেও দলীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

তাদের মতে, জেলা উত্তর বিএনপির কমিটির নেতৃত্ব ও মনোনয়নকে কেন্দ্র করেই নেতাদের মূল বিভক্তি শুরু। সাম্প্রতিক কমিটি গঠন ইস্যুতে ঢাকায় লবিং-গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এক্ষেত্রে তারা নিজের পদ নিশ্চিত করার জন্য যেমন চেষ্টা করছেন, ঠিক তেমনি বিরোধী নেতাকে কমিটি থেকে মাইনাস রাখতেও কম জল ঢালছেন না তারা।

ফলে নেতাদের বিভক্তিতে বেশ বেকায়দায় আছেন এ এলাকার নেতাকর্মীরা। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে কমিটির গঠন না হলেও আগামী দিনে নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন সংগ্রামে ঘোষণা আসলে মাঠে কেউ রিস্ক নিতে চাইবে না। যা আগামী নির্বাচনে দলীয় সমর্থক গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করবে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিগত আন্দোলনের মাঠে এ আসনের বিএনপির শীর্ষ অনেক নেতার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কেউ কেউ আন্দোলন মাঠে রিস্ক নিয়ে কর্মসূচি পালন করলেও অনেকেই ফটোসেশন করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।

ফলে অনেকেই মামলা-হামলার শিকার হলেও অন্যরা আছেন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। আশা করছি আগামী নির্বাচনে দল এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তৃণমূল জরিপে মনোনয়ন দেবে। তবেই এ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।

সূত্রমতে, ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে বিএনপিতে যোগদান করে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ শহীদ সারোয়ার। ২০০৯ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ নেতা হায়াতুর রহমানের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তিনি সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে দলের মধ্যে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে।

মনোনয়ন প্রশ্নে শাহ শহীদ সারোয়ার বলেন, মনোনয়ন আমাকে দেয়াই আছে। ইনশাআল্লাহ আগামীতে মনোনয়ন পেয়ে এ আসনটি বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেবে এ এলাকার জনগণ।

তবে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, মাঠে কাজ করছি। প্রকাশ্যে ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলীয় কর্মকাণ্ড করছি। দুঃসময়ে দলের চেয়ারম্যান হয়েছি।

মামলা-হামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করছি। আশা করছি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। মনোনয়ন পেলে এ আসনটি দেশনেত্রীকে তুলে দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

সূত্রঃ মানবকণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ-২ আসনে এখন শক্তিমান আওয়ামী লীগ কমিটি ইস্যুতে ব্যস্ত বিএনপি

আপডেট টাইম : ০৩:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ময়মনসিংহ-২। এ আসনের ভোটার সংখ্যা তিন লক্ষাধিক। নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটিতে বার বারই বিজয়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে ক্ষমতাসীনদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং পাওয়া না পাওয়ার হিসাবে বর্তমান সময়ে দলটিতে অসন্তোষ বেড়েছে।

এ সুযোগে আসনটি পুনরুদ্ধারে ক্ষমতা পরিবর্তনের নতুন সমীকরণে হিসাব কষছে বিএনপি। যদিও ক্ষমতাসীনদের দাবি দলীয় অসন্তোষ থাকলেও ভোট রাজনীতিতে এ আসনে এখনো শক্তিমান আওয়ামী লীগ। ফলে আগাম নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে পক্ষে-বিপক্ষে চুলচেড়া বিশ্লেষণে আওয়াজ তুলছেন স্থানীয় ভোটাররা।

সূত্রমতে, ফুলপুর ও তারাকান্দা আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের শামসুল হক, ১৯৭৯ সালে ইসলামী ঐক্যের ইসমাইল হোসেন তালুকদার, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শামসুল হক ও ২০০৮ আওয়ামী লীগের হায়াতুর রহমান খান এবং ২০১৪ সালে বিনা ভোটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন প্রয়াত ভাষাসৈনিক শামছুল হকের পুত্র শরীফ আহমেদ।

সূত্রমতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন বর্তমান এমপি ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শরীফ আহমেদ, সাবেক এমপি হায়াতোর রহমান খান বেলাল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ, তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম ফেরদৌস জিলু।

অপরদিকে এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফুলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাসার আকন্দ, জেলা উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ত্যাগী নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েত উর রহমান এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ স¤পাদক মো. সুজাউদ্দৌলা সুজা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম এম শামসুল হক এ আসন থেকে পাঁচ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে এ আসনের এমপি তারই পুত্র সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফ আহম্মেদ। অতীতে এ আসনটি নৌকার ভোট ব্যাংক হিসেবে প্রমাণ রেখে আসলেও বর্তমান সময়ে দলীয় অসন্তোষ ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন খোদ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

তাদের মতে, এ আসনটিতে বার বার আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও এলাকায় দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে চলতি সংসদে বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি। তা ছাড়া প্রকৌশলীকে মারপিট, সোনার নৌকা উপঢৌকন এবং নিজ দলের নেতাদের ইফতার মাহফিলে সন্ত্রাসী হামলাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এমপি শরীফ এলাকায় ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়েছেন।

এসব বিরোধী পক্ষের আওয়াজ দাবি করে ফুলপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ে ফুলপুরে বহু দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। দুটি কলেজ ও দুটি স্কুল জাতীয়করণ হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে থানা তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য। মোটকথা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এবার ফুলপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এমপি শরীফ।

তবে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জানান, মরহুম পিতা শামসুল হকের উত্তরাধিকারী হিসেবে শরীফ আহম্মেদ এমপি নির্বাচিত হলেও পিতার দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি তিনি। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এলাকায় খুব একটা যান না। মাঝে মাঝে এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি করা হলেও যথা সময়ে তিনি উপস্থিত হতে পারেন না। তাছাড়া নিজ পছন্দের নেতাকর্মীদের ছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই বললেই চলে। এসব কারণে ক্ষোভের অনলে পুড়ছেন দলের নেতাকর্মীরা। বিভিক্ত হয়ে পড়েছেন গ্রুপে গ্রুপে।

ফুলপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র শাজাহান বলেন, দলের বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছে। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর সঙ্গে এমপি শরীফের কোনো সম্পর্ক নেই। নেতৃত্বের অযোগ্যতার কারণেই এমনটি হয়েছে বলেও মত দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, নৌকার ঘাঁটি হিসেবে আসনটি পরিচিত হলেও আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ওপর নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের জয়-পরাজয়।

এমপি বিরোধী নেতাকর্মীদের মতে, এমপি শরীফের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আগামী নির্বাচনে এ আসনে দলীয় মনোনয়নে পরিবর্তন আসতে পারে। এক্ষেত্রে ত্যাগী ও পরীক্ষিত কেউ নৌকার মাঝি হয়ে আসতে পারেন।

কিন্তু এমপি সমর্থকদের দাবি, নৌকার এ আসনটি ধরে রাখতে হলে এমপি শরীফের বাইরে আর কোনো যোগ্য নেতা মাঠে নেই। আগামীতেও তিনিই নৌকার কাণ্ডারী হয়ে এ আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন।

এসব বিষয়ে গতকাল দুপুরে একাধিকবার এমপি শরীফ আহম্মেদেও মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আ. হেকিম সরকার বলেন, এমপি শরীফ একটু উদাসীন প্রকৃতির মানুষ। তার সময়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হলেও তিনি এলাকায় আসেন কম। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ অসন্তোষ রয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলেও এলাকায় যাতায়াত বাড়তে হবে এবং নেতাকর্মীদের অসন্তোষ ভাঙতে হবে। তিনি আরো বলেন, এমপি শরীফ শামছুল হকের পুত্র। সে এলাকায় আসলে নেতাকর্মীদের মান-অভিমান থাকবে না। মোটকথা এ আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রতিরোধ করতে হলে এমপি শরীফর কোনো বিকল্প নেই।

অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি প্রার্থীরা বড় বড় আওয়াজ দিলেও সংগঠনিক দিক থেকে দলের অবস্থা বেশ নাজুক। এক নেতা আরেক নেতার ছায়া মারাতে চান না। ফলে পৃথক পৃথক গ্রুপে বিভক্ত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি বিজয় পেতে চাইলেও দলীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

তাদের মতে, জেলা উত্তর বিএনপির কমিটির নেতৃত্ব ও মনোনয়নকে কেন্দ্র করেই নেতাদের মূল বিভক্তি শুরু। সাম্প্রতিক কমিটি গঠন ইস্যুতে ঢাকায় লবিং-গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এক্ষেত্রে তারা নিজের পদ নিশ্চিত করার জন্য যেমন চেষ্টা করছেন, ঠিক তেমনি বিরোধী নেতাকে কমিটি থেকে মাইনাস রাখতেও কম জল ঢালছেন না তারা।

ফলে নেতাদের বিভক্তিতে বেশ বেকায়দায় আছেন এ এলাকার নেতাকর্মীরা। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে কমিটির গঠন না হলেও আগামী দিনে নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন সংগ্রামে ঘোষণা আসলে মাঠে কেউ রিস্ক নিতে চাইবে না। যা আগামী নির্বাচনে দলীয় সমর্থক গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করবে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিগত আন্দোলনের মাঠে এ আসনের বিএনপির শীর্ষ অনেক নেতার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কেউ কেউ আন্দোলন মাঠে রিস্ক নিয়ে কর্মসূচি পালন করলেও অনেকেই ফটোসেশন করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।

ফলে অনেকেই মামলা-হামলার শিকার হলেও অন্যরা আছেন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। আশা করছি আগামী নির্বাচনে দল এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তৃণমূল জরিপে মনোনয়ন দেবে। তবেই এ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।

সূত্রমতে, ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে বিএনপিতে যোগদান করে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ শহীদ সারোয়ার। ২০০৯ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ নেতা হায়াতুর রহমানের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তিনি সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে দলের মধ্যে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে।

মনোনয়ন প্রশ্নে শাহ শহীদ সারোয়ার বলেন, মনোনয়ন আমাকে দেয়াই আছে। ইনশাআল্লাহ আগামীতে মনোনয়ন পেয়ে এ আসনটি বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেবে এ এলাকার জনগণ।

তবে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, মাঠে কাজ করছি। প্রকাশ্যে ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলীয় কর্মকাণ্ড করছি। দুঃসময়ে দলের চেয়ারম্যান হয়েছি।

মামলা-হামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করছি। আশা করছি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। মনোনয়ন পেলে এ আসনটি দেশনেত্রীকে তুলে দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

সূত্রঃ মানবকণ্ঠ