ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

পাটের লোকসান পুষিয়ে যাচ্ছে পাটকাঠিতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩৬৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ পাটের দাম নিয়ে যখন চিন্তিত ঠিক সেই সময় চুয়াডাঙ্গার পাট চাষিরা পাটকাঠি নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে। সোনালী আঁশ পাট চাষে লোকসান হলেও পাটকাঠি বিক্রি করে তা পুশিয়ে নিচ্ছে।

পানের বরজ সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এখানে পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পাট থেকে যে পরিমাণ পাটকাঠি পাওয়া যায় তাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার চাহিদা মেটে না, বাইরের জেলা থেকে আমদানি করতে হয়। সে কারণে পাটকাঠি এবার বেশ চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। জেলার ৫টি স্থানে সাপ্তাহিক পাটকাঠির হাট বসে।

চুয়াডাঙ্গায় পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া গেলেও পাটকাঠির কদর বেশি। আর সে কারণে কৃষকরা নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বরাবরই পাটের আবাদ করেন। এ বছর পাটের দাম কম হলেও পাটকাঠির চাহিদার কমতি নেই। পানের বরজের শলি ও জ্বালানি হিসাবে পাটকাঠির জুড়ি মেলা ভার।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে ৫৫ মণ। যা থেকে হেক্টরপ্রতি পাটকাঠি পাওয়া যাবে ১ হাজার ১২৫ আটি। এক আটিতে ১৬০টি পাটকাঠি থাকে। এর মধ্যে ভাল মানের পাটকাঠি পাওয়া যাবে সাড়ে ৭শ’ আটি ও সাধারণ মানের ৩শ’ ৭৫ আটি। আর এই পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ৫৫-৬০ হাজার টাকা। অপরদিকে পাট বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৬৫-৬৬ হাজার টাকা। পাটের দাম কম থাকলেও পাটকাঠির উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকরা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গায় পাট থেকে যে পরিমান পাটকাঠি উৎপাদন হয় তা জেলার চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে পাশ্ববর্তী মেহেরপুর, রাজবাড়ী, পাংশা, কালুখালি, মাগুরাসহ কয়েকটি এলাকা থেকে পাটকাঠি আমদানি করা হয়। জেলার নীলমনিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, আসমানখালি, জামজামি ও ভালাইপুরে সাপ্তাহিক পাটকাঠি বিক্রির হাট বসে।

জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, পাট চাষে প্রচুর খরচ। বর্তমানে প্রতিমণ পাট ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। পাটকাঠি বিক্রির টাকা থেকে লোকসান বাচানো যাচ্ছে। পাটকাঠি দাম না থাকলে হয়তো পাটচাষ ছেড়ে দিতে হতো।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাশরুর বলেন, চুয়াডাঙ্গার প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে অন্যতম হলো পাট। জেলায় চলতি ২০১৭- ২০১৮ মৌসুমে ২২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চাষিরা পাটের দাম বেশি না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে তা পুষিয়ে নিচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

পাটের লোকসান পুষিয়ে যাচ্ছে পাটকাঠিতে

আপডেট টাইম : ০৩:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ পাটের দাম নিয়ে যখন চিন্তিত ঠিক সেই সময় চুয়াডাঙ্গার পাট চাষিরা পাটকাঠি নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে। সোনালী আঁশ পাট চাষে লোকসান হলেও পাটকাঠি বিক্রি করে তা পুশিয়ে নিচ্ছে।

পানের বরজ সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এখানে পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পাট থেকে যে পরিমাণ পাটকাঠি পাওয়া যায় তাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার চাহিদা মেটে না, বাইরের জেলা থেকে আমদানি করতে হয়। সে কারণে পাটকাঠি এবার বেশ চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। জেলার ৫টি স্থানে সাপ্তাহিক পাটকাঠির হাট বসে।

চুয়াডাঙ্গায় পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া গেলেও পাটকাঠির কদর বেশি। আর সে কারণে কৃষকরা নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বরাবরই পাটের আবাদ করেন। এ বছর পাটের দাম কম হলেও পাটকাঠির চাহিদার কমতি নেই। পানের বরজের শলি ও জ্বালানি হিসাবে পাটকাঠির জুড়ি মেলা ভার।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে ৫৫ মণ। যা থেকে হেক্টরপ্রতি পাটকাঠি পাওয়া যাবে ১ হাজার ১২৫ আটি। এক আটিতে ১৬০টি পাটকাঠি থাকে। এর মধ্যে ভাল মানের পাটকাঠি পাওয়া যাবে সাড়ে ৭শ’ আটি ও সাধারণ মানের ৩শ’ ৭৫ আটি। আর এই পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ৫৫-৬০ হাজার টাকা। অপরদিকে পাট বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৬৫-৬৬ হাজার টাকা। পাটের দাম কম থাকলেও পাটকাঠির উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকরা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গায় পাট থেকে যে পরিমান পাটকাঠি উৎপাদন হয় তা জেলার চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে পাশ্ববর্তী মেহেরপুর, রাজবাড়ী, পাংশা, কালুখালি, মাগুরাসহ কয়েকটি এলাকা থেকে পাটকাঠি আমদানি করা হয়। জেলার নীলমনিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, আসমানখালি, জামজামি ও ভালাইপুরে সাপ্তাহিক পাটকাঠি বিক্রির হাট বসে।

জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, পাট চাষে প্রচুর খরচ। বর্তমানে প্রতিমণ পাট ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। পাটকাঠি বিক্রির টাকা থেকে লোকসান বাচানো যাচ্ছে। পাটকাঠি দাম না থাকলে হয়তো পাটচাষ ছেড়ে দিতে হতো।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাশরুর বলেন, চুয়াডাঙ্গার প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে অন্যতম হলো পাট। জেলায় চলতি ২০১৭- ২০১৮ মৌসুমে ২২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চাষিরা পাটের দাম বেশি না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে তা পুষিয়ে নিচ্ছে।