ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয় দিবসে পুলিশের অন্যরকম উপহার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৪৮৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক শেখ নাজমুল আলমের সৌজন্যে ঢাকা ও মানিকগঞ্জের কয়েকশত পরিবার অন্যরকমভাবে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের সুযোগ পেলেন।

ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বামরাবণ আদর্শ গ্রাম ও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের মোকদমপাড়া আদর্শ গ্রাম, বাছট এবং বৈলতলা গ্রামের দূস্থদের মাঝে কয়েকশত কম্বল উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

আজ বাছট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং দরিদ্রদের মাঝে উপহার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিলো।

বাছট বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং বাছট বৈলতলা পল্লী মঙ্গল সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গরম লেপের ব্যাবস্থা করতে না পারায় এসব এলাকার নিষ্পাপ শিশুগুলো শীতে কষ্ট করছিলো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাছট বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা জয়নাল আবেদীন।

একথা শুনে মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ্ মিজানের কাছে কয়েকশ দামি কম্বল এলাকাবাসীর জন্য বিজয় দিবসের উপহার হিসেবে প্রেরণ করেন এ্যাডিশনাল ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম।

অনুষ্ঠানে সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু, অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আলহাজ মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

একটি কম্বল পেয়েই রামরাবণ আদর্শ গ্রামের বিধবা কামিনী রায় বলেন, তীব্র শীতে নদীর পাশে কাঁচা ঘরে রাতে ঘুমাতে না পেরে রাত জেগে বসে থাকতে হতো সকালের রোদের আশায়। কিন্তু রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় দিনে মাটি কাটার কাজ করতে যেয়ে শরীর খুব দূর্বল লাগতো। এলাকার অনেক ধনী লোকের কাছে একটা পুরাতন, ছেড়া শীতের লেপ চেয়েও পাইনি। তাই আজ নতুন কম্বলটি পেয়ে আনন্দে কাঁদছি।

বৈলতলা গ্রামের জালাল মিয়ার স্ত্রী বিমলা বেগম নতুন কম্বল পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, স্বামী অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না। তাই শীতে অনেক কষ্ট হলেও টাকার অভাবে কম্বল কিনতে পারি নাই। আজকে কম্বলটি পেয়ে বহুদিনের কষ্টটি দূর হলো।

পবিত্র কোরআন এবং পবিত্র গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ছাত্রযুবকদের অংশগ্রহণে ভলিবল খেলা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিজয় দিবসে পুলিশের অন্যরকম উপহার

আপডেট টাইম : ০৪:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক শেখ নাজমুল আলমের সৌজন্যে ঢাকা ও মানিকগঞ্জের কয়েকশত পরিবার অন্যরকমভাবে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের সুযোগ পেলেন।

ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বামরাবণ আদর্শ গ্রাম ও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের মোকদমপাড়া আদর্শ গ্রাম, বাছট এবং বৈলতলা গ্রামের দূস্থদের মাঝে কয়েকশত কম্বল উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

আজ বাছট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং দরিদ্রদের মাঝে উপহার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিলো।

বাছট বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং বাছট বৈলতলা পল্লী মঙ্গল সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গরম লেপের ব্যাবস্থা করতে না পারায় এসব এলাকার নিষ্পাপ শিশুগুলো শীতে কষ্ট করছিলো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাছট বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা জয়নাল আবেদীন।

একথা শুনে মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ্ মিজানের কাছে কয়েকশ দামি কম্বল এলাকাবাসীর জন্য বিজয় দিবসের উপহার হিসেবে প্রেরণ করেন এ্যাডিশনাল ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম।

অনুষ্ঠানে সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু, অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আলহাজ মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

একটি কম্বল পেয়েই রামরাবণ আদর্শ গ্রামের বিধবা কামিনী রায় বলেন, তীব্র শীতে নদীর পাশে কাঁচা ঘরে রাতে ঘুমাতে না পেরে রাত জেগে বসে থাকতে হতো সকালের রোদের আশায়। কিন্তু রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় দিনে মাটি কাটার কাজ করতে যেয়ে শরীর খুব দূর্বল লাগতো। এলাকার অনেক ধনী লোকের কাছে একটা পুরাতন, ছেড়া শীতের লেপ চেয়েও পাইনি। তাই আজ নতুন কম্বলটি পেয়ে আনন্দে কাঁদছি।

বৈলতলা গ্রামের জালাল মিয়ার স্ত্রী বিমলা বেগম নতুন কম্বল পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, স্বামী অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না। তাই শীতে অনেক কষ্ট হলেও টাকার অভাবে কম্বল কিনতে পারি নাই। আজকে কম্বলটি পেয়ে বহুদিনের কষ্টটি দূর হলো।

পবিত্র কোরআন এবং পবিত্র গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ছাত্রযুবকদের অংশগ্রহণে ভলিবল খেলা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।