ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিএনপির কপালে আরও দুর্গতি আছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৩৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৫
  • ২৯৫ বার

এবার ঘটা করে আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে জন্মদিন পালন করে বিএনপির কী রাজনৈতিক ফায়দা হয়েছে এবং আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে জন্মদিন পালন করতে দিয়ে দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগ তথা সরকার কী মেসেজ দিতে পেরেছে তা আগামী রাজনীতিতে অর্থবহ হয়ে উঠবে। তবে নিশ্চয়ই সরকার বিদেশিদের অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে জাতির পিতার মৃত্যুর দিনে যে নেত্রী আনন্দ উল্লাস করে দলে-বলে জন্মদিন পালন করে সেই নেত্রী বা দলের সঙ্গে কোনো জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার করার সুযোগ নাই। যারা জাতির পিতাকে মানে না তাদের সঙ্গে জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার সুযোগইবা কতটুকু বা যৌক্তিকতাই কি সেটিও বিদেশিদের অনুধাবনের জন্য সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে যে তুলে ধরবে তাতে কারো বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

তাছাড়া জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ২০ দলের অনুপস্থিতির কী ব্যাখ্যা এবং তার কী প্রভাব তা অবশ্যই দৃশ্যমান হওয়ার অপেক্ষা মাত্র। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মওদুদ-মাহবুবদের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যার জন্য অবশ্যই জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে। বিএনপি আওয়ামী লীগের বিপক্ষের রাজনৈতিক দল এবং পরস্পর স্বার্থবিরোধী। বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগের ধ্যান ধারণা বা রাজনীতি বহন করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না এবং এ নিয়ে যারা বিরোধ করবে তাদের অস্তিত্ব নিয়েও কোনো আপস করা যায় না। বঙ্গবব্ধু ও জাতির পিতা নিয়ে বিএনপির কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। কারণ বিএনপির জন্মের পূর্বেই জাতির পিতার বিষয়টি মীমাংসিত, তাছাড়া জাতির পিতার জন্য বিএনপির কোনো প্রার্থীও নাই। তবে জাতির ঘোষকের একটি ন্যায়সঙ্গত দাবি বিএনপির আছে যেটি নিয়ে দরকষাকষি হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বিএনপির কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ থাকলে থাকতে পারে মুক্তিযুদ্ধের পরে চাপিয়ে দেয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা সংবিধানের চার মূলনীতির ব্যাপারে।

বিএনপি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য এখানেই। কিন্তু বিএনপির বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতার সুযোগে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও নিপুণ কৌশলে বিএনপিকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, ইসলামিক মৌলবাদী, পাকিস্তানপন্থি ও ভারতবিদ্বেষী এবং লুটেরা দুর্নীতিবাজ বানিয়ে দিয়েছে। দেশ আজকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ও বিপক্ষে ভাগ হয়ে গিয়েছে। অপ্রিয় সত্যি হলেও বিপক্ষের ভাগটি বড় কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো ওই বড় পক্ষটি আবার ম্যাডামকে মেনে নিতে চায় না। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণে অনেকেই বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম দ্রুত বঙ্গবন্ধুর দূরে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাইরের নতুন প্রজন্মটি অতিমাত্রায় ইসলামিক চিন্তা চেতনার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং তাদের শিক্ষা, পেশাগত দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক প্রতিযোগিতার কারণে ক্রমশ ভারতবিদ্বেষীও হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির নিজস্ব বিকাশের কারণে ঢাকা অতি দ্রুত বাংলা কৃষ্টি-কালচারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও চরম সত্য যে, এই ভারতবিরোধী নতুন প্রজন্ম বিএনপির দিকে না ঝুঁকে বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজছে।

বিএনপির মধ্যেও দ্রুত ম্যাডামের সমর্থন হ্রাস পাচ্ছে। ছোট ছোট পাতি নেতারাও আজকাল ঘরোয়া কথাবার্তায় ম্যাডামের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়। এখন আর সবাই একবাক্যে ম্যাডামের সিদ্ধান্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নিতে চায় না। একই অবস্থা বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাদের। এমনকি ২০ দলের নেতারাও ঘরোয়া আলাপ আলোচনায় প্রচণ্ডভাবে ম্যাডামের সমালোচনা করেন এবং তারেক রহমানকে তারা মেনেও নেন না। তাছাড়া সাঙ্গপাঙ্গদের বিভিন্ন আচরণ এবং দূরে থাকার কারণে তারেক রহমানের প্রতিও নতুন প্রজন্মের ঝোঁক কমে যাচ্ছে। সবাই ম্যাডামের সামনে জ্বি ম্যাডাম জ্বি ম্যাডাম করে কিন্তু বাইরে এসেই বিরূপ মন্তব্য করে। ম্যাডামকে সত্য জানানোর জন্য ম্যাডামকে এখন আর একান্তে পাওয়া যায় না। তাছাড়া সবসময় ম্যাডামকে একটি চক্র পাহারা দিয়ে রাখে এবং তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া কারো পক্ষে ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয় না। ম্যাডাম সম্পূর্ণভাবে চক্রটির নিয়ন্ত্রণে এবং এই চক্রটিকে সহায়তা করে তারেকবিরোধী ম্যাডামের কতিপয় আত্মীয়স্বজন ও ম্যাডামের ব্যক্তিগত কিছু সাবেক স্টাফ।

এই চক্রটি ম্যাডামকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। একদিন জাতি হয়তো একটি চরম দুঃসংবাদ এই চক্রটির কাছ থেকেই শুনবে!

তাই সবকিছু মিলে মনে হয় এবারের আনন্দ উল্লাসের জন্মদিন পালন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব রাখতে যাচ্ছে; যার খেসারত দিতে হবে বিএনপিকে এবং সুবিধাভোগ করবে সরকার ও তার প্রধান। কারণ অবস্থাদৃষ্টে ও বাস্তবতার নিরিখে মনে হচ্ছে এবারের আনন্দ উৎসবের মধ্যে ম্যাডামের জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্তটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেন নিয়ে বাস্তবায়ন করিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে এবং এভাবে চালাতে পারলে আগামীতেও প্রধানমন্ত্রীর ভয়ের কিছু নেই। দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বিএনপির কপালে আরও দুর্গতি আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির কপালে আরও দুর্গতি আছে

আপডেট টাইম : ০৯:৩৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৫

এবার ঘটা করে আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে জন্মদিন পালন করে বিএনপির কী রাজনৈতিক ফায়দা হয়েছে এবং আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে জন্মদিন পালন করতে দিয়ে দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগ তথা সরকার কী মেসেজ দিতে পেরেছে তা আগামী রাজনীতিতে অর্থবহ হয়ে উঠবে। তবে নিশ্চয়ই সরকার বিদেশিদের অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে জাতির পিতার মৃত্যুর দিনে যে নেত্রী আনন্দ উল্লাস করে দলে-বলে জন্মদিন পালন করে সেই নেত্রী বা দলের সঙ্গে কোনো জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার করার সুযোগ নাই। যারা জাতির পিতাকে মানে না তাদের সঙ্গে জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার সুযোগইবা কতটুকু বা যৌক্তিকতাই কি সেটিও বিদেশিদের অনুধাবনের জন্য সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে যে তুলে ধরবে তাতে কারো বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

তাছাড়া জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ২০ দলের অনুপস্থিতির কী ব্যাখ্যা এবং তার কী প্রভাব তা অবশ্যই দৃশ্যমান হওয়ার অপেক্ষা মাত্র। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মওদুদ-মাহবুবদের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যার জন্য অবশ্যই জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে। বিএনপি আওয়ামী লীগের বিপক্ষের রাজনৈতিক দল এবং পরস্পর স্বার্থবিরোধী। বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগের ধ্যান ধারণা বা রাজনীতি বহন করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না এবং এ নিয়ে যারা বিরোধ করবে তাদের অস্তিত্ব নিয়েও কোনো আপস করা যায় না। বঙ্গবব্ধু ও জাতির পিতা নিয়ে বিএনপির কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। কারণ বিএনপির জন্মের পূর্বেই জাতির পিতার বিষয়টি মীমাংসিত, তাছাড়া জাতির পিতার জন্য বিএনপির কোনো প্রার্থীও নাই। তবে জাতির ঘোষকের একটি ন্যায়সঙ্গত দাবি বিএনপির আছে যেটি নিয়ে দরকষাকষি হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বিএনপির কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ থাকলে থাকতে পারে মুক্তিযুদ্ধের পরে চাপিয়ে দেয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা সংবিধানের চার মূলনীতির ব্যাপারে।

বিএনপি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য এখানেই। কিন্তু বিএনপির বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতার সুযোগে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও নিপুণ কৌশলে বিএনপিকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, ইসলামিক মৌলবাদী, পাকিস্তানপন্থি ও ভারতবিদ্বেষী এবং লুটেরা দুর্নীতিবাজ বানিয়ে দিয়েছে। দেশ আজকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ও বিপক্ষে ভাগ হয়ে গিয়েছে। অপ্রিয় সত্যি হলেও বিপক্ষের ভাগটি বড় কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো ওই বড় পক্ষটি আবার ম্যাডামকে মেনে নিতে চায় না। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণে অনেকেই বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম দ্রুত বঙ্গবন্ধুর দূরে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাইরের নতুন প্রজন্মটি অতিমাত্রায় ইসলামিক চিন্তা চেতনার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং তাদের শিক্ষা, পেশাগত দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক প্রতিযোগিতার কারণে ক্রমশ ভারতবিদ্বেষীও হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির নিজস্ব বিকাশের কারণে ঢাকা অতি দ্রুত বাংলা কৃষ্টি-কালচারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও চরম সত্য যে, এই ভারতবিরোধী নতুন প্রজন্ম বিএনপির দিকে না ঝুঁকে বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজছে।

বিএনপির মধ্যেও দ্রুত ম্যাডামের সমর্থন হ্রাস পাচ্ছে। ছোট ছোট পাতি নেতারাও আজকাল ঘরোয়া কথাবার্তায় ম্যাডামের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়। এখন আর সবাই একবাক্যে ম্যাডামের সিদ্ধান্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নিতে চায় না। একই অবস্থা বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাদের। এমনকি ২০ দলের নেতারাও ঘরোয়া আলাপ আলোচনায় প্রচণ্ডভাবে ম্যাডামের সমালোচনা করেন এবং তারেক রহমানকে তারা মেনেও নেন না। তাছাড়া সাঙ্গপাঙ্গদের বিভিন্ন আচরণ এবং দূরে থাকার কারণে তারেক রহমানের প্রতিও নতুন প্রজন্মের ঝোঁক কমে যাচ্ছে। সবাই ম্যাডামের সামনে জ্বি ম্যাডাম জ্বি ম্যাডাম করে কিন্তু বাইরে এসেই বিরূপ মন্তব্য করে। ম্যাডামকে সত্য জানানোর জন্য ম্যাডামকে এখন আর একান্তে পাওয়া যায় না। তাছাড়া সবসময় ম্যাডামকে একটি চক্র পাহারা দিয়ে রাখে এবং তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া কারো পক্ষে ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয় না। ম্যাডাম সম্পূর্ণভাবে চক্রটির নিয়ন্ত্রণে এবং এই চক্রটিকে সহায়তা করে তারেকবিরোধী ম্যাডামের কতিপয় আত্মীয়স্বজন ও ম্যাডামের ব্যক্তিগত কিছু সাবেক স্টাফ।

এই চক্রটি ম্যাডামকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। একদিন জাতি হয়তো একটি চরম দুঃসংবাদ এই চক্রটির কাছ থেকেই শুনবে!

তাই সবকিছু মিলে মনে হয় এবারের আনন্দ উল্লাসের জন্মদিন পালন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব রাখতে যাচ্ছে; যার খেসারত দিতে হবে বিএনপিকে এবং সুবিধাভোগ করবে সরকার ও তার প্রধান। কারণ অবস্থাদৃষ্টে ও বাস্তবতার নিরিখে মনে হচ্ছে এবারের আনন্দ উৎসবের মধ্যে ম্যাডামের জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্তটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেন নিয়ে বাস্তবায়ন করিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে এবং এভাবে চালাতে পারলে আগামীতেও প্রধানমন্ত্রীর ভয়ের কিছু নেই। দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বিএনপির কপালে আরও দুর্গতি আছে।