ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আজকে যারা সংস্কার-সংস্কার করছেন বিগত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত, যেকোনো সময় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মুখে নয়, জনগণকে দেয়া ওয়াদা পালন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী দুদিন ধরে ‘হাঁটতে পারছেন না’ সাবেক রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ, হতে পারে দপ্তর পুনর্বণ্টন মঙ্গলবার চালু হচ্ছে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস তারেক রহমানের টেবিলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, ঘোষণা যেকোনো সময় ডনের পর সামিরা ও আজিজকে গ্রেফতারের দাবি সালমান শাহ ভক্তদের ১১ ঘণ্টায়ও খোঁজ পাওয়া যায়নি স্কুলছাত্রী জুঁইয়ের

পাটের লোকসান পুষিয়ে যাচ্ছে পাটকাঠিতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩৭৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ পাটের দাম নিয়ে যখন চিন্তিত ঠিক সেই সময় চুয়াডাঙ্গার পাট চাষিরা পাটকাঠি নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে। সোনালী আঁশ পাট চাষে লোকসান হলেও পাটকাঠি বিক্রি করে তা পুশিয়ে নিচ্ছে।

পানের বরজ সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এখানে পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পাট থেকে যে পরিমাণ পাটকাঠি পাওয়া যায় তাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার চাহিদা মেটে না, বাইরের জেলা থেকে আমদানি করতে হয়। সে কারণে পাটকাঠি এবার বেশ চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। জেলার ৫টি স্থানে সাপ্তাহিক পাটকাঠির হাট বসে।

চুয়াডাঙ্গায় পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া গেলেও পাটকাঠির কদর বেশি। আর সে কারণে কৃষকরা নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বরাবরই পাটের আবাদ করেন। এ বছর পাটের দাম কম হলেও পাটকাঠির চাহিদার কমতি নেই। পানের বরজের শলি ও জ্বালানি হিসাবে পাটকাঠির জুড়ি মেলা ভার।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে ৫৫ মণ। যা থেকে হেক্টরপ্রতি পাটকাঠি পাওয়া যাবে ১ হাজার ১২৫ আটি। এক আটিতে ১৬০টি পাটকাঠি থাকে। এর মধ্যে ভাল মানের পাটকাঠি পাওয়া যাবে সাড়ে ৭শ’ আটি ও সাধারণ মানের ৩শ’ ৭৫ আটি। আর এই পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ৫৫-৬০ হাজার টাকা। অপরদিকে পাট বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৬৫-৬৬ হাজার টাকা। পাটের দাম কম থাকলেও পাটকাঠির উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকরা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গায় পাট থেকে যে পরিমান পাটকাঠি উৎপাদন হয় তা জেলার চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে পাশ্ববর্তী মেহেরপুর, রাজবাড়ী, পাংশা, কালুখালি, মাগুরাসহ কয়েকটি এলাকা থেকে পাটকাঠি আমদানি করা হয়। জেলার নীলমনিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, আসমানখালি, জামজামি ও ভালাইপুরে সাপ্তাহিক পাটকাঠি বিক্রির হাট বসে।

জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, পাট চাষে প্রচুর খরচ। বর্তমানে প্রতিমণ পাট ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। পাটকাঠি বিক্রির টাকা থেকে লোকসান বাচানো যাচ্ছে। পাটকাঠি দাম না থাকলে হয়তো পাটচাষ ছেড়ে দিতে হতো।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাশরুর বলেন, চুয়াডাঙ্গার প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে অন্যতম হলো পাট। জেলায় চলতি ২০১৭- ২০১৮ মৌসুমে ২২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চাষিরা পাটের দাম বেশি না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে তা পুষিয়ে নিচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকে যারা সংস্কার-সংস্কার করছেন বিগত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

পাটের লোকসান পুষিয়ে যাচ্ছে পাটকাঠিতে

আপডেট টাইম : ০৩:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ পাটের দাম নিয়ে যখন চিন্তিত ঠিক সেই সময় চুয়াডাঙ্গার পাট চাষিরা পাটকাঠি নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে। সোনালী আঁশ পাট চাষে লোকসান হলেও পাটকাঠি বিক্রি করে তা পুশিয়ে নিচ্ছে।

পানের বরজ সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এখানে পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পাট থেকে যে পরিমাণ পাটকাঠি পাওয়া যায় তাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার চাহিদা মেটে না, বাইরের জেলা থেকে আমদানি করতে হয়। সে কারণে পাটকাঠি এবার বেশ চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। জেলার ৫টি স্থানে সাপ্তাহিক পাটকাঠির হাট বসে।

চুয়াডাঙ্গায় পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া গেলেও পাটকাঠির কদর বেশি। আর সে কারণে কৃষকরা নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বরাবরই পাটের আবাদ করেন। এ বছর পাটের দাম কম হলেও পাটকাঠির চাহিদার কমতি নেই। পানের বরজের শলি ও জ্বালানি হিসাবে পাটকাঠির জুড়ি মেলা ভার।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে ৫৫ মণ। যা থেকে হেক্টরপ্রতি পাটকাঠি পাওয়া যাবে ১ হাজার ১২৫ আটি। এক আটিতে ১৬০টি পাটকাঠি থাকে। এর মধ্যে ভাল মানের পাটকাঠি পাওয়া যাবে সাড়ে ৭শ’ আটি ও সাধারণ মানের ৩শ’ ৭৫ আটি। আর এই পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ৫৫-৬০ হাজার টাকা। অপরদিকে পাট বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৬৫-৬৬ হাজার টাকা। পাটের দাম কম থাকলেও পাটকাঠির উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকরা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গায় পাট থেকে যে পরিমান পাটকাঠি উৎপাদন হয় তা জেলার চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে পাশ্ববর্তী মেহেরপুর, রাজবাড়ী, পাংশা, কালুখালি, মাগুরাসহ কয়েকটি এলাকা থেকে পাটকাঠি আমদানি করা হয়। জেলার নীলমনিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, আসমানখালি, জামজামি ও ভালাইপুরে সাপ্তাহিক পাটকাঠি বিক্রির হাট বসে।

জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, পাট চাষে প্রচুর খরচ। বর্তমানে প্রতিমণ পাট ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। পাটকাঠি বিক্রির টাকা থেকে লোকসান বাচানো যাচ্ছে। পাটকাঠি দাম না থাকলে হয়তো পাটচাষ ছেড়ে দিতে হতো।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাশরুর বলেন, চুয়াডাঙ্গার প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে অন্যতম হলো পাট। জেলায় চলতি ২০১৭- ২০১৮ মৌসুমে ২২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চাষিরা পাটের দাম বেশি না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে তা পুষিয়ে নিচ্ছে।