ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩৯৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেশবাসীর সঙ্গে একত্রে মিলে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলা হবে।… জনগণের কল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্য সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

এদেশ আমাদের, এদেশের যত উন্নতি হবে,মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ততই উত্তোরণ ঘটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বমানের শিক্ষা, জ্ঞান,বিজ্ঞান শিক্ষা, খেলাধূলা এবং অন্যান্য ক্ষেত্র গড়ে তুলে বাংলাদেশকে মর্যাদাবান জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ এজন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের কর্মে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদাকে সমুন্নত করবেন এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার জন্য আমাদের সরকার কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক মান অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা ও ঐকান্তিক ইচ্ছা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতির অহংকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। আপনারা যেন চেইন অফ কমান্ড মেনে শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতায় সর্বত্র প্রশংসিত হতে পারেন সেটাই আমার কাম্য।

শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনী আজ তাদের সততা, নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকা-ের জন্য সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোন দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলে আর্তমানবতার সেবা ও জান-মাল রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী যে আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বিপর্যস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ায় তা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাও দেশে বিদেশে বহুল প্রশংসিত হয়েছে,বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং তিনবাহিনী প্রধানগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া,জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের স্ত্রীগণ,কূটনীতিক এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ সংবর্ধনায় অংশ নেন।

একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই ছিল স্বাধীনতার মূল চেতনা। কিন্তুু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে এবং বিজয়ী জাতির মর্যাদাকে ভূলুন্ঠিত করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রদানে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সন্মানকে ধরে রাখতে হলে সকলকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তাঁর সরকার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন সরকারই ইতোপূর্বে এ ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।

তিনি বলেন, সরকার একই সঙ্গে একটি আধুনিক সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাঁর সরকার সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ শুরু করলেও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে না পারায় সব উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে পুনরায় উন্নয়নের নব দিগন্ত উন্মোচিত হয় এবং জাতির স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশ্রস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন কর্মকান্ডও সেই থেকে অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকেই ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়। এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমুহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ এবং সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বেশ কিছু ব্রিগেড ও ইউনিট প্রতিষ্ঠা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেটে এবং রামুতে পূর্ণাঙ্গ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালীতেও শীঘ্রই একটি নতুন পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, সরঞ্জামাদি ও জনবলের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল একটি দক্ষ ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা। তিনি বলেন, স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি নিয়ে একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র বাহিনীর যে সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করে গেছেন, তারই উপর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কর্মদক্ষতার পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে স্বীকৃত ও প্রশংসিত হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী পৃথকভাবে সেনা,নৌ ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ সমূহের অংশ বিশেষ তুলে ধরেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সাথে তাঁর সুদৃঢ় পাবিারিক বন্ধনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় ভাই শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্সট্স থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর ফার্স্ট বেঙ্গলের অফিসার হিসেবে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও সেকেন্ড বেঙ্গলের অফিসার হিসেবে লেফটেন্যান্ট শেখ জামালকে সম্মাননা প্রদান করায় আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, ছোট ভাই রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। সে সেনাবাহিনীর সুশৃঙ্খল কার্যক্রম দেখে অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তার ছোট্ট বুক মাত্র দশ বছর বয়সেই বিদীর্ণ করে।

প্রধানমন্ত্রী পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সশ্রস্ত্রবাহিনীর সদস্য এবং তাঁদের পরিবারবর্গ, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বাসস।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট টাইম : ০৫:২৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেশবাসীর সঙ্গে একত্রে মিলে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলা হবে।… জনগণের কল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্য সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

এদেশ আমাদের, এদেশের যত উন্নতি হবে,মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ততই উত্তোরণ ঘটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বমানের শিক্ষা, জ্ঞান,বিজ্ঞান শিক্ষা, খেলাধূলা এবং অন্যান্য ক্ষেত্র গড়ে তুলে বাংলাদেশকে মর্যাদাবান জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ এজন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের কর্মে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদাকে সমুন্নত করবেন এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার জন্য আমাদের সরকার কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক মান অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা ও ঐকান্তিক ইচ্ছা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতির অহংকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। আপনারা যেন চেইন অফ কমান্ড মেনে শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতায় সর্বত্র প্রশংসিত হতে পারেন সেটাই আমার কাম্য।

শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনী আজ তাদের সততা, নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকা-ের জন্য সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোন দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলে আর্তমানবতার সেবা ও জান-মাল রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী যে আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বিপর্যস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ায় তা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাও দেশে বিদেশে বহুল প্রশংসিত হয়েছে,বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং তিনবাহিনী প্রধানগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া,জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের স্ত্রীগণ,কূটনীতিক এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ সংবর্ধনায় অংশ নেন।

একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই ছিল স্বাধীনতার মূল চেতনা। কিন্তুু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে এবং বিজয়ী জাতির মর্যাদাকে ভূলুন্ঠিত করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রদানে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সন্মানকে ধরে রাখতে হলে সকলকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তাঁর সরকার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন সরকারই ইতোপূর্বে এ ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।

তিনি বলেন, সরকার একই সঙ্গে একটি আধুনিক সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাঁর সরকার সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ শুরু করলেও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে না পারায় সব উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে পুনরায় উন্নয়নের নব দিগন্ত উন্মোচিত হয় এবং জাতির স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশ্রস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন কর্মকান্ডও সেই থেকে অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকেই ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়। এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমুহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ এবং সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বেশ কিছু ব্রিগেড ও ইউনিট প্রতিষ্ঠা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেটে এবং রামুতে পূর্ণাঙ্গ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালীতেও শীঘ্রই একটি নতুন পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, সরঞ্জামাদি ও জনবলের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল একটি দক্ষ ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা। তিনি বলেন, স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি নিয়ে একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র বাহিনীর যে সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করে গেছেন, তারই উপর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কর্মদক্ষতার পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে স্বীকৃত ও প্রশংসিত হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী পৃথকভাবে সেনা,নৌ ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ সমূহের অংশ বিশেষ তুলে ধরেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সাথে তাঁর সুদৃঢ় পাবিারিক বন্ধনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় ভাই শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্সট্স থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর ফার্স্ট বেঙ্গলের অফিসার হিসেবে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও সেকেন্ড বেঙ্গলের অফিসার হিসেবে লেফটেন্যান্ট শেখ জামালকে সম্মাননা প্রদান করায় আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, ছোট ভাই রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। সে সেনাবাহিনীর সুশৃঙ্খল কার্যক্রম দেখে অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তার ছোট্ট বুক মাত্র দশ বছর বয়সেই বিদীর্ণ করে।

প্রধানমন্ত্রী পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সশ্রস্ত্রবাহিনীর সদস্য এবং তাঁদের পরিবারবর্গ, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বাসস।