ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পরিবারের মাঝে মোবাইল ফোনের বেড়া

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০১৫
  • ৩০৭ বার

ডিজিটাল ডিভাইড। প্রযুক্তি যখন আসে তখন উন্নয়ন বক্তাদের মুখে এই কথাটি বেশ শোনা যেতো। বলা হতো, যারা প্রযুক্তি পাচ্ছে আর যারা পাচ্ছে না তাদের মধ্যে এক বিস্তর ফারাক তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সময় গড়িয়ে এই ডিজিটাল ডিভাইড আজ ভিন্ন অর্থ নিয়ে হাজির হয়েছে। এখন প্রযুক্তি পৌঁছেছে হাতে হাতে। কিন্তু তাতে বিভক্তি কমছে না। এই বিভক্তি একের থেকে অন্যের কম কিংবা বেশির নয়। এই বিভক্তি দূরত্বের। প্রযুক্তির ব্যবহার যতই বাড়ছে এই বিভক্তি তত বড় হচ্ছে। এই বিভক্তি সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের, স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর, বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর, সহকর্মীর সঙ্গে অপর সহকর্মীর। সমাজের পড়তে পড়তে মানুষের সম্পর্কের মাঝে বড় বেড়া হয়ে দাঁড়িয়ে এই প্রযুক্তি। যার অন্যতম প্রধানটিই হচ্ছে মোবাইল ফোন।

বিশেষজ্ঞরা এই বিভক্তি সৃষ্টির কতগুলো কারণ স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। প্রথমত তারা বলছেন, শিশুরা যখন প্রযুক্তিতে ভর করে, এসএমএস পাঠানো থেকে শুরু করে ভিডিও গেমস পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মেতে থাকে তখন তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় থাকে না। একটি গবেষণা দেখিয়েছে যখন কর্মজীবী বাবা-মা দিন শেষে কাজ থেকে ঘরে ফেরেন তখন তাদের সঙ্গে সময় কাটায় ৩০ শতাংশ শিশু, ২০ শতাংশ দেখা করে চলে যায় আর ৫০ শতাংশ বাবা-মা ফিরলো কি ফিরলো না তার ধার ধরে না। ব্যস্ত হয়ে থাকে নিজের মোবাইল ফোনে।

আরেকটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে প্রযুক্তি যখন স্কুলের কাজে ব্যবহৃত হতো তখন এর নেতিবাচক প্রভাব খুব একটা পড়েনি। কিন্তু যখন থেকে সামাজিক কারণে এর ব্যবহার বাড়তে শুরু করলো তখনই তা আঘাত হানলো পারিবারিক জীবনে। মজার ব্যাপার হচ্ছে শিশুদের অভিযোগ তাদের বাবা মায়েরা তাদের সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের ব্যাপারে একেবারেই সাহায্য করতে চায় না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে এখনকার শিশুরাই ডিজিটালে অনেক বেশি এগিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ওরা যখন ডিজিটাল নেটিভ হিসেবে সবকিছু বুঝে বসে আছে, বাবা মায়েরা ডিজিটাল ইমিগ্র্যান্টস হিসেবে তখনও বোঝার সংগ্রামে রত। ফলে যারা পিছিয়ে তাদের পক্ষে যারা এগিয়ে তাদের জিডিটাল ব্যবহার ও এর প্রভাব নিয়ে জ্ঞান দেওয়ার সুযোগ কম। অন্তত শিশুরা সেটাই মনে করে।

সময় পাল্টে গেছে। নতুন প্রযুক্তি শিশুদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে স্বাধীন হয়ে নিজের সামাজিক জীবনে অভ্যস্ত করে তুলছে। শিশুরাও বুঝতে পারে প্রযুক্তি তাদেরকে বাবা মায়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে কিন্তু এতে তাদের জীবনের ওপর বাবা-মায়ের খবরদারিওতো কমছে। অন্যদিকে বাবা-মার উদ্বেগ একটাই সন্তানের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য।

প্রযুক্তি যে প্রতি দিনকার জীবনের ওপরই প্রভাব ফেলছে তাতে সন্দেহ সামান্যই। মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে, সামাজিক নেটওয়ার্কিং মিডিয়ায় সময় কাটিয়ে, গান শুনে, পছন্দের ওয়েব সাইট ব্রাউজ করে, টেলিভিশনে মুভি দেখে সময় কাটছে শিশুদের। আর মোবাইল ফোন হওয়াতে এগুলো আর কেবল ঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, গাড়িতে, রেস্টুরেন্টে, স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে, এখানে সেখানে যেখানেই মোবাইল ফোনের সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ব্যস্ত হয়ে থাকছে তারা।

মজার আরেকটি বিষয়ও ঘটছে অনেক বাবা-মা সন্তানের সঙ্গে এই যোগাযোগ আর মুখোমুখি না রেখে তারাও সাইবার স্পেসকে বেছে নিয়েছেন। এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক নেটওয়ার্কে সন্তানকে ফ্রেন্ডলিস্টে যোগ করে নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। গবেষণা বলছে ৫০ শতাংশ বাবা মা ফেসবুকে সন্তানকে বন্ধু তালিকায় যোগ করে নিয়েছেন। কোন কোনও বাবা-মা সন্তানের ওপর নজরদারির জন্যই ফেসবুক ব্যবহার শুরু করেছেন। কেউ কেউ এও বলতে চাইছেন ফেসবুকের মাধ্যমেই সন্তানরা এখন তাদের সঙ্গে একটু বেশি ঘনিষ্ঠ।

কিন্তু শিশুদের এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া কি? একটি গবেষণা দেখিয়েছে অধিকাংশ শিশুই চায় না তাদের বাবা-মা বন্ধু তালিকায় থাকুক। বাবা-মায়ের এমন ভাবনাকে তারা ‘ফালতু’ বলেই জ্ঞান করে।

আর কেবল যে শিশুরাই তা নয়। বড়রাও কম যায় না। দূরত্ব বাড়াতে তারাও সমান দায়ী। কারণ এখন প্রযুক্তি তাদেরও গ্রাস করেছে। তারাও নিজের নিজের গ্যাজেট নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মোবাইল ফোনে কথা বলে, ই-মেইল চেক করে, টিভি দেখে তাদেরও সময় কাটে যে সময়টি তারা শিশুদের সঙ্গে খেলা করে বা গল্প করে কাটাতে পারতেন।

স্বাম-স্ত্রীর মধ্যেও বিভক্তি বাড়াচ্ছে এই প্রযুক্তি। দিন শেষে ঘরে ফিরেও দেখা যায় তাদের মধ্যে কথা-বার্তা কমই হয়। একই বিছানায় শুয়ে দুজন দুজনার নিজ নিজ ফোনের স্ক্রিনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যদের অন্যতম মিলিত হওয়ার স্থান সকালের নাস্তার কিংবা রাতের খাবারের টেবিল। সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন।

একটি গবেষণা দেখাচ্ছে অন্তত ৭০ শতাংশ শিশুই মনে করে তাদের বাবা-মায়েরা মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, কম্পউটারে মাত্রাতিরিক্ত সময় কাটান। আর শিশুরা এও মনে করে তাদের বাবা-মায়েরা এই প্রযুক্তি ব্যবহারে দ্বি-মুখী মনোভাব দেখাচ্ছেন। তাদের মতে বাবা-মায়েরা নিজেরা মোবাইল ডিভাইস, টেলিভিশন কম্পউটার নিয়ে পড়ে থাকেন অন্যদিকে শিশুরা নিলেই মেনে নিতে চান না।

ব্রিটেনের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে প্রতি পাঁচটি শিশুর একটির অভিযোগ তারা যখন কথা বলে তথন তাদের বাবা-মা নিজেদের ফোনে কথা বলা কিংবা ই-মেইলের কারণে মনযোগ দিয়ে কথাটি পর্যন্ত শোনেন না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের এই অভিযোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। শিশুরা যখন তখনই দেখতে পাচ্ছে তাদের বাবা যোগাযোগ প্রযুক্তির কোন না কোনও ডিভাইস নিয়ে ব্যস্ত।

ছোট কিংবা বড় সবাই এই একই দৌড়ে সামিল, বলেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এই যে বিভক্তি তার পরিণতি ভয়াবহ। যোগাযোগ যত কমবে পারিবারিক সম্পর্কগুলো ততই দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে শিশুরা পরিবারের প্রতি তাদের স্বস্তি, বিশ্বাস আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভালোবাসার বন্ধন থেকে বিচ্যুত হবে। কথা কম মানেই হচ্ছে বাবা-মা কম জানবেন তাদের সন্তানের জীবনে কি ঘটছে, আর ফলে সন্তানের ওপর তাদের প্রভাব কমে যাবে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও ভালোবাসার সম্পর্কে চির ধরবে। আর এভাবে একদিন পারিবারিক প্রথাই হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবারের মাঝে মোবাইল ফোনের বেড়া

আপডেট টাইম : ০৬:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০১৫

ডিজিটাল ডিভাইড। প্রযুক্তি যখন আসে তখন উন্নয়ন বক্তাদের মুখে এই কথাটি বেশ শোনা যেতো। বলা হতো, যারা প্রযুক্তি পাচ্ছে আর যারা পাচ্ছে না তাদের মধ্যে এক বিস্তর ফারাক তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সময় গড়িয়ে এই ডিজিটাল ডিভাইড আজ ভিন্ন অর্থ নিয়ে হাজির হয়েছে। এখন প্রযুক্তি পৌঁছেছে হাতে হাতে। কিন্তু তাতে বিভক্তি কমছে না। এই বিভক্তি একের থেকে অন্যের কম কিংবা বেশির নয়। এই বিভক্তি দূরত্বের। প্রযুক্তির ব্যবহার যতই বাড়ছে এই বিভক্তি তত বড় হচ্ছে। এই বিভক্তি সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের, স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর, বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর, সহকর্মীর সঙ্গে অপর সহকর্মীর। সমাজের পড়তে পড়তে মানুষের সম্পর্কের মাঝে বড় বেড়া হয়ে দাঁড়িয়ে এই প্রযুক্তি। যার অন্যতম প্রধানটিই হচ্ছে মোবাইল ফোন।

বিশেষজ্ঞরা এই বিভক্তি সৃষ্টির কতগুলো কারণ স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। প্রথমত তারা বলছেন, শিশুরা যখন প্রযুক্তিতে ভর করে, এসএমএস পাঠানো থেকে শুরু করে ভিডিও গেমস পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মেতে থাকে তখন তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় থাকে না। একটি গবেষণা দেখিয়েছে যখন কর্মজীবী বাবা-মা দিন শেষে কাজ থেকে ঘরে ফেরেন তখন তাদের সঙ্গে সময় কাটায় ৩০ শতাংশ শিশু, ২০ শতাংশ দেখা করে চলে যায় আর ৫০ শতাংশ বাবা-মা ফিরলো কি ফিরলো না তার ধার ধরে না। ব্যস্ত হয়ে থাকে নিজের মোবাইল ফোনে।

আরেকটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে প্রযুক্তি যখন স্কুলের কাজে ব্যবহৃত হতো তখন এর নেতিবাচক প্রভাব খুব একটা পড়েনি। কিন্তু যখন থেকে সামাজিক কারণে এর ব্যবহার বাড়তে শুরু করলো তখনই তা আঘাত হানলো পারিবারিক জীবনে। মজার ব্যাপার হচ্ছে শিশুদের অভিযোগ তাদের বাবা মায়েরা তাদের সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের ব্যাপারে একেবারেই সাহায্য করতে চায় না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে এখনকার শিশুরাই ডিজিটালে অনেক বেশি এগিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ওরা যখন ডিজিটাল নেটিভ হিসেবে সবকিছু বুঝে বসে আছে, বাবা মায়েরা ডিজিটাল ইমিগ্র্যান্টস হিসেবে তখনও বোঝার সংগ্রামে রত। ফলে যারা পিছিয়ে তাদের পক্ষে যারা এগিয়ে তাদের জিডিটাল ব্যবহার ও এর প্রভাব নিয়ে জ্ঞান দেওয়ার সুযোগ কম। অন্তত শিশুরা সেটাই মনে করে।

সময় পাল্টে গেছে। নতুন প্রযুক্তি শিশুদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে স্বাধীন হয়ে নিজের সামাজিক জীবনে অভ্যস্ত করে তুলছে। শিশুরাও বুঝতে পারে প্রযুক্তি তাদেরকে বাবা মায়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে কিন্তু এতে তাদের জীবনের ওপর বাবা-মায়ের খবরদারিওতো কমছে। অন্যদিকে বাবা-মার উদ্বেগ একটাই সন্তানের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য।

প্রযুক্তি যে প্রতি দিনকার জীবনের ওপরই প্রভাব ফেলছে তাতে সন্দেহ সামান্যই। মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে, সামাজিক নেটওয়ার্কিং মিডিয়ায় সময় কাটিয়ে, গান শুনে, পছন্দের ওয়েব সাইট ব্রাউজ করে, টেলিভিশনে মুভি দেখে সময় কাটছে শিশুদের। আর মোবাইল ফোন হওয়াতে এগুলো আর কেবল ঘরেই সীমাবদ্ধ নেই, গাড়িতে, রেস্টুরেন্টে, স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে, এখানে সেখানে যেখানেই মোবাইল ফোনের সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ব্যস্ত হয়ে থাকছে তারা।

মজার আরেকটি বিষয়ও ঘটছে অনেক বাবা-মা সন্তানের সঙ্গে এই যোগাযোগ আর মুখোমুখি না রেখে তারাও সাইবার স্পেসকে বেছে নিয়েছেন। এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক নেটওয়ার্কে সন্তানকে ফ্রেন্ডলিস্টে যোগ করে নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। গবেষণা বলছে ৫০ শতাংশ বাবা মা ফেসবুকে সন্তানকে বন্ধু তালিকায় যোগ করে নিয়েছেন। কোন কোনও বাবা-মা সন্তানের ওপর নজরদারির জন্যই ফেসবুক ব্যবহার শুরু করেছেন। কেউ কেউ এও বলতে চাইছেন ফেসবুকের মাধ্যমেই সন্তানরা এখন তাদের সঙ্গে একটু বেশি ঘনিষ্ঠ।

কিন্তু শিশুদের এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া কি? একটি গবেষণা দেখিয়েছে অধিকাংশ শিশুই চায় না তাদের বাবা-মা বন্ধু তালিকায় থাকুক। বাবা-মায়ের এমন ভাবনাকে তারা ‘ফালতু’ বলেই জ্ঞান করে।

আর কেবল যে শিশুরাই তা নয়। বড়রাও কম যায় না। দূরত্ব বাড়াতে তারাও সমান দায়ী। কারণ এখন প্রযুক্তি তাদেরও গ্রাস করেছে। তারাও নিজের নিজের গ্যাজেট নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মোবাইল ফোনে কথা বলে, ই-মেইল চেক করে, টিভি দেখে তাদেরও সময় কাটে যে সময়টি তারা শিশুদের সঙ্গে খেলা করে বা গল্প করে কাটাতে পারতেন।

স্বাম-স্ত্রীর মধ্যেও বিভক্তি বাড়াচ্ছে এই প্রযুক্তি। দিন শেষে ঘরে ফিরেও দেখা যায় তাদের মধ্যে কথা-বার্তা কমই হয়। একই বিছানায় শুয়ে দুজন দুজনার নিজ নিজ ফোনের স্ক্রিনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যদের অন্যতম মিলিত হওয়ার স্থান সকালের নাস্তার কিংবা রাতের খাবারের টেবিল। সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন।

একটি গবেষণা দেখাচ্ছে অন্তত ৭০ শতাংশ শিশুই মনে করে তাদের বাবা-মায়েরা মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, কম্পউটারে মাত্রাতিরিক্ত সময় কাটান। আর শিশুরা এও মনে করে তাদের বাবা-মায়েরা এই প্রযুক্তি ব্যবহারে দ্বি-মুখী মনোভাব দেখাচ্ছেন। তাদের মতে বাবা-মায়েরা নিজেরা মোবাইল ডিভাইস, টেলিভিশন কম্পউটার নিয়ে পড়ে থাকেন অন্যদিকে শিশুরা নিলেই মেনে নিতে চান না।

ব্রিটেনের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে প্রতি পাঁচটি শিশুর একটির অভিযোগ তারা যখন কথা বলে তথন তাদের বাবা-মা নিজেদের ফোনে কথা বলা কিংবা ই-মেইলের কারণে মনযোগ দিয়ে কথাটি পর্যন্ত শোনেন না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের এই অভিযোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। শিশুরা যখন তখনই দেখতে পাচ্ছে তাদের বাবা যোগাযোগ প্রযুক্তির কোন না কোনও ডিভাইস নিয়ে ব্যস্ত।

ছোট কিংবা বড় সবাই এই একই দৌড়ে সামিল, বলেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এই যে বিভক্তি তার পরিণতি ভয়াবহ। যোগাযোগ যত কমবে পারিবারিক সম্পর্কগুলো ততই দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে শিশুরা পরিবারের প্রতি তাদের স্বস্তি, বিশ্বাস আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভালোবাসার বন্ধন থেকে বিচ্যুত হবে। কথা কম মানেই হচ্ছে বাবা-মা কম জানবেন তাদের সন্তানের জীবনে কি ঘটছে, আর ফলে সন্তানের ওপর তাদের প্রভাব কমে যাবে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও ভালোবাসার সম্পর্কে চির ধরবে। আর এভাবে একদিন পারিবারিক প্রথাই হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।