ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্রাগন ফল চাষে সফল হয়েছেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩২১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রশিক্ষণ-শিক্ষা-কাজ এ তিনের সমন্বয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ‘ড্রাগন ফল’ চাষে কৃষক শাহিনুর রহমান সফল হয়েছেন। এ ফল চাষ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহজ চাষ পদ্ধতি, অধিক লাভ আর কোনো ঝুঁকি নেই বলে ডুমুরিয়ার কৃষকরা ‘ড্রাগন’ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। ডুমুরিয়ার ‘ড্রাগন’ ফল ও এর চারা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘ড্রাগন ফল’ গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় ও এর নিকটবর্তীয় অঞ্চলের বিদেশি ফল। থাইল্যান্ডে এটি পিতারা নামে পরিচিত।

 দ্রুত বর্ধনশীল এ ফলের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকায়। খুলনার ডুমুরিয়ায় ড্রাগন চাষে আগ্রহী কৃষকরা চার বছর আগে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ডুমুরিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ নেয় এবং এ এলাকায় ড্রাগন চাষ শুরু করা হয়। সারা বছরই গাছে কম বেশি ফল থাকে। মাটির গুণগতমান ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলে ‘ড্রাগন’ চাষ করে অনেক কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। তবে শুধু জলাবদ্ধ ছাড়া এ ফল গাছ যে কোন মাটিতে রোপণে উপযোগী। ডুমুরিয়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের ‘ড্রাগন’ চাষী বি.এম শাহিনুর রহমান জানান, গত চার বছর আগে তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ‘ড্রাগন’ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে তার নিজস্ব চিংড়ি ঘেরের অতিরিক্ত জায়গায় বেড়ি বাঁধের (আইলে) ৫০টি লাল ড্রাগনের চারা রোপণ করেন। বিষমুক্ত, জৈব সার ব্যবহার করে ওই গাছে সঠিক পরিচর্চার মধ্যমে এক বছরের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রতি গাছে বছরে গড় ২০ কেজি ফল পাওয়া যায়। তবে গত বছরে থেকে তার ৫০টি গাছে ১ হাজার কেজি ফল পাওয়া গেছে। যার বাজার মূল্য কম পক্ষে ৪০০ টাকা কেজি দরে বছরে ৪ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করা হচ্ছে। ড্রাগন বিক্রি করতে কোন ঝামেলা হয় না। ক্ষেত থেকেই ফড়িয়ারা কিনে নিয়ে যায়। পরিবহন খরচ লাগে না। এছাড়া ড্রাগন গাছের গোড়া থেকে বর্ষার মওসুমে অসংখ্য চারা গজায়। ওই চারা প্রতি পিস বিভিন্ন জনের নিকট ৫০ টাকা মূল্যে অতিরিক্ত বিক্রি করা হয়। বর্তমান তিনি এ চারা ভারতসহ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছেন বলে জানান। ড্রাগন উৎপাদনের জন্য বছরে যে টাকা ব্যয় করা হয়, সেটি চারা বিক্রি থেকে খরচের টাকা পুশিয়ে যায়। কৃষক শাহিনুর আরো জানান, প্রতিটি ড্রাগন গাছ ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়, এটি পরীক্ষিত। এ ফল সাধারণত তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ গ্রাম ওজন হয়। ভেতরের খাবার অংশ সাস (জেলি) লাল টুকটুকে রঙের হয়ে থাকে। ফলটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খেতে খুবই সুস্বাদু। ডুমুরিয়ার ‘ড্রাগন ফল’ ফড়িয়ার মাধ্যমে জাপান এবং গাছের চারা ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে অল্প পুঁজি আর লাভ বেশি, ড্রাগন ফল চাষে অনেকটা বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম জানান, ‘ড্রাগন ফল’ উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় এ ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একটি ড্রাগন গাছ প্রাপ্ত বয়সে সন্ধ্যা রাতে সাদা রঙের ফুল ফোটে এবং ভোর হলেই নেতিয়ে পড়ে। ফুলে মৃদু সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। খুলনা অঞ্চলে মূলত সাদা ও লাল বাউ ড্রাগন চাষ হচ্ছে। এ ফল সালাদের সঙ্গে ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীদের শরীরের রক্তের গ্লুকোজকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাছাড়া জুস তৈরিতে এ ফলটি অত্যন্ত উপযোগী।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ড্রাগন ফল চাষে সফল হয়েছেন

আপডেট টাইম : ১২:০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রশিক্ষণ-শিক্ষা-কাজ এ তিনের সমন্বয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ‘ড্রাগন ফল’ চাষে কৃষক শাহিনুর রহমান সফল হয়েছেন। এ ফল চাষ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহজ চাষ পদ্ধতি, অধিক লাভ আর কোনো ঝুঁকি নেই বলে ডুমুরিয়ার কৃষকরা ‘ড্রাগন’ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। ডুমুরিয়ার ‘ড্রাগন’ ফল ও এর চারা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘ড্রাগন ফল’ গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় ও এর নিকটবর্তীয় অঞ্চলের বিদেশি ফল। থাইল্যান্ডে এটি পিতারা নামে পরিচিত।

 দ্রুত বর্ধনশীল এ ফলের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকায়। খুলনার ডুমুরিয়ায় ড্রাগন চাষে আগ্রহী কৃষকরা চার বছর আগে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ডুমুরিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ নেয় এবং এ এলাকায় ড্রাগন চাষ শুরু করা হয়। সারা বছরই গাছে কম বেশি ফল থাকে। মাটির গুণগতমান ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলে ‘ড্রাগন’ চাষ করে অনেক কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। তবে শুধু জলাবদ্ধ ছাড়া এ ফল গাছ যে কোন মাটিতে রোপণে উপযোগী। ডুমুরিয়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের ‘ড্রাগন’ চাষী বি.এম শাহিনুর রহমান জানান, গত চার বছর আগে তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ‘ড্রাগন’ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে তার নিজস্ব চিংড়ি ঘেরের অতিরিক্ত জায়গায় বেড়ি বাঁধের (আইলে) ৫০টি লাল ড্রাগনের চারা রোপণ করেন। বিষমুক্ত, জৈব সার ব্যবহার করে ওই গাছে সঠিক পরিচর্চার মধ্যমে এক বছরের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রতি গাছে বছরে গড় ২০ কেজি ফল পাওয়া যায়। তবে গত বছরে থেকে তার ৫০টি গাছে ১ হাজার কেজি ফল পাওয়া গেছে। যার বাজার মূল্য কম পক্ষে ৪০০ টাকা কেজি দরে বছরে ৪ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করা হচ্ছে। ড্রাগন বিক্রি করতে কোন ঝামেলা হয় না। ক্ষেত থেকেই ফড়িয়ারা কিনে নিয়ে যায়। পরিবহন খরচ লাগে না। এছাড়া ড্রাগন গাছের গোড়া থেকে বর্ষার মওসুমে অসংখ্য চারা গজায়। ওই চারা প্রতি পিস বিভিন্ন জনের নিকট ৫০ টাকা মূল্যে অতিরিক্ত বিক্রি করা হয়। বর্তমান তিনি এ চারা ভারতসহ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছেন বলে জানান। ড্রাগন উৎপাদনের জন্য বছরে যে টাকা ব্যয় করা হয়, সেটি চারা বিক্রি থেকে খরচের টাকা পুশিয়ে যায়। কৃষক শাহিনুর আরো জানান, প্রতিটি ড্রাগন গাছ ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়, এটি পরীক্ষিত। এ ফল সাধারণত তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ গ্রাম ওজন হয়। ভেতরের খাবার অংশ সাস (জেলি) লাল টুকটুকে রঙের হয়ে থাকে। ফলটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খেতে খুবই সুস্বাদু। ডুমুরিয়ার ‘ড্রাগন ফল’ ফড়িয়ার মাধ্যমে জাপান এবং গাছের চারা ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে অল্প পুঁজি আর লাভ বেশি, ড্রাগন ফল চাষে অনেকটা বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম জানান, ‘ড্রাগন ফল’ উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় এ ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একটি ড্রাগন গাছ প্রাপ্ত বয়সে সন্ধ্যা রাতে সাদা রঙের ফুল ফোটে এবং ভোর হলেই নেতিয়ে পড়ে। ফুলে মৃদু সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। খুলনা অঞ্চলে মূলত সাদা ও লাল বাউ ড্রাগন চাষ হচ্ছে। এ ফল সালাদের সঙ্গে ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীদের শরীরের রক্তের গ্লুকোজকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাছাড়া জুস তৈরিতে এ ফলটি অত্যন্ত উপযোগী।