ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে ভারত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩৭২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে ভারতের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকা সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, উদ্বাস্তুদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই এই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকের সময়েও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে।

কিন্তু রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ভারত মিয়ানমারের ওপরে আসলে কতোটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে?

দিল্লিতে সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক জয়িতা ভট্টাচার্য। তিনি বলছেন, “প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের অবশ্যই একটা চেষ্টা করা উচিৎ”
কিন্তু ভারত চাপ তৈরির এই কাজটি আসলে তারা কতটা করতে চায়?

সে ব্যাপারে তিনি বলছেন, “ব্যাপার হল কতটা করতে পারবে। তবে ভারতে অবশ্যই রোহিঙ্গা ইস্যুকে খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে অবশ্যই ইস্যুটি নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে।”

রোহিঙ্গাদের জন্য ভারত শুরুতেই ত্রাণ পাঠিয়েছে। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কখনোই স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।

এবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার মধ্যেই এই সঙ্কটের সমাধান।
একদিকে ভারত চাইছে মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে।

অন্যদিকে বাংলাদেশও ভারতের বন্ধু। ভারত কি মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে একই সাথে খুশি রাখতে পারবে?

জয়িতা ভট্টাচার্য বলছেন, “ভারতের কূটনীতির জন্যে এটি একটি মস্ত বড় পরীক্ষা হবে। ভারত কিভাবে দুই দেশের সাথে সম্পর্ক ব্যালান্স করবে সেটি একটি ইস্যু।”

ভারতও চায় রাখাইনে ফিরতে পারুক বাস্তুচ্যুতরা

ঢাকায় ভারত বাংলাদেশ যৌথ পরামর্শক সভার পর বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন রাখাইনের সহিংসতায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

অন্য দিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে ও রাখাইন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে ভারতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

রোববার দুপুরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় এসে বিকেলে যৌথ পরামর্শক সভায় অংশ নেন সুষমা স্বরাজ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় যে সব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিলো সেগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় স্থান পায় তিস্তা নদীর পানি বন্টনের বিষয়টিও।

সভায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও ভারতে নরেন্দ্র মোদির সরকারের মেয়াদকালেই তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উঠে এসেছে অবধারিতভাবেই। সেটি পরিষ্কার হয়েছে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিৃবতিতেও।

ওই বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

সুষমা স্বরাজের কথায়, “এটা পরিষ্কার যে রাখাইনে বাস্তুহারা মানুষেরা ফেরত যেতে পারলেই সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

তিনি আরো বলেন, ভারতের মতে রাখাইন পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হলো আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন – যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সেখানকার সবার ওপর।

ভারত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে একযোগে এ ধরনের প্রকল্পগুলোতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেও স্বরাজ জানান।

বিবৃতিতে সুষমা স্বরাজ রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ না করেই বলেন, “আমরা কোফি আনান কমিশন যেসব সুপারিশ করেছে সেগুলোর বাস্তবায়নকেও সমর্থন করি।”

জাতিসঙ্ঘের হিসেব অনুযায়ী গত ২৫ অগাস্টের পর থেকে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

এদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠালেও তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে তেমন স্পষ্ট করে আগে কিছু আগে বলেনি।

যদিও বাংলাদেশ সরকার আগাগোড়াই বলে এসেছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের বিপক্ষে নয়।

রোববার যৌথ পরার্শক সভার পর সুষমা স্বরাজ সন্ধ্যায় সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। (২২-১০-১৭ প্রকাশিত সংবাদ)

সূত্র : বিবিসি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে ভারত

আপডেট টাইম : ০৩:৫২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে ভারতের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকা সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, উদ্বাস্তুদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই এই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকের সময়েও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে।

কিন্তু রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ভারত মিয়ানমারের ওপরে আসলে কতোটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে?

দিল্লিতে সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক জয়িতা ভট্টাচার্য। তিনি বলছেন, “প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের অবশ্যই একটা চেষ্টা করা উচিৎ”
কিন্তু ভারত চাপ তৈরির এই কাজটি আসলে তারা কতটা করতে চায়?

সে ব্যাপারে তিনি বলছেন, “ব্যাপার হল কতটা করতে পারবে। তবে ভারতে অবশ্যই রোহিঙ্গা ইস্যুকে খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে অবশ্যই ইস্যুটি নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে।”

রোহিঙ্গাদের জন্য ভারত শুরুতেই ত্রাণ পাঠিয়েছে। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কখনোই স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।

এবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার মধ্যেই এই সঙ্কটের সমাধান।
একদিকে ভারত চাইছে মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে।

অন্যদিকে বাংলাদেশও ভারতের বন্ধু। ভারত কি মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে একই সাথে খুশি রাখতে পারবে?

জয়িতা ভট্টাচার্য বলছেন, “ভারতের কূটনীতির জন্যে এটি একটি মস্ত বড় পরীক্ষা হবে। ভারত কিভাবে দুই দেশের সাথে সম্পর্ক ব্যালান্স করবে সেটি একটি ইস্যু।”

ভারতও চায় রাখাইনে ফিরতে পারুক বাস্তুচ্যুতরা

ঢাকায় ভারত বাংলাদেশ যৌথ পরামর্শক সভার পর বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন রাখাইনের সহিংসতায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

অন্য দিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে ও রাখাইন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে ভারতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

রোববার দুপুরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় এসে বিকেলে যৌথ পরামর্শক সভায় অংশ নেন সুষমা স্বরাজ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় যে সব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিলো সেগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় স্থান পায় তিস্তা নদীর পানি বন্টনের বিষয়টিও।

সভায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও ভারতে নরেন্দ্র মোদির সরকারের মেয়াদকালেই তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উঠে এসেছে অবধারিতভাবেই। সেটি পরিষ্কার হয়েছে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিৃবতিতেও।

ওই বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

সুষমা স্বরাজের কথায়, “এটা পরিষ্কার যে রাখাইনে বাস্তুহারা মানুষেরা ফেরত যেতে পারলেই সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

তিনি আরো বলেন, ভারতের মতে রাখাইন পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হলো আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন – যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সেখানকার সবার ওপর।

ভারত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে একযোগে এ ধরনের প্রকল্পগুলোতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেও স্বরাজ জানান।

বিবৃতিতে সুষমা স্বরাজ রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ না করেই বলেন, “আমরা কোফি আনান কমিশন যেসব সুপারিশ করেছে সেগুলোর বাস্তবায়নকেও সমর্থন করি।”

জাতিসঙ্ঘের হিসেব অনুযায়ী গত ২৫ অগাস্টের পর থেকে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

এদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠালেও তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে তেমন স্পষ্ট করে আগে কিছু আগে বলেনি।

যদিও বাংলাদেশ সরকার আগাগোড়াই বলে এসেছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের বিপক্ষে নয়।

রোববার যৌথ পরার্শক সভার পর সুষমা স্বরাজ সন্ধ্যায় সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। (২২-১০-১৭ প্রকাশিত সংবাদ)

সূত্র : বিবিসি