ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭
  • ৪১৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সংদস্য রাষ্ট্রগুলো।

গতকাল চীন, রাশিয়া ও কয়েকটি দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিতে হবে।

জাতিসংঘের থার্ড কমিটির ওই ভোটাভুটিতে অংশ নেয় ১৭১টি দেশ। এর মধ্যে পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩৫টি দেশ।

মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, লাওস, ভিয়েতনাম, সিরিয়া, জিম্বাবুয়ে ও বেলারুশ এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। আর ভারত শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানসহ ২৬টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। এ ছাড়া ২২টি দেশ ভোটাভুটি অনুষ্ঠানে যায়নি।

প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে ১৬ দফা সুপারিশ করা হয়। এগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান সেনা অভিযান বন্ধ, অবিলম্বে রাখাইনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে অবারিতভাবে কাজ করতে দেওয়া, রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সেনাবাহিনী ও সংঘবদ্ধ উচ্ছৃঙ্খল লোকজনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের মহাসচিবকে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগের পরামর্শও দেওয়া হয় ওই প্রস্তাবে।

রোহিঙ্গা সংকটের ঘটনায় তারা ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ বলেও জানানো হয় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গত ৩১ অক্টোবর থার্ড কমিটিতে ‘মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক খসড়া প্রস্তাবটি দেয় মিসর। এটি সমর্থন করেছিল ৯৭টি দেশ এখন আগামী মাসে পূর্ণ পরিষদে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদিও এক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

গত আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

মিয়ানমার সরকার বলছে, রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন নয়; যারা গত ২৫ আগস্ট পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানে হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে

আপডেট টাইম : ০৬:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সংদস্য রাষ্ট্রগুলো।

গতকাল চীন, রাশিয়া ও কয়েকটি দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিতে হবে।

জাতিসংঘের থার্ড কমিটির ওই ভোটাভুটিতে অংশ নেয় ১৭১টি দেশ। এর মধ্যে পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩৫টি দেশ।

মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, লাওস, ভিয়েতনাম, সিরিয়া, জিম্বাবুয়ে ও বেলারুশ এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। আর ভারত শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানসহ ২৬টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। এ ছাড়া ২২টি দেশ ভোটাভুটি অনুষ্ঠানে যায়নি।

প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে ১৬ দফা সুপারিশ করা হয়। এগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান সেনা অভিযান বন্ধ, অবিলম্বে রাখাইনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে অবারিতভাবে কাজ করতে দেওয়া, রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সেনাবাহিনী ও সংঘবদ্ধ উচ্ছৃঙ্খল লোকজনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের মহাসচিবকে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগের পরামর্শও দেওয়া হয় ওই প্রস্তাবে।

রোহিঙ্গা সংকটের ঘটনায় তারা ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ বলেও জানানো হয় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গত ৩১ অক্টোবর থার্ড কমিটিতে ‘মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক খসড়া প্রস্তাবটি দেয় মিসর। এটি সমর্থন করেছিল ৯৭টি দেশ এখন আগামী মাসে পূর্ণ পরিষদে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদিও এক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

গত আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

মিয়ানমার সরকার বলছে, রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন নয়; যারা গত ২৫ আগস্ট পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানে হচ্ছে।