ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার শিশু হত্যা: মামলার রায় বুধবার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০১৭
  • ৩০২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলার রায় আগামীকাল বুধবার ধার্য্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান এ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কিশোর কুমার কর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)। মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদরাসার ছাত্র।

নিখোঁজের পাঁচদিন পর ইছাবিল থেকে তাদের বালিচাপা লাশ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বাহুবল থানায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মনির মিয়ার বাবা আবদাল মিয়া।

২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তৎকালীন ওসি মোক্তাদির হোসেন নয়জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দুই পঞ্চায়েত আবদাল মিয়া তালুকদার ও আব্দুল আলী বাগালের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে মামলার তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে।

এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগাল, তার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরজু মিয়া ও শাহেদ মিয়া। বাচ্চু মিয়া নামের একজন র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর এ মামলার পলাতক আসামি উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ মামলাটি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মামলার ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শিশু হত্যা: মামলার রায় বুধবার

আপডেট টাইম : ০৭:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলার রায় আগামীকাল বুধবার ধার্য্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান এ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কিশোর কুমার কর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)। মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদরাসার ছাত্র।

নিখোঁজের পাঁচদিন পর ইছাবিল থেকে তাদের বালিচাপা লাশ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বাহুবল থানায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মনির মিয়ার বাবা আবদাল মিয়া।

২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তৎকালীন ওসি মোক্তাদির হোসেন নয়জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দুই পঞ্চায়েত আবদাল মিয়া তালুকদার ও আব্দুল আলী বাগালের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে মামলার তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে।

এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগাল, তার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরজু মিয়া ও শাহেদ মিয়া। বাচ্চু মিয়া নামের একজন র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর এ মামলার পলাতক আসামি উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ মামলাটি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মামলার ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।