ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগে মুখোমুখি বিএনপিতে মধ্যে তিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়াই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৩৯৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশের নাম হালুয়াঘাট। যেখানে পাহাড়ি সৌন্দর্যে শুরু, সেখানেই কাঁটাতারের বেড়া। কিন্তু এ কণ্টক প্রাচীর আটকাতে পারে না পাহাড়ি সৌর্ন্দের ছায়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর স্থলবন্দর এলাকা হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ময়মনসিংহ-১।

এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে দলীয় মনোনয়ন লড়াই। এ হিসেবে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কঠিন লড়াইয়ের আওয়াজ দিচ্ছে এ আসনের শীর্ষ দুই দলের প্রায় দেড় ডজন প্রার্থী। তবে এদের কেউ কেউ দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে টানতে প্রতিনিয়ত মাঠ চষে বেড়ালেও অন্যরা শক্ত লবিংয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার বাইরে। তবে এ নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি থেকে এ আসনে প্রার্থিতায় আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিচারপতি টিএইচ খানের পুত্র চেয়ারপারর্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং দলটির সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আজগর ও তরুণ ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রয়াত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিনের পুত্র জুয়েল আরেং, উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ খান, ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত পাহাড়ি সেলিমের ছোট ভাই বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মজনু মৃধা, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. ইসমাইল হোসেন, আ. মান্নান, প্রিন্সিপাল হেলাল উদ্দিন, ডা. সি এন সরকার চন্দন, জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রায় এক ডজন প্রার্থী।

সূত্রমতে, চলমান দশম জাতীয় সংসদের মধ্যবর্তী সময়ে এসে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিং এমপি মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন প্রয়াত মানকিন পুত্র জুয়েল আরেং। তিনি রাজনীতির ময়দানে একেবারেই আনকোড়া হলেও শুধু বাবার বদৌলতে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই এমপি নির্বাচিত হন জুয়েল আরেং।

তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুয়েলের বিপরীতে দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান, মজনু মৃধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. ইসমাইল হোসেন দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়বেন বলে মাঠে আওয়াজ রয়েছে। এমন হিসাব-নিকাশ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। ফলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে নৌকার কাণ্ডারী কে হবেন তা নিয়ে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা। তবে পিতার উত্তরসূরি হিসেবে আগামী নির্বাচনে জুয়েল কি নৌকার মাঝি হয়ে থাকবেন, নাকি ছিটকে পড়বেন দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে, এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তরুণ এ এমপির অনুসারীদের মাঝে। যদিও অনুসারীদের দাবি আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ সীমান্ত দুর্গটি ধরে রাখতে হলে প্রয়াত মানকিন পুত্র জুয়েল আরেংয়ের বিকল্প নেই।

তবে বিরোধী পক্ষের রয়েছে উল্টো আওয়াজ। তাদের মতে, পিতার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জুয়েল আরেং এমপি নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত এলাকার কাক্সিক্ষত উন্নয়নে কোনো চমক দেখাতে না পারেননি তিনি। ফলে যোগ্য নেতৃত্বের প্রশ্নে তাকে নিয়ে দলীয় পরিমণ্ডলেই রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দলের সিনিয়র নেতাদের পাশ কাটিয়ে সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ‘একলা চল’ নীতিতে পথ চলেন জুয়েল আরেং। এ নিয়ে ক্ষোভের অনলে পুড়ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বৃহৎ অংশ। ফলে দলের অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতার সঙ্গে তার সম্পর্কে বেশ ফাটল ধরেছে। আর এসব কারণে দলের সাংগঠনিক শক্তি এখন বহু ভাগে বিভক্ত বলেও দাবি তাদের।

তাদের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগের এ দুর্গটি আগামীতে ধরে রাখতে হলে তৃণমূলের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করে মনোনয়ন দিতে হবে। অন্যথায় এ আসনটি বিএনপির ঘরে ওঠার সম্ভাবনা বেশ প্রবল। সে হিসেবে এ আসনে জনমতের দিক থেকে ফারুক খান, মজনু মৃধা অথবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. ইসমাইল হোসেন মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে পারেন বলেও মত দেন তারা।

এসব বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে একাধিবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এমপি জুয়েল আরেংয়ের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তার সমথর্কদের দাবি, এসব বিরোধী পক্ষের আওয়াজ। দলের নেতাকর্মীরা এমপির সঙ্গেই আছেন।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি নির্বাচনে গেলে এ আসনে হেভিওয়েট তিন প্রার্থীর শক্ত প্রার্থিতায় ধানের শীষের মনোনয়ন যুদ্ধ হবে সেয়ানে সেয়ানে। তবে স্থানীয় বিএনপি দলীয় অন্তঃকলহে গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত থাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ নাজুক বলে দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি।

স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, এ আসনটিতে অতীতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে টিএইচ খানের পুত্র আফজাল এইচ খানের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও বর্তমানে তিনি বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আফজাল এইচ খানের যোগাযোগ বেশ অনেকটাই কম। তবে দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়-সমতলের সুখ-দুঃখ চষে বেড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ইতোমধ্যে পরিশ্রমী ও দুঃসময়ের যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জনপ্রিয়তায় শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করে নিয়েছেন। ফলে এক সময়ে বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীরাও এখন প্রিন্সের পক্ষেই আওয়াজ তুলছেন বলেও দাবি করেন স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা।

এসব বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খানের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। তবে আফজাল অনুসারীদের দাবি, ঢাকায় অবস্থান করলেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ আগের মতোই ভালো। মাঝে মাঝেই তিনি এলাকায় এসে তাদের সঙ্গে সময় কাটান।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এ এলাকার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে এবং দুঃসময়ে দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে জনমতের দিক থেকে তৃণমূলে এগিয়ে রয়েছেন প্রিন্স। আর এ কারণেই প্রিন্স ঠেকাতে এক সময়ে একে অপরের ঘোর বিরোধী আফজাল এইচ খান ও আলী আজগর একসঙ্গে মিলে রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণে করছেন কঠিন হিসাব-নিকাশ। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল বলেন, দলের জন্য কাজ করছি। আশা করি মূল্যায়ন পাব। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এ আসনের বিএনপির জয় সুনিশ্চিত।

অপর একটি সূত্র মতে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পদ ছেড়ে মনোনয়ন নিশ্চয়তায় বিএনপিতে এসেছিলেন আলী আজগর। কিন্তু শেষতক নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্রিন্স। তবে এবারো শক্ত মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন এক সময়কার ডাক সাইটের নেতা আলী আজগর।

এ বিষয়ে আলী আজগর বলেন, দল মনোনয়ন দিলে আমি আসনটি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারব। অতীতেও ভোট রাজনীতিতে আমি এর প্রমাণ দিয়েছি বলেও দাবি করেন তিনি।

মনোনয়ন প্রশ্নে পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দলের দুঃসময়ে ঐক্যের আওয়াজ তুলে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি সুখে-দুঃখে দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়াতে। আশা করি সার্বিক বিবেচনায় দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। এ সময় তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেবেন এ এলাকার জনগণ।

মানবকণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগে মুখোমুখি বিএনপিতে মধ্যে তিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়াই

আপডেট টাইম : ১২:০১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশের নাম হালুয়াঘাট। যেখানে পাহাড়ি সৌন্দর্যে শুরু, সেখানেই কাঁটাতারের বেড়া। কিন্তু এ কণ্টক প্রাচীর আটকাতে পারে না পাহাড়ি সৌর্ন্দের ছায়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর স্থলবন্দর এলাকা হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ময়মনসিংহ-১।

এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে দলীয় মনোনয়ন লড়াই। এ হিসেবে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কঠিন লড়াইয়ের আওয়াজ দিচ্ছে এ আসনের শীর্ষ দুই দলের প্রায় দেড় ডজন প্রার্থী। তবে এদের কেউ কেউ দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে টানতে প্রতিনিয়ত মাঠ চষে বেড়ালেও অন্যরা শক্ত লবিংয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার বাইরে। তবে এ নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি থেকে এ আসনে প্রার্থিতায় আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিচারপতি টিএইচ খানের পুত্র চেয়ারপারর্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং দলটির সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আজগর ও তরুণ ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রয়াত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিনের পুত্র জুয়েল আরেং, উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ খান, ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত পাহাড়ি সেলিমের ছোট ভাই বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মজনু মৃধা, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. ইসমাইল হোসেন, আ. মান্নান, প্রিন্সিপাল হেলাল উদ্দিন, ডা. সি এন সরকার চন্দন, জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রায় এক ডজন প্রার্থী।

সূত্রমতে, চলমান দশম জাতীয় সংসদের মধ্যবর্তী সময়ে এসে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিং এমপি মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন প্রয়াত মানকিন পুত্র জুয়েল আরেং। তিনি রাজনীতির ময়দানে একেবারেই আনকোড়া হলেও শুধু বাবার বদৌলতে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই এমপি নির্বাচিত হন জুয়েল আরেং।

তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুয়েলের বিপরীতে দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান, মজনু মৃধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. ইসমাইল হোসেন দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়বেন বলে মাঠে আওয়াজ রয়েছে। এমন হিসাব-নিকাশ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। ফলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে নৌকার কাণ্ডারী কে হবেন তা নিয়ে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা। তবে পিতার উত্তরসূরি হিসেবে আগামী নির্বাচনে জুয়েল কি নৌকার মাঝি হয়ে থাকবেন, নাকি ছিটকে পড়বেন দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে, এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তরুণ এ এমপির অনুসারীদের মাঝে। যদিও অনুসারীদের দাবি আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ সীমান্ত দুর্গটি ধরে রাখতে হলে প্রয়াত মানকিন পুত্র জুয়েল আরেংয়ের বিকল্প নেই।

তবে বিরোধী পক্ষের রয়েছে উল্টো আওয়াজ। তাদের মতে, পিতার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জুয়েল আরেং এমপি নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত এলাকার কাক্সিক্ষত উন্নয়নে কোনো চমক দেখাতে না পারেননি তিনি। ফলে যোগ্য নেতৃত্বের প্রশ্নে তাকে নিয়ে দলীয় পরিমণ্ডলেই রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দলের সিনিয়র নেতাদের পাশ কাটিয়ে সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ‘একলা চল’ নীতিতে পথ চলেন জুয়েল আরেং। এ নিয়ে ক্ষোভের অনলে পুড়ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বৃহৎ অংশ। ফলে দলের অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতার সঙ্গে তার সম্পর্কে বেশ ফাটল ধরেছে। আর এসব কারণে দলের সাংগঠনিক শক্তি এখন বহু ভাগে বিভক্ত বলেও দাবি তাদের।

তাদের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগের এ দুর্গটি আগামীতে ধরে রাখতে হলে তৃণমূলের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করে মনোনয়ন দিতে হবে। অন্যথায় এ আসনটি বিএনপির ঘরে ওঠার সম্ভাবনা বেশ প্রবল। সে হিসেবে এ আসনে জনমতের দিক থেকে ফারুক খান, মজনু মৃধা অথবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. ইসমাইল হোসেন মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে পারেন বলেও মত দেন তারা।

এসব বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে একাধিবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এমপি জুয়েল আরেংয়ের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তার সমথর্কদের দাবি, এসব বিরোধী পক্ষের আওয়াজ। দলের নেতাকর্মীরা এমপির সঙ্গেই আছেন।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি নির্বাচনে গেলে এ আসনে হেভিওয়েট তিন প্রার্থীর শক্ত প্রার্থিতায় ধানের শীষের মনোনয়ন যুদ্ধ হবে সেয়ানে সেয়ানে। তবে স্থানীয় বিএনপি দলীয় অন্তঃকলহে গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত থাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ নাজুক বলে দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি।

স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, এ আসনটিতে অতীতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে টিএইচ খানের পুত্র আফজাল এইচ খানের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও বর্তমানে তিনি বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আফজাল এইচ খানের যোগাযোগ বেশ অনেকটাই কম। তবে দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়-সমতলের সুখ-দুঃখ চষে বেড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ইতোমধ্যে পরিশ্রমী ও দুঃসময়ের যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জনপ্রিয়তায় শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করে নিয়েছেন। ফলে এক সময়ে বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীরাও এখন প্রিন্সের পক্ষেই আওয়াজ তুলছেন বলেও দাবি করেন স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা।

এসব বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খানের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। তবে আফজাল অনুসারীদের দাবি, ঢাকায় অবস্থান করলেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ আগের মতোই ভালো। মাঝে মাঝেই তিনি এলাকায় এসে তাদের সঙ্গে সময় কাটান।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এ এলাকার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে এবং দুঃসময়ে দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে জনমতের দিক থেকে তৃণমূলে এগিয়ে রয়েছেন প্রিন্স। আর এ কারণেই প্রিন্স ঠেকাতে এক সময়ে একে অপরের ঘোর বিরোধী আফজাল এইচ খান ও আলী আজগর একসঙ্গে মিলে রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণে করছেন কঠিন হিসাব-নিকাশ। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল বলেন, দলের জন্য কাজ করছি। আশা করি মূল্যায়ন পাব। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এ আসনের বিএনপির জয় সুনিশ্চিত।

অপর একটি সূত্র মতে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পদ ছেড়ে মনোনয়ন নিশ্চয়তায় বিএনপিতে এসেছিলেন আলী আজগর। কিন্তু শেষতক নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্রিন্স। তবে এবারো শক্ত মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন এক সময়কার ডাক সাইটের নেতা আলী আজগর।

এ বিষয়ে আলী আজগর বলেন, দল মনোনয়ন দিলে আমি আসনটি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারব। অতীতেও ভোট রাজনীতিতে আমি এর প্রমাণ দিয়েছি বলেও দাবি করেন তিনি।

মনোনয়ন প্রশ্নে পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দলের দুঃসময়ে ঐক্যের আওয়াজ তুলে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি সুখে-দুঃখে দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়াতে। আশা করি সার্বিক বিবেচনায় দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। এ সময় তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেবেন এ এলাকার জনগণ।

মানবকণ্ঠ