ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোগঞ্জের ভৈরবে উপজেলায় মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৩৭০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানব জীবন সর্বাঙ্গে সুন্দর হয়ে উঠে সঠিক শিক্ষা-বোধ-বুদ্ধি তথা উপলদ্ধির মাধ্যমে। শিক্ষাই একমাত্র মাধ্যম যেখানে ছোট বড়, ধনী, গরিব, জাতি, ধর্ম, বর্ণ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত যে কোন ব্যক্তি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানের আসন লাভ করে। তাই শিক্ষাই মানুষের ‛মানুষ’ হয়ে আত্মপ্রকাশ করার বাহন। অন্যথায় চিন্তার স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে না, জ্ঞানচর্চা হয় বাধাগ্রস্থ।

এ কারণে আধুনিক বিশ্বে মাতৃভাষায় শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনই বক্তব্য নিয়ে গতকাল কিশোগঞ্জের ভৈরবে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সাদ বাংলাদেশ ও গণসাক্ষরতা অভিযান ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) বিষয়ক এক সেমিনার ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলরুবা আহমেদ। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিশু সংগঠক অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারী জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের শিক্ষক ও ভৈরব বইপড়া কেন্দ্রের সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল হক শাহেদ।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ শাহরিয়ার মেনজিস, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামীম আহমেদ, ভৈরব প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মনসুর, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-কার্যক্রম ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান আকন্দ, ভৈরব রিপোর্টারস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আলাল উদ্দিন প্রমুখ।

আয়োজক সংস্থা সাদ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এম. মতিউর রহমান সাগরের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা বিষয়ে কর্মরত এনজিও কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারী-বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিভিন্ন সেবাদানকারী বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও দিলরুবা আহমেদ বলেন, মানুষকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করতে হলে সকলকে এধরনের সুবিধার আওতায় আনার জন্য সকল স্থরে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কারণ মায়ের ভাষায় সবকিছু শিশুর জন্য যতটা গ্রহণযোগ্য, তা আর কোনভাবেই সম্ভব নয়।

সাথে সাথে শিক্ষার মূল ধারায় সংখ্যালঘু সকল জাতি-গোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। তার জন্য জনসচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন অংশ গ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন তরান্বিত করা যায় না বলেও তিনি এ সময় অভিমত ব্যক্ত করেন।

প্রাবন্ধিক তার উপস্থাপনায় বিভিন্ন বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠীর অবস্থা ও অবস্থান এবং শিক্ষার আলোয় তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ রাখেন। সভায় কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করেন।

মহান ভাষা আন্দোলন আপাতদৃষ্টিতে বাংলাভাষার স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলন হলেও প্রান্তজনের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার পথকে উম্মুক্ত করেছে। আর মাতৃভাষা বলতে একান্তই মায়ের মুখের ভাষা, যে ভাষা মানব সন্তান জন্মের পর ধারণ করে, তাকেই বোঝায়। শিশু যখন জীবনের প্রথম শিক্ষা গ্রহণ করে, তা তার মায়ের মুখের ভাষার মাধ্যমেই করে থাকে।

তাই যে কোন শিক্ষা তখনই তার মনে ও মেধায় স্থায়ী রূপ লাভ করে, যখন তা তার আপন মনে হয়। এক্ষেত্রে বাঙ্গালিরা যেমন বাংলাকে লালন করে, তেমনি এদেশের অনেক আদিবাসীসহ অনেক সংখ্যলঘু জনগোষ্ঠী নিজের ভাষা ব্যবহার করে। তাই এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে আদিবাসীসহ সংখ্যালঘু দলিত-হরিজন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রসঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোগঞ্জের ভৈরবে উপজেলায় মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : ০১:১৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানব জীবন সর্বাঙ্গে সুন্দর হয়ে উঠে সঠিক শিক্ষা-বোধ-বুদ্ধি তথা উপলদ্ধির মাধ্যমে। শিক্ষাই একমাত্র মাধ্যম যেখানে ছোট বড়, ধনী, গরিব, জাতি, ধর্ম, বর্ণ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত যে কোন ব্যক্তি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানের আসন লাভ করে। তাই শিক্ষাই মানুষের ‛মানুষ’ হয়ে আত্মপ্রকাশ করার বাহন। অন্যথায় চিন্তার স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে না, জ্ঞানচর্চা হয় বাধাগ্রস্থ।

এ কারণে আধুনিক বিশ্বে মাতৃভাষায় শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনই বক্তব্য নিয়ে গতকাল কিশোগঞ্জের ভৈরবে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সাদ বাংলাদেশ ও গণসাক্ষরতা অভিযান ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) বিষয়ক এক সেমিনার ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলরুবা আহমেদ। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিশু সংগঠক অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারী জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের শিক্ষক ও ভৈরব বইপড়া কেন্দ্রের সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল হক শাহেদ।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ শাহরিয়ার মেনজিস, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামীম আহমেদ, ভৈরব প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মনসুর, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-কার্যক্রম ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান আকন্দ, ভৈরব রিপোর্টারস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আলাল উদ্দিন প্রমুখ।

আয়োজক সংস্থা সাদ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এম. মতিউর রহমান সাগরের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা বিষয়ে কর্মরত এনজিও কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারী-বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিভিন্ন সেবাদানকারী বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও দিলরুবা আহমেদ বলেন, মানুষকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করতে হলে সকলকে এধরনের সুবিধার আওতায় আনার জন্য সকল স্থরে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কারণ মায়ের ভাষায় সবকিছু শিশুর জন্য যতটা গ্রহণযোগ্য, তা আর কোনভাবেই সম্ভব নয়।

সাথে সাথে শিক্ষার মূল ধারায় সংখ্যালঘু সকল জাতি-গোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। তার জন্য জনসচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন অংশ গ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন তরান্বিত করা যায় না বলেও তিনি এ সময় অভিমত ব্যক্ত করেন।

প্রাবন্ধিক তার উপস্থাপনায় বিভিন্ন বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠীর অবস্থা ও অবস্থান এবং শিক্ষার আলোয় তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ রাখেন। সভায় কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করেন।

মহান ভাষা আন্দোলন আপাতদৃষ্টিতে বাংলাভাষার স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলন হলেও প্রান্তজনের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার পথকে উম্মুক্ত করেছে। আর মাতৃভাষা বলতে একান্তই মায়ের মুখের ভাষা, যে ভাষা মানব সন্তান জন্মের পর ধারণ করে, তাকেই বোঝায়। শিশু যখন জীবনের প্রথম শিক্ষা গ্রহণ করে, তা তার মায়ের মুখের ভাষার মাধ্যমেই করে থাকে।

তাই যে কোন শিক্ষা তখনই তার মনে ও মেধায় স্থায়ী রূপ লাভ করে, যখন তা তার আপন মনে হয়। এক্ষেত্রে বাঙ্গালিরা যেমন বাংলাকে লালন করে, তেমনি এদেশের অনেক আদিবাসীসহ অনেক সংখ্যলঘু জনগোষ্ঠী নিজের ভাষা ব্যবহার করে। তাই এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে আদিবাসীসহ সংখ্যালঘু দলিত-হরিজন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রসঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।