ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুটখালীতে অভিনব পদ্ধতিতে ফেনসিডিল পাচার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭
  • ৩৮৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  ভারত থেকে আসা গরুর মতো স্বাভাবিকভাবে পাচার হয়ে আসছে ফেনসিডিল। সেই পাচারকে কেন্দ্র করেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে রমরমা ব্যবসা। সরকার কয়েকটি জেলায় এই ব্যবসা বন্ধ করে দিলেও কমছে না পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য। অভিনব উপায়ে ভারত থেকে আসছে এই ফেনসিডিল। যশোরের পুটখালীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিক্রিও হচ্ছে খুব।  এখন ট্রাকে করেই ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেনসিডিল আসে। তবে ঝুঁকির কারণে সেই পথ কম ব্যবহার করে পাচারকারীরা। তারা বেছে নিয়েছে নদীপথ। সাঁতরে পার করে গরু, আর গরুর সঙ্গে থাকে ফেনসিডিল। প্রতিদিনই ইছামতি নদী দিয়ে গরু পাচার হয়। আর সেই গরুর সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয় ফেনসিডিল।  কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখের সামনে কিভাবে সম্ভব হচ্ছে এমন কাজ। এ বিষয়ে পাচারকারীরা জানায়, তাদের বড় একটি চক্র আছে। সবকিছু আগেই ঠিক করা থাকে। ৩০ মিনিটের জন্য সীমান্ত খুলে যায়। দিনে ২-৩ বার এমন ঘটনা ঘটে। সেসময়ই ইছামতি নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে গরু। আর তার সঙ্গে ভেসে আসে অসংখ্য ফেনসিডিল।

গরুগুলোকে কর্কশিটের আবরণ পড়ানো হয়। আর এর নিচে থাকে প্রায় ৫০০টি ফেনসিডিল বোতল। এতে করে পানিতে ভেসে থাকতে সুবিধা হয় গরুগুলোর। নদীর পাড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে  সেগুলো সরিয়ে ফেলে পাচারকারীরা।

সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বিজিবি ক্যাম্পের পাশের চায়ের দোকানেও এই নিয়ে চলে খোলামেলা আলোচনা। পাচারের সাফল্যে দেওয়া হয় উৎসাহ ও প্রশংসা।
বাংলাদেশের প্রায় সব সীমান্তবর্তী এলাকারই দৃশ্য এমন। তবে বেনাপোল ও পুটখালীতে  ফেনসিডিল পাচারের ঘটনা অনেক বেশি।  চার হাজার কিলোমিটারের বেশি এলাকা রয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে  । কিন্তু সবচেয়ে বেশি চলাচল হয় বেনাপোল বন্দরে। এছাড়া বড়পোতা, দৌলতপুর, গাতিপারা দিয়ে প্রচুর ফেনসিডিল দেশে আসে। কিন্তু গ্রাম হওয়া সত্ত্বেও পুটখালীতেই এই ব্যবসাটি বেশ  রমরমা।
পুটখালীর রাস্তায়, মাঠে যেখানে-সেখানে ফেনসিডিলের বোতল পাওয়া যায়। শার্শা উপজেলার এই গ্রামটি বেনাপোলের সবচেয়ে কাছে। গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে এখানে স্বাভাবিকভাবেই ফেনসিডিল আনা-নেওয়া করছে এলাকাবাসী। এটাই এখানে সবচেয়ে প্রচলিত ও স্বাভাবিক ব্যবসা।
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দমন অধিদফতর পুলিশ ও বিজিবির সাহায্যে ভোবারবার, কাগজপুর ও সাদীপুর থেকে এই পাচারকারী চক্রকে নির্মূল করলেও পাল্টায়নি পুটখালীর চেহারা। এখানে ফেনসিডিল, ইয়বা, গরু ও অস্ত্র চোরাচালান চলছে দেদারছে।
পুটখালীর ফেনসিডিল বাস্তবতা এতটাই প্রকট যে, নদীতে বরশি ফেলে মাছ ধরা হয় না, ধরা হয় ফেনসিডিলের বোতল। জাল ফেলেও জমা করা হয় অনেক বোতল।
আর গ্রামটিতে ফেনসিডিল এতটাই দৃশ্যমান যে, বিজিবি ক্যাম্পের চারপাশেও অসংখ্য খালি ও ভাঙা বোতল চোখে পড়ে। এটা আসলে এক ধরনের চোখ রাঙানিও যে, ‘দেখ, আমরা তোমাদের আইন-শৃঙ্খলাকে তোয়াক্কা করি না।’
এলাকাবাসী কৌতুক করে বলে, কেউ যদি পুটখালীর খালি ফেনসিডিল বোতলও বিক্রি করেন, তবুও তিনি রাতারাতি ধনী হয়ে যাবেন।  তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিতে বড় একটি চক্র কাজ করে। পাচারকারী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এলাকাবাসীও সাহায্য করে তাদের। পুলিশ সদস্যকে দেখলেই ‘স্পটার’রা সবাইকে তথ্য দিয়ে দেয়। গোয়েন্দা থেকে শুরু করে সবাইকেই চেনে তারা।

পুলিশের স্থানীয় এক উপ-পরিদর্শক জানান, পুলিশ খুবই অসুবিধায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই স্পটাররা আমাদের খুবই ভালোভাবে চেনে। আমাদের পরিবার, বাড়ি এমনকি জন্মদাগ সম্পর্কেও তাদের জানা।’

স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তরিকুল ইসলামের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পুটখালীতে অভিনব পদ্ধতিতে ফেনসিডিল পাচার

আপডেট টাইম : ০৪:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  ভারত থেকে আসা গরুর মতো স্বাভাবিকভাবে পাচার হয়ে আসছে ফেনসিডিল। সেই পাচারকে কেন্দ্র করেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে রমরমা ব্যবসা। সরকার কয়েকটি জেলায় এই ব্যবসা বন্ধ করে দিলেও কমছে না পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য। অভিনব উপায়ে ভারত থেকে আসছে এই ফেনসিডিল। যশোরের পুটখালীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিক্রিও হচ্ছে খুব।  এখন ট্রাকে করেই ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেনসিডিল আসে। তবে ঝুঁকির কারণে সেই পথ কম ব্যবহার করে পাচারকারীরা। তারা বেছে নিয়েছে নদীপথ। সাঁতরে পার করে গরু, আর গরুর সঙ্গে থাকে ফেনসিডিল। প্রতিদিনই ইছামতি নদী দিয়ে গরু পাচার হয়। আর সেই গরুর সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয় ফেনসিডিল।  কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখের সামনে কিভাবে সম্ভব হচ্ছে এমন কাজ। এ বিষয়ে পাচারকারীরা জানায়, তাদের বড় একটি চক্র আছে। সবকিছু আগেই ঠিক করা থাকে। ৩০ মিনিটের জন্য সীমান্ত খুলে যায়। দিনে ২-৩ বার এমন ঘটনা ঘটে। সেসময়ই ইছামতি নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে গরু। আর তার সঙ্গে ভেসে আসে অসংখ্য ফেনসিডিল।

গরুগুলোকে কর্কশিটের আবরণ পড়ানো হয়। আর এর নিচে থাকে প্রায় ৫০০টি ফেনসিডিল বোতল। এতে করে পানিতে ভেসে থাকতে সুবিধা হয় গরুগুলোর। নদীর পাড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে  সেগুলো সরিয়ে ফেলে পাচারকারীরা।

সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বিজিবি ক্যাম্পের পাশের চায়ের দোকানেও এই নিয়ে চলে খোলামেলা আলোচনা। পাচারের সাফল্যে দেওয়া হয় উৎসাহ ও প্রশংসা।
বাংলাদেশের প্রায় সব সীমান্তবর্তী এলাকারই দৃশ্য এমন। তবে বেনাপোল ও পুটখালীতে  ফেনসিডিল পাচারের ঘটনা অনেক বেশি।  চার হাজার কিলোমিটারের বেশি এলাকা রয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে  । কিন্তু সবচেয়ে বেশি চলাচল হয় বেনাপোল বন্দরে। এছাড়া বড়পোতা, দৌলতপুর, গাতিপারা দিয়ে প্রচুর ফেনসিডিল দেশে আসে। কিন্তু গ্রাম হওয়া সত্ত্বেও পুটখালীতেই এই ব্যবসাটি বেশ  রমরমা।
পুটখালীর রাস্তায়, মাঠে যেখানে-সেখানে ফেনসিডিলের বোতল পাওয়া যায়। শার্শা উপজেলার এই গ্রামটি বেনাপোলের সবচেয়ে কাছে। গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে এখানে স্বাভাবিকভাবেই ফেনসিডিল আনা-নেওয়া করছে এলাকাবাসী। এটাই এখানে সবচেয়ে প্রচলিত ও স্বাভাবিক ব্যবসা।
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দমন অধিদফতর পুলিশ ও বিজিবির সাহায্যে ভোবারবার, কাগজপুর ও সাদীপুর থেকে এই পাচারকারী চক্রকে নির্মূল করলেও পাল্টায়নি পুটখালীর চেহারা। এখানে ফেনসিডিল, ইয়বা, গরু ও অস্ত্র চোরাচালান চলছে দেদারছে।
পুটখালীর ফেনসিডিল বাস্তবতা এতটাই প্রকট যে, নদীতে বরশি ফেলে মাছ ধরা হয় না, ধরা হয় ফেনসিডিলের বোতল। জাল ফেলেও জমা করা হয় অনেক বোতল।
আর গ্রামটিতে ফেনসিডিল এতটাই দৃশ্যমান যে, বিজিবি ক্যাম্পের চারপাশেও অসংখ্য খালি ও ভাঙা বোতল চোখে পড়ে। এটা আসলে এক ধরনের চোখ রাঙানিও যে, ‘দেখ, আমরা তোমাদের আইন-শৃঙ্খলাকে তোয়াক্কা করি না।’
এলাকাবাসী কৌতুক করে বলে, কেউ যদি পুটখালীর খালি ফেনসিডিল বোতলও বিক্রি করেন, তবুও তিনি রাতারাতি ধনী হয়ে যাবেন।  তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিতে বড় একটি চক্র কাজ করে। পাচারকারী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এলাকাবাসীও সাহায্য করে তাদের। পুলিশ সদস্যকে দেখলেই ‘স্পটার’রা সবাইকে তথ্য দিয়ে দেয়। গোয়েন্দা থেকে শুরু করে সবাইকেই চেনে তারা।

পুলিশের স্থানীয় এক উপ-পরিদর্শক জানান, পুলিশ খুবই অসুবিধায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই স্পটাররা আমাদের খুবই ভালোভাবে চেনে। আমাদের পরিবার, বাড়ি এমনকি জন্মদাগ সম্পর্কেও তাদের জানা।’

স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তরিকুল ইসলামের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।