ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসায় ভারতীয় গণমাধ্যম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে মঈন খানকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন মির্জা আব্বাস সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহায়তায় নতুন গতির আশা জাপানের সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ইমামদের সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারা রুমিকে গ্রেপ্তার করতে চায় পুলিশ এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর সরাইলের ঘটনায় মামলা হলে আমাকেই যেন প্রধান আসামি করা হয় ১১ জেলের কাছ থেকে উদ্ধার ৬০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ

পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্র চা চাষে নীরব বিপ্লব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০১৫
  • ৬৩৯ বার

পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটের পর দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে পঞ্চগড়। সমতল ভূমিতে চা চাষ নিরবে বিপ্লব ঘটিয়েছে। চায়ের মান আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় ইতিমধ্যে পঞ্চগড়ের চা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে।

 

খুব বেশি দিনের কথা নয়। পঞ্চগড় জেলার সদর, তেতুঁলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলার কয়েক হাজার জমি পতিত পড়ে থাকত। ব্যবহৃত হত গোচারণ ভুমি হিসেবে। সেই পতিত জমিতে চাষ হচ্ছে এখন উন্নত মানের চা।

 

একবার চায়ের চারা রোপণ করে ৩০বছর ধরে এর সুফল পাওয়া যাবে। তাই চাষীরা অন্যান্য আবাদ না করে চা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। দিনদিন বাড়ছে চা চাষের পরিধি। এই চা প্রক্রিয়াজাত করতে বেসরকারিভাবে ছয়টি ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়েছে। ফ্যাক্টরি মালিকরা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে চা পাতা ক্রয় করায় নগদ অর্থ পাচ্ছেন চাষিরা।

 

স্থানীয় চা বোর্ড ক্ষুদ্র চা চাষি ও বাগান মালিকদের ব্যাংক ঋণ, কারিগরী প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা করায় চাষিরা চা চাষে আস্থা পেয়েছেন। এ ছাড়া চা বোর্ডের ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্লান ফর টি ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ ভিশন-২০২১’ প্রকপ্প গ্রহণ করায় চাষিদের চা উৎপাদনের আগ্রহ বেড়েছে।

 

সোনাপাতিলা গ্রামের স্মল হোল্ডার মতিয়ার রহমান বলেন, ‘দুই একর থেকে বর্তমানে ৫০ একর জমিতে চা আবাদ করছি। ভবিষৎতে এর পরিধি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চা চাষ অনেক লাভজনক ফসল।’ একই কথা বললেন, ক্ষুদ্র চা চাষি নোমান ও বাবুল মাস্টার। তারা জানান, চা চাষ লাভজনক হওয়ায় তারা চা চাষ আরো সম্প্রসারণ করেছেন।

 

তেঁতুলিয়া চা বাগানের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, ‘চা-চাষ করে লাভবান হওয়া আরো জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণ করছি।’

 

পঞ্চগড় চা বোর্ডের সহকারী উন্নয়ন কর্মকর্তা জায়েদ ইমাম সিদ্দিকী জানান, জেলায় ২০টি টি এস্টেট, ১৫টি মাঝারি ও পাঁচশ ক্ষুদ্র চা বাগান মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার চারশ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে।

 

এসব বাগান থেকে ২০১৪ সালে ১৪ লাখ ২০ হাজার ৭৬৭ কেজি টি উৎপাদন হয়েছে। চা চাষ লাভজনক হওয়ায় চা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। চলতি বছর প্রায় ১৬ লাখ কেজি চা উৎপাদনের আশা প্রকাশ করেছেন এই কর্মকর্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসায় ভারতীয় গণমাধ্যম

পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্র চা চাষে নীরব বিপ্লব

আপডেট টাইম : ০৫:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০১৫

পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটের পর দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে পঞ্চগড়। সমতল ভূমিতে চা চাষ নিরবে বিপ্লব ঘটিয়েছে। চায়ের মান আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় ইতিমধ্যে পঞ্চগড়ের চা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে।

 

খুব বেশি দিনের কথা নয়। পঞ্চগড় জেলার সদর, তেতুঁলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলার কয়েক হাজার জমি পতিত পড়ে থাকত। ব্যবহৃত হত গোচারণ ভুমি হিসেবে। সেই পতিত জমিতে চাষ হচ্ছে এখন উন্নত মানের চা।

 

একবার চায়ের চারা রোপণ করে ৩০বছর ধরে এর সুফল পাওয়া যাবে। তাই চাষীরা অন্যান্য আবাদ না করে চা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। দিনদিন বাড়ছে চা চাষের পরিধি। এই চা প্রক্রিয়াজাত করতে বেসরকারিভাবে ছয়টি ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়েছে। ফ্যাক্টরি মালিকরা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে চা পাতা ক্রয় করায় নগদ অর্থ পাচ্ছেন চাষিরা।

 

স্থানীয় চা বোর্ড ক্ষুদ্র চা চাষি ও বাগান মালিকদের ব্যাংক ঋণ, কারিগরী প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা করায় চাষিরা চা চাষে আস্থা পেয়েছেন। এ ছাড়া চা বোর্ডের ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্লান ফর টি ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ ভিশন-২০২১’ প্রকপ্প গ্রহণ করায় চাষিদের চা উৎপাদনের আগ্রহ বেড়েছে।

 

সোনাপাতিলা গ্রামের স্মল হোল্ডার মতিয়ার রহমান বলেন, ‘দুই একর থেকে বর্তমানে ৫০ একর জমিতে চা আবাদ করছি। ভবিষৎতে এর পরিধি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চা চাষ অনেক লাভজনক ফসল।’ একই কথা বললেন, ক্ষুদ্র চা চাষি নোমান ও বাবুল মাস্টার। তারা জানান, চা চাষ লাভজনক হওয়ায় তারা চা চাষ আরো সম্প্রসারণ করেছেন।

 

তেঁতুলিয়া চা বাগানের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, ‘চা-চাষ করে লাভবান হওয়া আরো জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণ করছি।’

 

পঞ্চগড় চা বোর্ডের সহকারী উন্নয়ন কর্মকর্তা জায়েদ ইমাম সিদ্দিকী জানান, জেলায় ২০টি টি এস্টেট, ১৫টি মাঝারি ও পাঁচশ ক্ষুদ্র চা বাগান মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার চারশ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে।

 

এসব বাগান থেকে ২০১৪ সালে ১৪ লাখ ২০ হাজার ৭৬৭ কেজি টি উৎপাদন হয়েছে। চা চাষ লাভজনক হওয়ায় চা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। চলতি বছর প্রায় ১৬ লাখ কেজি চা উৎপাদনের আশা প্রকাশ করেছেন এই কর্মকর্তা।