ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এ মন, হৃদয় জড়ালে আমায় কখন— কী বার্তা তমা মির্জার এক হাজার গোলের টার্গেট রোনালদোর হাসিনার মতো করলে তোমাদেরও জনগণ বিদায় করে দেবে: ফজলুর রহমান ১০০ ফুট লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি নজরুল ইসলামকে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন সভাপতির কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য সাতলা বিল, মুগ্ধ পর্যটকেরা

কালীদাসের সন্দেশ, খ্যাতি যার দেশজুড়ে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০১৫
  • ১৩০৭ বার

যে মিষ্টির নাম শুনলেই যে কারোর জিবে জল আসে, এমনকি ডায়াবেটিস রোগীরাও হাতের কাছে পেলে একটু হলেও খেয়ে লোভ সংবরণ করে থাকেন। দেশখ্যাত এই মিষ্টি হলো মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কীর কালীদাসের সন্দেশ। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাহিত্য সাংস্কৃতিক জগতের খুব কম ব্যক্তিই রয়েছেন যিনি এই সুস্বাদু সন্দেশ না খেয়েছেন।
জামুর্কী গ্রামের মদন মোহন সাহা মিষ্টির ব্যবসা করতেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে কালীদাস সাহা পৈত্রিক পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি অন্যান্য মিষ্টির সঙ্গে চিনি এবং পাটালী গুড় দিয়ে এই দুই প্রকার সন্দেশ তৈরি করতেন। তার তৈরি সন্দেশ এত সুস্বাদু যে অচিরেই এর সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই জামুর্কীর কালীদাসের সন্দেশ হয়ে উঠে প্রসিদ্ধ।
কালীদাস সাহা ১৯৮২ সালে পরলোকগমন করেন। কালীদাস সাহার দুই ছেলের মধ্যে বর্তমানে সমর সাহা মিষ্টির ব্যবসায় নিয়োজিত। অপর ছেলে গৌতম সাহা লন্ডন প্রবাসী। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন চৌচালা টিনের অতি সাধারণ এই দোকান ঘরটিতে সুস্বাদু সন্দেশের জন্য ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে।
মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় গাড়ি থামিয়ে দোকান ঘরে ঢুকে সুস্বাদু এই সন্দেশ খেতে এবং পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য নিত্যনৈমতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও টাঙ্গাইল যাওয়ার পথে এই দোকান ঘরে বসে সন্দেশ খান। কালীদাস সাহা কাগমারির কাসার দুটি থালায় পাটালী গুড় এবং চিনির সন্দেশ তাকে উপহার দেন বলে জানান তার ছেলে সমর সাহা।
এলাকাবাসী জানান, ২০১৩ সালের জুন মাসে বঙ্গবন্ধুর নাতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় জামুর্কী জনসভায় বক্তৃতাকালে কালীদাসের এই সন্দেশের প্রশংসা করেন।
এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিন আগে ওই দোকানে বসে সন্দেশ খান এবং দলের চেয়ারপার্সনের জন্য তা নিয়ে যান বলে জানান সমর সাহা।
নায়ক রাজ রাজ্জাকসহ শিল্প সাহিত্য জগতের খুব কম ব্যক্তিই রয়েছেন যিনি এই কালীদাসের সন্দেশ না খেয়েছেন।
এছাড়া ২০১৩ সালে ৫ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল পরিদর্শনে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জামুর্কীর কালীদাসের সন্দেশ উপহার দেন বলে জানান দোকানের বর্তমান মালিক সমর সাহা।
মালিক সমর সাহার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন আমাদের সততা এবং ঐশ্বরিক অবদানই এর মাহিত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

কালীদাসের সন্দেশ, খ্যাতি যার দেশজুড়ে

আপডেট টাইম : ১১:০২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০১৫

যে মিষ্টির নাম শুনলেই যে কারোর জিবে জল আসে, এমনকি ডায়াবেটিস রোগীরাও হাতের কাছে পেলে একটু হলেও খেয়ে লোভ সংবরণ করে থাকেন। দেশখ্যাত এই মিষ্টি হলো মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কীর কালীদাসের সন্দেশ। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাহিত্য সাংস্কৃতিক জগতের খুব কম ব্যক্তিই রয়েছেন যিনি এই সুস্বাদু সন্দেশ না খেয়েছেন।
জামুর্কী গ্রামের মদন মোহন সাহা মিষ্টির ব্যবসা করতেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে কালীদাস সাহা পৈত্রিক পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি অন্যান্য মিষ্টির সঙ্গে চিনি এবং পাটালী গুড় দিয়ে এই দুই প্রকার সন্দেশ তৈরি করতেন। তার তৈরি সন্দেশ এত সুস্বাদু যে অচিরেই এর সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই জামুর্কীর কালীদাসের সন্দেশ হয়ে উঠে প্রসিদ্ধ।
কালীদাস সাহা ১৯৮২ সালে পরলোকগমন করেন। কালীদাস সাহার দুই ছেলের মধ্যে বর্তমানে সমর সাহা মিষ্টির ব্যবসায় নিয়োজিত। অপর ছেলে গৌতম সাহা লন্ডন প্রবাসী। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন চৌচালা টিনের অতি সাধারণ এই দোকান ঘরটিতে সুস্বাদু সন্দেশের জন্য ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে।
মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় গাড়ি থামিয়ে দোকান ঘরে ঢুকে সুস্বাদু এই সন্দেশ খেতে এবং পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য নিত্যনৈমতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও টাঙ্গাইল যাওয়ার পথে এই দোকান ঘরে বসে সন্দেশ খান। কালীদাস সাহা কাগমারির কাসার দুটি থালায় পাটালী গুড় এবং চিনির সন্দেশ তাকে উপহার দেন বলে জানান তার ছেলে সমর সাহা।
এলাকাবাসী জানান, ২০১৩ সালের জুন মাসে বঙ্গবন্ধুর নাতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় জামুর্কী জনসভায় বক্তৃতাকালে কালীদাসের এই সন্দেশের প্রশংসা করেন।
এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিন আগে ওই দোকানে বসে সন্দেশ খান এবং দলের চেয়ারপার্সনের জন্য তা নিয়ে যান বলে জানান সমর সাহা।
নায়ক রাজ রাজ্জাকসহ শিল্প সাহিত্য জগতের খুব কম ব্যক্তিই রয়েছেন যিনি এই কালীদাসের সন্দেশ না খেয়েছেন।
এছাড়া ২০১৩ সালে ৫ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল পরিদর্শনে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জামুর্কীর কালীদাসের সন্দেশ উপহার দেন বলে জানান দোকানের বর্তমান মালিক সমর সাহা।
মালিক সমর সাহার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন আমাদের সততা এবং ঐশ্বরিক অবদানই এর মাহিত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।