ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে চা শিল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৫০৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দীর্ঘদিন দেন দরবারের পর অবশেষে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে আলোর মুখ দেখছে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র। আজ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্রটি উদ্বোধন করবেন।

এর মাধ্যমে স্থানীয় বাগান মালিকসহ চা শিল্পসংশ্লিষ্টদের আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্র স্থাপনে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। পাশাপাশি নিলাম কেন্দ্রটির উদ্বোধন ঘিরে স্থানীয় চা উৎপাদনকারী ও খাত সংশ্লিষ্টদের মনে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

চা বাগান মালিকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের কারণে পরিবহন ব্যয় বাবদ বছরের অন্তত ২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। চায়ের মান অক্ষুণ্ন থাকবে। কমে আসবে দামও। ফলে ক্রেতারা আমদানি করা চায়ের তুলনায় দেশে উৎপাদিত চা কম দামে ও বেশি পরিমাণে কিনতে পারবেন, যা পুরো চা শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

১৮৪৯ সালে সিলেটের মালনিছড়ায় বাগান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপমহাদেশে চা উৎপাদনের সূচনা হয়। বর্তমানে সিলেট জেলায় ২০টি, মৌলভীবাজারে ৯৩টি এবং হবিগঞ্জ জেলায় ২২টি চা বাগান রয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রতিবছর গড়ে সাত কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলে উৎপাদন হয় প্রায় ছয় কোটি কেজি চা, যার ৭৫ শতাংশই উৎপাদন হয় মৌলভীবাজারের বাগানগুলোয়। দেশের সিংহভাগ চা উৎপাদনে সিলেট অঞ্চলের একক আধিপত্য থাকলেও পণ্যটির আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্রের অবস্থান চট্টগ্রামে। সিলেট থেকে উৎপাদিত চা চট্টগ্রাম নিয়ে এর পর তা নিলামে তোলেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে মান কমার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় যুক্ত হওয়ায় চায়ের দাম বেড়ে যায়।

সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত চা নিলামের জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে প্রতিবছর সব মিলে ৫-৬ হাজার ট্রাক ভাড়া করতে হয়। সেই হিসাবে ট্রাকপ্রতি ২০ হাজার টাকা ধরলে বছর শেষে পণ্যটির সম্মিলিত পরিবহন ব্যয় দাঁড়ায় ১০-১২ কোটি টাকা। এ কারণে শ্রীমঙ্গলে একটি আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের দাবি ওঠে। কেন্দ্রটি স্থাপনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে ২০১১ সালে ‘শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে।

২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার সফরকালে শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে টিপিটিএবি আত্মপ্রকাশ করে।

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চা ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে একটি ভাড়া করা ভবনে নিলাম কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এখানে চা মজুদের জন্য তিনটি পৃথক ওয়্যার হাউজ রয়েছে। পরবর্তীতে স্থায়ী ভবনে কেন্দ্রটি স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিপিটিএবির সদস্য সচিব জহর তরফদার বলেন, সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত চা চট্টগ্রামে নিয়ে নিলামে তুলতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগত। এ কারণে উৎপাদিত চায়ের মানও কমে যেত, বাড়ত দাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে চা শিল্প

আপডেট টাইম : ০৫:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দীর্ঘদিন দেন দরবারের পর অবশেষে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে আলোর মুখ দেখছে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র। আজ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্রটি উদ্বোধন করবেন।

এর মাধ্যমে স্থানীয় বাগান মালিকসহ চা শিল্পসংশ্লিষ্টদের আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্র স্থাপনে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। পাশাপাশি নিলাম কেন্দ্রটির উদ্বোধন ঘিরে স্থানীয় চা উৎপাদনকারী ও খাত সংশ্লিষ্টদের মনে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

চা বাগান মালিকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের কারণে পরিবহন ব্যয় বাবদ বছরের অন্তত ২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। চায়ের মান অক্ষুণ্ন থাকবে। কমে আসবে দামও। ফলে ক্রেতারা আমদানি করা চায়ের তুলনায় দেশে উৎপাদিত চা কম দামে ও বেশি পরিমাণে কিনতে পারবেন, যা পুরো চা শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

১৮৪৯ সালে সিলেটের মালনিছড়ায় বাগান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপমহাদেশে চা উৎপাদনের সূচনা হয়। বর্তমানে সিলেট জেলায় ২০টি, মৌলভীবাজারে ৯৩টি এবং হবিগঞ্জ জেলায় ২২টি চা বাগান রয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রতিবছর গড়ে সাত কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলে উৎপাদন হয় প্রায় ছয় কোটি কেজি চা, যার ৭৫ শতাংশই উৎপাদন হয় মৌলভীবাজারের বাগানগুলোয়। দেশের সিংহভাগ চা উৎপাদনে সিলেট অঞ্চলের একক আধিপত্য থাকলেও পণ্যটির আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্রের অবস্থান চট্টগ্রামে। সিলেট থেকে উৎপাদিত চা চট্টগ্রাম নিয়ে এর পর তা নিলামে তোলেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে মান কমার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় যুক্ত হওয়ায় চায়ের দাম বেড়ে যায়।

সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত চা নিলামের জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে প্রতিবছর সব মিলে ৫-৬ হাজার ট্রাক ভাড়া করতে হয়। সেই হিসাবে ট্রাকপ্রতি ২০ হাজার টাকা ধরলে বছর শেষে পণ্যটির সম্মিলিত পরিবহন ব্যয় দাঁড়ায় ১০-১২ কোটি টাকা। এ কারণে শ্রীমঙ্গলে একটি আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের দাবি ওঠে। কেন্দ্রটি স্থাপনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে ২০১১ সালে ‘শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে।

২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার সফরকালে শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে টিপিটিএবি আত্মপ্রকাশ করে।

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চা ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে একটি ভাড়া করা ভবনে নিলাম কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এখানে চা মজুদের জন্য তিনটি পৃথক ওয়্যার হাউজ রয়েছে। পরবর্তীতে স্থায়ী ভবনে কেন্দ্রটি স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিপিটিএবির সদস্য সচিব জহর তরফদার বলেন, সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত চা চট্টগ্রামে নিয়ে নিলামে তুলতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগত। এ কারণে উৎপাদিত চায়ের মানও কমে যেত, বাড়ত দাম।